logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

‘মানুষকে সেবা দেয়ার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফরম হচ্ছে রাজনীতি’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মানুষকে সেবা দেয়ার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফরম হচ্ছে রাজনীতি বলে মনে করেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আজিজ।

সম্প্রতি ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার মনোনয়ন, জনগণকে নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা, এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আবদুল আজিজ মনে করেন, চিকিৎসা ও রাজনীতি দুটোই সেবামূলক পেশা। চিকিৎসা পেশায় থাকার কারণে সিরাজগজ্ঞ-৩ আসনের সব দলের ভোটাররা তাকে খুব কাছ থেকে চেনেন এবং ভালোবাসেন। তাই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাকে পছন্দ করেন।

বর্তমান সরকারের নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সময় সহায়তা করা, এলাকার গরিব দুঃখীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া এবং দলের জন্য ত্যাগী নেতাদের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার জনপ্রিয় চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সেবক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন অধ্যাপক ডা. মো.আবদুল আজিজ। চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে গভীর ভালোবাসা দিয়ে এলাকাবাসীর হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এ নেতা।

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে স্বাস্থ্যখাতসহ এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তরুণ এ চিকিৎসক নেতা। এজন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাবেক এ নেতা বলেন, মানুষকে সেবা দেয়ার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফরম হচ্ছে রাজনীতি। আর মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করার সবচেয়ে সেরা মাধ্যম হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

তিনি বলেন, এ কারণে আমি জনগণের দুঃখ বেদনার কথা সহজেই বুঝতে ও জানতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেয়ার উপযুক্ত পদ্ধতিই হচ্ছে সরকারে অংশগ্রহণ করা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সরকারে অংশগ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সহজ হবে। রাজনৈতিক সেবাটাকেও জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। সে কারণে আমি মনে করি, জনগণের রায় নেয়া প্রয়োজন। তবে মনোনয়ন দেয়া না দেয়ার মালিক এ সংগঠনের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর রায় দেয়ার মালিক জনগণ। তাই জনগণ যাকে চাইবে আশা করি প্রধানমন্ত্রী তাকেই মনোনয়ন দেবেন।

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আজিজ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ভালোবেসেই জননেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সেবাও দিয়ে আসছি। এলাকার ধনী-গরিব সবাইকে আমি নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছি। চিকিৎসক হওয়ার কারণে সিরাজগজ্ঞের সব দলের লোকদের সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। তারা সবাই মনে প্রাণে আমাকে ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন। তাদের বিপদে সবার আগে আমিই ঝাঁপিয়ে পড়ি। এ কারণে দলের নিবেদিত নেতাকর্মীরাও আমাকে শ্রদ্ধাভরে ভালোবাসেন। মূলত এলকাবাসীর ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমি সিরাজগজ্ঞ-৩ আসনে থেকে নৌকার হাল ধরতে আগহী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি যোগ্য মনে করেন তবেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলেও জানান।

চিকিৎসাসেবা থেকে রাজনীতিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়ার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফরম।জনগণের দ্বারপ্রান্তে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং চিকিৎসা খাতকে আধুনিক ও যুগপযোগী করে তুলতে পলিসি মেকারদের মধ্যে চিকিৎসকদের থাকা জরুরি। অন্ধকারে বসে যেমন আলোর পৃথিবী সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যায় না তেমনি চিকিৎসক ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন সম্ভব না। তাছাড়া এসডিজি অর্জনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা দরকার। যেটা চিকিৎসকরা ছাড়া করলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এজন্য চিকিৎসকদের রাজনীতিতে আসার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি।পৃথিবীর ৫০টি দেশের অধিক দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ হয়েছে আমার। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতকে বিশ্বের মডেল হিসেবে তৈরি করতে চাই।

অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আজিজ বলেন, এলাকার স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার অবদান রয়েছে। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে আমার কন্ট্রিবিউট নেই। আমার এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি দীর্ঘদিন থেকে। নির্বাচিত হতে পারলে এটার গতি আরও বেড়ে যাবে। তাছাড়া আমার কোনো শত্রুও নেই। রাজনৈতিক কর্মী এবং রোগী সবাই আমার আপনজন। তাদের বাদ দিয়ে আমি অস্তিত্বহীন।

চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে চিকিৎসকদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যেতেই হবে। অন্যথায় দেশীয় চিকিৎসার প্রতি আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম