logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

গলার কাঁটা জামায়াত!

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

জামায়াতে ইসলামী, বিশদলীয় জোটের অন্যতম শরিক। দলটির ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ অবস্থান নিয়ে শক্ত আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে দেশে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে দলটির প্রথম সারির প্রায় সব নেতারই সাজা হয়েছে। বেশ কয়েকজনের সর্বোচ্চ সাজা- ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে।

তবে কঠিন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দলটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। তারা দেশের প্রায় সব নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। কিছু কিছু স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থীও বিজয়লাভ করছেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের প্রতিক্রিয়াশীল অংশের মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। ওই সময়ে মুক্তিযুদ্ধপক্ষের নেতারা অবশ্য এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীও হন। এ নিয়েও তখন বিস্তর সমালোচনা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে জোটের প্রধান দল বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষসহ খোদ বিএনপির অনেকেই মনে করছেন এই জামায়াত এখন বিএনপির গলার কাঁটা। ২০০৮ সালের পর থেকে নানা দেশের ভেতরে ও বাইরে এ দলটিকে নিয়ে ব্যাপক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে বিএনপিকে।

তবে এবারের দ্বন্দ্ব নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে।

দলীয় প্রার্থী ঘোষণার আগে গত ২৭ জুন বিশদলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিও ছিলেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জোটগতভাবে সিলেটে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। পরে সেখানে বিএনপি জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করলেও জামায়াত নিজস্বভাবে তাদের দল থেকে প্রার্থী ঘোষণা করে। ফলে এ অবস্থানের মধ্য দিয়েই বিএনপির সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয় জামায়াতের।

জানা যায়, জামায়াতের দলীয় প্রার্থী সিলেট জেলা আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মনোনয়ন মেনে নেয়নি বিএনপি। আর জামায়াতও তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি। এ নিয়ে সিলেট সিটি ভোটে এক ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি। এ ছাড়া বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমও মাঠে। তবে গত মঙ্গলবার তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এসব কারণে সিলেটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আরিফুল হকও রয়েছেন অস্বস্তিতে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেটে জামায়াত যদি নিজস্বভাবে অর্থাৎ তাদের প্রার্থী নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকে তাহলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ের পথ সহজ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বলেন, জামায়াতের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। যেখানে বিএনপিই বিশাল ভোটব্যাংক নিয়ে এ সরকারের আমলে প্রার্থী দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না’ সেখানে জামায়াতের তো প্রশ্নই আসে না।

জানা যায়, বিশদলীয় জোটের ওই বৈঠকে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম জানান, সিলেটে মেয়র প্রার্থী দেয়ার দাবি বিএনপি মহাসচিবকে জানানো হয়েছে। দেখি তারা কী করেন। সূত্র জানায়, এ সময় তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জোটের অন্য শরিক দলগুলো। এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীই জোটের প্রার্থী। এর বাইরে প্রার্থী করা হলে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে।

সূত্র আরও জানায়, শাহাদাত হোসেন সেলিম জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রতি জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রার্থী না দেয়ার জন্য আহ্বান জানান। কিছুক্ষণ পরই দলের জরুরি বৈঠকের কথা বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম। এরপর তারা দলীয় প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেন।
এদিকে সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন।

জানা যায়, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের এই সময়ে জামায়াতকে পাশে পাচ্ছে না বিএনপি। জোটের অন্য শরিকদের সব কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেলেও জামায়াতের প্রতিনিধিদে তেমন দেখা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, এই সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জোট বা বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে জামায়াতকে তেমন শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে না।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, চার বছর ধরে জামায়াত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অনায়াসে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, এটাকে ভালো চোখে দেখছে না জোটের অন্য শরিক দলগুলো।

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক থাকুক- এটা ভারতসহ পশ্চিমা দেশগুলো চায় না। ভারতের ধারণা, জামায়ত পাকিস্তানপন্থি দল। সম্প্রতি ভারত সফরে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বৈঠকে জামায়াত প্রসঙ্গটি উঠে আসে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি