logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‘আমিই প্রথম রেকর্ড করি’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মাদারীপুরের কৃতিসন্তান, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদিকা, সাবেক এমপি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যিনি এরই মধ্যে বিএনপির রাজনীতিতে অগ্নিকন্যা নামে পরিচিতি লাভ করেছেন।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন হেলেন জেরিন খান। ৯০’র দশকে তৎকালীন সৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতির অংশ হিসেবে তিনিও সম্পৃক্ত ছিলেন। দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির পরেই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়, আগামী ভাবনা নিয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন হেলেন জেরিন খান।

ছাত্ররাজনীতির শুরুর দিকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের ছাত্ররাজনীতির সময়কালকে বলা হয় ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণ যুগ। ৮০ থেকে ৯০ দশকে আমার ছাত্ররাজনীতি শুরু হয়। আমি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইডেন কলেজ থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করি। ১৯৮৬ সাল থেকে আমার রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু হয়। এ বছরই ইডেন কলেজের ছাত্ররাজনীতির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করি। এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০০ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর ছাত্ররাজনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এ দীর্ঘ সময়ে ইডেন কলেজের নির্বাচিত ভিপি হয়েছি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট হয়েছি। যেটি ছাত্রদলের ইতিহাসে কেউ হয়নি। আমিই প্রথম রেকর্ড করি; ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন মেয়ে নেতৃত্ব দেয়।

হেলেন জেরিন খান বলেন, আমাদের সময় ছাত্ররাজনীতি বলতে যা বুঝায় তার প্রকৃত স্বাদ আমরা উপভোগ করেছি। সেসময় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে রাজনীতি ছিল। আমরা ইডেন কলেজে রাজনীতি করার পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। প্রতিটি জেলায় ছাত্রদলের সম্মেলনে গিয়েছি।

ছাত্ররাজনীতির উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব বেহায়া নামে পরিচিত হোসাইন মুহম্মদ এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের সৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল আমাদের ছাত্ররাজনীতির আন্দোলনের মাধ্যমে।আমাদের ছাত্ররাজনীতি ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ৮০ এবং ৯০ দশকের ছাত্ররাজনাতিও টিকে থাকবে।

বর্তমান ছাত্ররাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি আর আগের মত নেই। আমরা আর সেই রকম ছাত্ররাজনীতি দেখতে পাই না। কারণ বর্তমানে যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আছেন; তিনি আর সেভাবে ছাত্ররাজনীতি করতে দিতে চান না। দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে সেভাবে নির্বাচন হয় না। ক্যাম্পাসে বিরোধী কোনো সংগঠন ভূমিকা পালন করতে পারে না।

৮০ দশকের ছাত্ররাজনীতি আবারও ফেরে পাবার প্রত্যাশা করেন এ নেত্রী। ছাত্ররাজনীতির সে যুগ ফিরে আসলে ছাত্রদের যে দাবি আছে তা ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার কথা তুলে ধরে হেলেন জেরিন খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা কাঠামো ভেঙে গেছে। দেশে কোনো বিরোধী দল, বিরোধী মত নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই গুম হতে হবে আর না হয় মামলার আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হবে। আমাদের নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, তিনি খুব অসুস্থ, তারা পরেও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করছে না। খালেদা জিয়ার ইচ্ছেমত চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাকে সাক্ষাৎও করতে দেয়া হয় না। আমরা মহিলাদলের নেত্রীরা কয়েকবার গিয়েও তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা, বিএনপি হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে, গুম হয়েছে অনেক নেতা। আমরা সভা-সমাবেশ করতে চাইলেই অনুমতি চাইতে হয়। অনুমতি চাইলেও পাওয়া যায় না। এভাবে একটা দেশ বেশিদিন চলতে পারে না। এর একমাত্র সমাধান নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

রাজৈর উপজেলা ও সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-২ সংসদীয় আসন; যা আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল বলছে, বিপুল ভোটের ব্যবধানেই বিজয়ী হয়ে আসছেন দলটির প্রার্থী। এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সদস্য হেলেন জেরিন খান।

একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে হেলেন জেরিন খান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যদি অংশগ্রহণ করে এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। দেশের জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে আমার বিশ্বাস।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম