logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

আগের অবস্থানেই আওয়ামী লীগ!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিএনপির সহায়ক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো দাবিতেই ছাড় দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নেতাদের।

সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরিয়ে আনবে না আওয়ামী লীগ। বর্তমানে সংবিধানে যে সরকার ব্যবস্থা নির্ধারিত রয়েছে এ ব্যবস্থার অধীনেই বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এ সরকার ব্যবস্থাকে না মেনে বিএনপি আগামী নির্বাচন যদি বর্জনও করে তবুও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুল সরবে না আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে বিএনপি না আসলে সরকার বা আওয়ামী লীগের কিছুই করার থাকবে না।

গত রোববার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সদ্যসমাপ্ত নেপাল সফর উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলো না এলো, এটা দেখার বিষয় সরকারের নয়।’

এদিকে বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সংলাপের কথা বলছে। তবে নির্বাচন নিয়ে সংলাপ আয়োজন ও তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগসহ বিএনপির বেশ কিছু শর্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। ফোনও করেছিলাম, আপনারা জানেন- তারা ফোন ধরেননি (খালেদা জিয়া)। খালেদা জিয়ার ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) যখন মারা গেল, তখন গেলাম, মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের সঙ্গে আমি আর আলোচনায় বসব না। আমারও আত্মসম্মানবোধ আছে। সে আমি ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি। এখন যে যা-ই বলুক, তাদের সঙ্গে আমি অন্তত বসব না।’

সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলে আসছে। তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছে। আবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির কথাও বলছে। তবে বিএনপির সে দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সংসদীয় গণতন্ত্রে যে নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বীকৃত সেটাকেই অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তাই সংবিধানের বাইরে কারো কোনো দাবিতে ছাড় দেয়া হবে না বলে দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান মেনেই নির্বাচন করবে। সে নির্বাচনে কে আসলো কে আসলো না- তা দেখার সময় নেই। সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ তার সিদ্ধান্তে অটল।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। তখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি তোলে বিএনপি। দাবি না মানায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনেও বিএনপি সহায়ক সরকারের দাবি তুলেছে। তবে বিএনপির এ দাবি সব সময়ই নাকচ করে আসছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ওই নেতারা জানান, নির্বাচনের সময় সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারই দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার রয়েছে, সেই সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। যে সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের দাবি যতই করুক, তা মানা হবে না। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত মানা হবে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপি যে দাবিই করুক না কেন সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না। আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের অধীনে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি