logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

পারবে কি বিএনপি?

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দীর্ঘ ১১ বছর ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত বিএনপি। এগারো বছরে হারিয়েছে অনেক কিছুই। দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস থেকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করছেন।দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান মামলার আসামি এবং অসুস্থ্যতার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর থেকেই লন্ডনে প্রবাসজীবন যাপন করছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারির ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে ৫০ হাজার ৭৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯৪৭ জন নেতাকর্মী এখন কারাগারে আছেন।

নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে ৭টি বিভাগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫২৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ২৪ হাজার ৭০৭ জন। গ্রেফতারের সংখ্যা ১ হাজার ৫১৯ জন। গুম হয়েছে একজন, খুন হয়েছে একজন।

বিএনপির দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা হয়েছে। দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২১টি। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮৮টি মামলা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৩টি, মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে ৯টি, তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪টি, প্রয়াত এম কে আনোয়ারের বিরুদ্ধে ৩৪টি, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৫২টি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৩৭টি, নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ৭টি, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৯টি, সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা বিচারাধীন।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ২৪ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মোট ২৯৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি মামলা হয়েছে আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদের ২১ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩০৮টি। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে বেশি মামলা হয়েছে বরকত উল্লাহ বুলুর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ৬১টি মামলা হয়েছে। আরেক ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে মোট ১৭টি।

এত মামলা, হয়রানি, কারাবরণ সত্বেও আগামী নির্বাচনে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে কতটুকু এগিয়ে বিএনপি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কিন্তু দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য যা প্রয়োজন তা থেকে পিছিয়েছে অনেকটা। ক্ষমতায় আসতে হলে আবারো সামনের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। সময় ফুরাবার আগেই নিজেদের গুছিয়ে দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। নতুবা এ ক্ষমতাহীনতা আরও দীর্ঘতর হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি যাবে বিএনপি? এখনো কেন্দ্র থেকে তেমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। কেন্দ্রের প্রভাব পড়েছে মাঠপর্যায়েও। সরকার দলের হামলা-মামলা ও শোষণ নিপীড়নের অভিযোগ করে রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান করছেন দলের নেতারা। বলতে গেলে গা বাঁচিয়ে চলা, যেন- 'ধরি মাছ, না ছুঁই পানি'। ফলে আগামী নির্বাচন বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো অনিশ্চয়তায় দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির জেলা কিংবা হাইকমান্ড সর্ব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যেন দিশেহারা। একদিকে তাদের নেত্রী কারাগারে অবস্থান করছেন, অন্যদিকে নির্বাচন প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

দলে যে এখন সিদ্ধান্ত দেয়ার কেউ নেই, সেটা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বললেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। সঙ্গে মানসিক অবস্থাও। এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো তার অবস্থা নেই। ফলে তার কাছ থেকে সঠিক দিক-নির্দেশনা এখন চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না। কারাবাসের মধ্য দিয়ে তাকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

আবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নির্দেশনা দিলেও তা দলের নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। শুধুমাত্র গুটি কয়েক নেতার সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন তিনি। এতে করে দলের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন একটি অংশ। দলের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই বলে নেতারা প্রচার করলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা বড় আকারে প্রকাশ পেতে পারে। তখন পরিস্থিতি মোকাবেলা দলটির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। তৈরি হতে পারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

এত সমস্যার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারা বলছেন, বিএনপি পেছনে হটবার দল নয়। সংগ্রাম করে, মানুষের অধিকার আদায় করে, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি আদায়ে সোচ্চার থাকবেন তারা।

এ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দেশ এখন গণতন্ত্রশূন্য। মানুষের ভোটের অধিকার নেই, ভোটকেন্দ্রে মানুষ ভোট দিতে পারে না। এভাবে চলতে পারে না। এর সমাধান দেশের মানুষই করবে। মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে সরকারের সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে এ সরকার ভোট তো দূরের কথা দেশ ছেড়ে পালাবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে (অব.) মাহাবুবুর রহমান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য সব রকম ত্যাগ স্বীকার করবে। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আবারও সরকার গঠন করবে বিএনপি। এখন যত বাধা আছে সব বাধাকে অতিক্রম করেই ক্ষমতায় যাবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দল বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, বর্তমান সময়ে যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, সেটা নিরসন করতে হলে যারা শীর্ষ পদে আছেন তাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আর এ উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন ক্ষমতাসীন দলসহ বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেবে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম