logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

নেত্রীর নজরে আ.লীগের যেসব তরুণ প্রার্থী!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণ থাকছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকায় ওঠে এসেছে নতুন ও তরুণদের নাম। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড চাচ্ছে তরুণরা এগিয়ে আসুক রাজনীতির মূল ধারায় এবং পরবর্তী রাজনীতির হাল ধরুক।

পরবর্তী রাজনীতির কথা চিন্তা করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকায় নতুন ও তরুণদের স্থান দিতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। সেই তরুণ নেতৃবৃন্দর মধ্যে বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম রয়েছে।

এলাকায় তরুণদের জনপ্রিয়তা, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক, উন্নয়নের আগ্রহ, কাজের গতি, দলের জন্য ত্যাগ সব বিবেচনায় নিয়ে এসব তরুণকে মনোননয় দেয়ার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলটির বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এবারের নির্বাচনে জয় তুলে আনা সহজ হবে না জেনেই দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন পেতে হলে প্রত্যাশীদের বিশেষ ৬টি গুণ থাকতে হবে। ৬টি গুণ আছে কিনা তা যাচাই করবে দলটি। মনোনয়নপ্রত্যাশীর শুধু অর্থবিত্ত থাকলেই হবে না, তাকে এলাকায় জনপ্রিয় ও জনসম্পৃক্ত হতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক। থাকতে হবে ব্যক্তিগত ইমেজ, দলের জন্য ত্যাগী হওয়া চাই, তাকে হতে হবে শিক্ষিত ও ভদ্র।

দলীয় সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে- এটা অনেকটাই নিশ্চিত। সে কারণে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে প্রতিটি সংসদীয় আসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেবে ক্ষমতাসীন দলটি। এ জন্য বর্তমান এমপি বা মন্ত্রিপরিষদে থাকা অনেক নেতাই মনোনয়ন থেকে বাদ পড়বেন।

বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এলাকার খোঁজ-খবর রাখেননি, ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করেছেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দল ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, তাদের এবার নৌকায় তোলা হবে না। তাই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এসব আসনে জনপ্রিয় মুখ খুঁজছেন। এরই মধ্যে কয়েক দফা জরিপ সম্পন্ন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব একটা টিমের বিভিন্ন সংস্থার এবং দলীয় জরিপে যার প্লাস পয়েন্টের পরিমাণ বেশি তিনিই ‘যোগ্য’। তাকেই দলীয় টিকিট দেয়া হবে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চ্যালেঞ্জের নির্বাচনে মুখ দেখে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক দফা দলীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও দলের সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কারও মুখ দেখে এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না। একইসঙ্গে কাউকে পাস করানোর দায়িত্ব তিনি নেবেন না। নিজ যোগ্যতায় প্রার্থীকে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। এ জন্য তিনি নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নিজ নিজ সংসদীয় আসনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে মনোনয়নপ্রত্যাশী নতুন ও তরুণদের নজর এখন এলাকার দিকে।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অনেকে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। মনোনয়নের দৌড়ে পুরনো প্রার্থীদের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগ কিংবা অঙ্গ সংগঠনের নেতাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০জন প্রার্থীর পরির্বতন হবে। এ আসনগুলোতে তরুণদের স্থান দেয়া হবে। বয়স্ক প্রার্থীদের নাম বারবার আসলেও এবার আগামী রাজনীতির নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য তরুণদের বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে হওয়ায় ওই সময়ে ৫০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হয় কিন্তু এবার প্রায় ১০০-এর বেশি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, বয়সের কারণে যারা বিভিন্ন রোগ-শোকে ভুগছেন তারাও এবার দলের মনোনয়ন পাবেন না।

মনোনয়নপ্রত্যাশী আলোচিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল (পটুয়াখালী-২), সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪) ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় (কক্সবাজার ৩), কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫), আাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন (নেত্রকোনা-৫), আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ (সিলেট-১), সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১-এর ঢাকা বিভাগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যরিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী (কুমিল্লা-৫)।

আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু (সিরাজগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান স্বপন (সিরাজগঞ্জ-৫)। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন (গাইবান্ধার-৫), ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এ এইচ এম মাসুদ দুলাল (নারায়ণগঞ্জ-৩), ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান (বরগুনা-১), আহম্মদ আলী মোল্লা (নাটোর-৪)।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান দিপু (নারায়ণগঞ্জ-৫), ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি সাজ্জাদ হোসেন শাহীন (ময়মনসিংহ-৪), ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩), ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১)।

ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহে আলম (বরিশাল-২), সাবেক সভাপতি মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না (পিরোজপুর-২), স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা (পিরোজপুর-১), সাবেক ছাত্রনেতা ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান (পিরোজপুর-৩)।

নারী সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী (নড়াইল-১), মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১),শফি আহমেদ (নেত্রকোনা-৪), অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫)।

ঢাকার আসনগুলোতে নতুনদের মধ্যে আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন-

মনিরুজ্জামান তরুণ (ঢাকা-১), আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল (ঢাকা-৫), দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক (ঢাকা-৭), যুবলীগের ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট (ঢাকা-৮), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন (ঢাকা-১৪), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যেকোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান (ঢাকা-১৩)। ঢাকা-৬ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, ঢাকা-১৫ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, ঢাকা-২ আসনে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের আহবায়ক শাহিন আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-২), নারী সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা (চাঁদপুর-৫), মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী (ফেনী-৩)। এমদাদুল হক (ঠাকুরগাঁও-৩), ইশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন (ময়মনসিংহ-৮)।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান উল হক মাসুদ (রাজশাহী-৫, পুঠিয়া-দূর্গাপুর), বিশ্বনাথ সরকার বিটু (রংপুর-২), সাফিয়া রহমান (রংপুর-৩), জাকির হোসেন সরকার (রংপুর-৫), কামাল আহমেদ তালুকদার (নীলফামারী-২), আনোয়ার সাদাত সম্রাট (পঞ্চগড়-১), আব্দুল মালেক চিশতি (পঞ্চগড়-২), সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও রৌমারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-৪)।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম