logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

‘বিএনপিকে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৮

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দলটির রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। ধাপে ধাপে নিজের একক প্রচেষ্টা, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি রাজনীতিতে নিজেকে শক্তিশালী করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

বিএনপির এ নেতা এলাকায় নিজের জনপ্রিয়তা দিয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপি সরকারের চারবার মন্ত্রী (মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, শ্রম ও মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিএনপির অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ও আস্থার প্রতীক। সৎ, বিনয়ী এবং উদারপন্থি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ আল নোমান সবশেষ গত জোট সরকারের আমলেও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদান রেখেছেন চট্টগ্রামের এ সন্তান। এ নেতা বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবন অনেক অজানা তথ্য জানালেন এ নেতা।

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : দেশে একটা বাকশালী শাসন চলছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনও দেশে আছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেটা চলছে। দেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযু্দ্ধের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, অর্থনৈতিক মুক্তি হয়েছিল সবকিছু ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে বর্তমান বাকশালী সরকার। এ সরকারের আমলে সংবিধানে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। আগের সংবিধানের মূল ভিত্তিগুলো এখন আর নেই।

তিনি বলেন, এ বছর হলো একটি নির্বাচনের বছর। সবাই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না এটাও মানুষ বুঝতে পারছে। তার কারণ সরকার কোনোভাবেই, কোনো অবস্থা থেকেই তাদের যে স্বৈরাচারী কার্যক্রম, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যে আক্রমণাত্মক কার্যক্রম এগুলো থেকে সরে আসছে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি সংসদীয় দেশের রাজনীতিতে ভোট হচ্ছে বুলেটের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। আর সেই ভোট প্রদানে জনগণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে বঞ্চিত এবং এখনও জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর বারবার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে রাজনীতির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেবে।

'এই রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে গণতান্ত্রিক শক্তি যথেষ্টভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এখনও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ নয়। আর ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায় এর দুবর্লতাগুলো সরকারি দল আওয়ামী লীগ ব্যবহার করছে।'

'আমরা মনে করি- দেশে অবশ্যই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু এ জন্য রাস্তার আন্দোলন প্রয়োজন। রাস্তার আন্দোলন ছাড়া বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে তা দিয়ে এ সরকারের কাছে থেকে গণতন্ত্র কেড়ে নেয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।'

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কি যথেষ্ট?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : বিএনপির চলমান যে আন্দোলন এটা একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন। এ আন্দোলন ছোট না। এ আন্দোলন করতে গিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের কারাগারে যেতে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যেদিন কারাগারে নেয়া হয় সেদিনও আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছে। মামলা হামলার শিকার হয়েছে। সেদিক সরকারের বিরাট একটা প্রতিরোধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল, যুবদলসহ আমাদের সব পর্যায়ের নেতারা সেদিন গিয়েছিল। কাজেই একটা নিরস্ত্র মানুষ শসস্ত্র মানুষের সঙ্গে লড়াই করতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।

'আন্দোলন যখন শেষ পর্যায়ে যাবে যেমন- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, আইয়্যুববিরোধী আন্দোলনে আমরা দেখেছি- সেগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু এখন সরকার কৌশল গ্রহণ করছে যে, এ মুহূর্তে বিরোধী দল তীব্র আন্দোলন করতে পারে ভেবে তারা এ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী আন্দোলন, রাজনীতির বাইরের আন্দোলন প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য এ মুহূর্তে বিএনপিকে অত্যন্ত কৌশলে অগ্রসর হতে হচ্ছে। আন্দোলনও করতে হচ্ছে আবার সরকার যেন এটাকে সন্ত্রাসী আন্দোলন প্রমাণ করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে। তাই কৌশলগতভাবে বিএনপি আন্দোলন করছে। তবে এ আন্দোলন কোনো দুর্বার আন্দোলন নয়। জনগণের মধ্যে আন্দোলনের যৌক্তিকতাটা পৌঁছে দিচ্ছে।'

'শুধু বিএনপিকে নয় সরকার এখন জনগণের মুখমুখি হয়ে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে শুনছি- যারা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।'

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : চলমান নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কি?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি অজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান। এই অজ্ঞবহ প্রতিষ্ঠান দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই প্রধান বিষয় হওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনকে পুর্নগঠন করা।

'গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে জনস্রোত দেখে সরকার গাজীপুর বন্ধ করে দিয়ে খুলনা নির্বাচনের উপর উলঙ্গ হস্তক্ষেপ করে কেড়ে নিয়েছে। জনগণ থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে।'

'একটি ব্যক্তি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। সে জয় পেল কি পেল না সেটা বড় বিষয় না, বড় বিষয় হলো সেখানকার জনগণের ভোটাধিকারে যে বাধা। সে বাধাটা এমন নির্লজ্জভাবে দেয়া হয়েছে, দখল করে নেয়া হয়েছে- এসব নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায় যে, গাজীপুরের নির্বাচনেও সরকারের চিন্তাভাবনা একই ছিল। এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- যে দেশ একবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে সেদেশ যদি আবার ৭১-এর আগে আইয়্যুব খানের শাসনের দিকে চলে যায় তাহলে এ দেশের ভবিষ্যত কি এ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলমান সংকট সমাধান হবে কীভাবে?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : এ দেশে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে কোনো পরিবর্তন সহজভাবে হয়নি। এখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় এগিয়ে যেতে না পারলে পরিস্থিতি কি রুপ ধারন করবে। নতুন একটা প্রেক্ষাপট তৈরি হবে। যে প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধের শক্তি আওয়ামী লীগের বাইরেও আছে। দেশি-বিদেশি শক্তিকে তারা কাজে লাগাবে।

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে- এ পরিস্থিতিতে বিএনপি কী জিয়া পরিবার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : আমাদের আন্দোলন আমরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এখন পরিস্থিতি হচ্ছে- এখনও পর্যন্ত ম্যাডাম মুক্ত হননি। তবে মুক্ত করার চেষ্টা থাকবে এবং শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক যে সিদ্ধান্ত সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল চিন্তাভাবনা করবে। কলাকৌশল নির্ধারণ করবে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যদি এরকমই হয় তাহলে বিএনপিকে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কী কৌশল সেটা সময়ই বলে দেবে।

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিএনপির মধ্যে কোনো দলীয় কোন্দল আছে কি?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এত বড় একটা রাজনৈতিক দলে কোন্দল থাকাটা তো অস্বাভাবিক না। তবে সেই কোন্দল যত না রাজনৈতিক তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত। এ ধরনের রাজনৈতিক দলে ব্যক্তি সব সময় তার নিজের অবস্থানকে আরো একধাপ সামনের দিকে চিন্তা করে। এ সমস্যা বিএনপির বিষয় না বা আওয়ামী লীগের বিষয় না। তবে বিগত দিনের পর্যালোচনায় বলা যায়- বিএনপি এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

'বিএনপির এমন কোনো রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না, যে বিরোধের কারণে বিএনপি সংকটে পড়বে। বিএনপিতে যে ব্যক্তি ব্যক্তিতে রেষারেষি এটা ম্যাডাম যখন বাইরে ছিলেন খুব দৃশ্যত না দেখা গেছেন। এখন বিএনপি সর্বক্ষেত্রেই এক ও অভিন্ন। কারণ আমাদের নেত্রী কারগারে, যা সিদ্ধান্ত সেটা নেত্রীর উপরই নির্ভর করছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম