logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তূপ

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৮

রাজধানীর যানজট কমাতে ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে ফ্লাইওভার। তবে এগুলো নির্মাণ করেই যেন দায়িত্ব শেষ কর্তৃপক্ষের! কেননা নান্দনিক এসব ফ্লাইওভারের নিচে খালি জায়গা ব্যবহার হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা রাখার স্থান হিসেবে।

রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচের অংশ যেন এখন ময়লার ভাগার। এতে করে ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ রেলগেট হয়ে আবুল হোটেল পর্যন্ত পুরোটা ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার স্তুূপ। চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়াও ফ্লাইওভারের নিচের এ অংশ মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

ফ্লাইওভারের আশপাশের ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, নিয়মিতই কে বা কারা এই ফ্লাইওভারের নিচে এসে ময়লা ফেলে। ময়লা দিনকে দিন বাড়ছেই। তবে পরিষ্কার করার কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। ফ্লাইওভারটি সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর থেকেই ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে। দিনে দিনে ময়লার স্তূপ জমা হলেও পরিষ্কার হচ্ছে না।

ফ্লাইওভারের পাশের রাস্তার ওষুধ দোকান মালিক হানিফ মিয়া টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দিনের পর দিন ময়লা ফেলছে কিন্তু সিটি করপোরেশন পরিষ্কার করছে না। ময়লা থেকে দুর্গন্ধ আসে। এ এলাকায় দুর্গন্ধে টেকা দায়।

আরেক দোকান মালিক মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার এতো সুন্দর একটা ফ্লাইওভার তৈরি করেছে অথচ নির্মাণের পর আর কোনো খেয়াল খবর নেই। তদারকি তো দূরের কথা দেখতেও আসে না। কে ময়লা ফেলছে, কে পরিষ্কার করবে কোনো খবর নেই। ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে কেউ গেলে দুর্গন্ধে নাক ডাকতে হয়।

ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার এমন দৃশ্যের প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্য সব রকমের কাজ করা হয়। আগামীতে ফ্লাইওভারের নিচে পরিষ্কার রেখে নান্দনিক করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক খন্দকার মিল্লাত ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই রাজধানীর ময়লা পরিষ্কার করছি। আশা করছি, ফ্লাইওভারের নিচের ময়লাগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনবল ও গাড়ি পরিচালনা করতে কার্যকর মনিটরিংও হচ্ছে না। এলাকাভিত্তিক বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ব্যবসা শুরু করেছে। এ জন্য কর্মচারীরা উপরের কর্তাব্যক্তির আদেশ-নিষেধও খুব একটা আমলে নেন না।

হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, আবর্জনার ছড়াছড়িতে প্রাণঘাতী টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগসহ হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া এমনকি বাড়ছে এইডসের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি। রাজধানীর প্রতিটা রাস্তায় ময়লার স্তূপ তৈরি হওয়ায় কোমলমতি শিশুদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ মিশে যাচ্ছে। যার ফলে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন অসুখে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম