logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

এটাই আমার সফলতা : এমপি ইসরাফিল আলম

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দিন-রাত প্রচারণায় এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ নামে পরিচিত নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তারই ধারাবাহিকতায় এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের নেতৃত্বে চলছে নানামুখী কর্মসূচি।

মো. ইসরাফিল আলমের পৈতৃক বাড়ি নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার ঝিমা গ্রামে। তিনি এমবিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছরের উন্নয়ন, একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন এবং আগামীতে ক্ষমতায় আসলে নতুন কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগদলীয় এমপি মো. ইসরাফিল আলম।

ফেমাসনিউজ : আপনি দীর্ঘদিন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও কেন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বা কেন নির্বাচনে আগ্রহী?

মো. ইসরাফিল আলম : নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের রাজনীতি পরীক্ষিত। এ এলাকায় আমার থেকে বড় বড় নেতারা এসেছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রী হয়েছেন, এমপি হয়েছেন, আমার দল থেকেও মনোনীত হয়েছিলেন। এর আগে যারা এ আসনে পাস করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তারা জনগণের শান্তি, জানমালের নিরাপত্তা, এলাকার উন্নয়ন করতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি- আমি এ এলাকার মানুষকে হৃদয় দিয়ে, মনপ্রাণ দিয়ে যেভাবে ভালোবাসি এবং ভালোবাসার তাগিদে তাদের উন্নয়নে, শান্তিতে, সমৃদ্ধে, নিরাপত্তাতে যেভাবে কাজ করি সেভাবে অন্য কেউ কাজ করতে পারেনি।

এ এলাকার যে অর্জিত উন্নয়ন, শান্তি, শৃঙ্খলাকে আরো টেকসই, স্থীতিশীল, শক্তিশালী, বলিষ্ট করার জন্য আবারও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উচিত। তার পরেও আমি বলবো- আমার নেত্রী শেখ হাসিনা, আমার নেতা বঙ্গবন্ধু। তাদের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। মাননীয় নেত্রী যদি আমার থেকে কাউকে ভালো মনে করেন তবে তার উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। আমি তাকে অভিনন্দন জানাতে তৈরি আছি। তাকে সহযোগিতা করবো। এ এলাকার উন্নয়ন, শান্তি শৃঙ্খলার জন্য শেখ হাসিনার নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিতে বাধ্য।

'কিন্তু রাজনীতির নামে আবার সেই জুয়া খেলা, মদ খাওয়া, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, গলা কাটা, হকিস্টিক বাহিনী দিয়ে মানুষকে নির্যাতন করা, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে ঘরছাড়া করা; এ রাজনীতির যারা পরীক্ষিত নেতা, যারা এরই মধ্যে গণশত্রু হিসেবে দীক্ষিত তাদের তো পুনর্বাসিত হবার সুযোগ দেয়া যাবে না।

ফেমাসনিউজ : আগামীতে নির্বাচিত হলে এলাকার আর কি কি উন্নয়ন করবেন?

মো. ইসরাফিল আলম : আমাদের এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজ থমকে নেই। তবে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। যেগুলোকে ক্ষমতায় এলে সমাপ্ত করতে হবে। এ কাজগুলো সহজ নয়, এর আগে যারা মন্ত্রী ছিলেন তারা ৫০মিটার একটা ব্রিজ করতে পারেনি। আমি একশ’টার বেশি ব্রিজ করেছি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ৫৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ছিল। আমি ক্ষমতায় এসে ৫শ' ১২ কিলোমিটার রাস্তা করেছি। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১৭ হাজার মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল। আমি এসে ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন ছিল না, আমি এসে তা করে দিয়েছি। নিজ খরচে এলাকায় নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে এলাকাকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছি।

'উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আগামীতে ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সান্তাহার থেকে ভদলাঘাট পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ সেতু, ভদলা থেকে রাজাপুরে পারাপার হওয়ার জন্য রাস্তা এবং ছোট একটি ব্রিজ, সমাজ পাড়ায় একটি ব্রিজ, রায়পুরে গ্রামের সঙ্গে সংযোগ করার জন্য আরেকটি ব্রিজ, বেদগাড়িকে ছোট কালকিপুরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি ব্রিজ, এগুলো আমাদের তৈরি করা খুবই দরকার। আমার এলাকায় রাস্তা অনেক হয়েছে। তবে কিছু রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে, কিছু রাস্তাকে মাটি কেটে আরও উঁচু করতে হবে। একইসঙ্গে ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে শাসন করতে হবে।'

ফেমাসনিউজ : আপনার এলাকায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, এটা কি আপনার সাংগঠনিক ব্যর্থতা বলে মনে করেন?

মো. ইসরাফিল আলম : গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে বহুমত এবং শত ফুল ফুটতে দাও। যে রাজনীতি শত ফুল ফুটতে পারে না, বহুমত থাকতে পারে না, সেটা তো কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি হতে পারে না। আমার দল অনেক বড়। যে এলাকায় একজন প্রার্থী পাওয়া যায়নি এমপি ভোট করার জন্য, সেই এলাকায় অনেক প্রার্থী এমপির কান্ডারি হওয়ার জন্য এখানে কাজ করছেন।এটাই আমার রাজনীতির শক্তি। এটাই আমার সফলতা।

আমি যদি সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারতাম, তাহলে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা ভোট করা তো দূরের কথা, এলাকায় থাকতে পারতো না, আসতে পারতো না। আজকে আমার খুব আনন্দ লাগে যে, নৌকার অনেক প্রার্থী হয়েছে। আমি দোয়া করি- তারা যেন শেষদিন পর্যন্ত নৌকার সাথে থাকে। বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গী, সর্বহারা এবং বিরোধী দলের ইজেন্ট বা ভাড়াটিয়া হয়ে প্রার্থী হয়নি, এ প্রমাণটা যেন তারা কর্মের ভেতর দিয়ে করে।

ফেমাসনিউজ : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. ইসরাফিল আলম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম