logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‘একটি পরিকল্পিত ঢাকা-২ উপহার দেব’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৮

পর পর ২ বার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া শাহীন আহমেদ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী। এলাকাবাসীর মতে, যোগ্যতা, এলাকার উন্নয়ন ও নানা কারণে ঢাকা-২ আসনে তিনিই সেরা।

শাহীন আহমেদ কেরানীগঞ্জের উন্নয়নে রোল মডেল। এ আসনে উন্নয়নে অতীতে যারা সুনাম কুড়িয়েছেন, শাহীন আহমেদ তার মেধা দক্ষতা এবং কর্ম পরিকল্পনা দ্বারা সবাইকে পেছনে ফেলে কেরানীগঞ্জবাসীর মনজয় করে নিয়েছেন। শাহীন আহমেদ দিন-রাত পরিশ্রম করে এবং সঠিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কেরানীগঞ্জকে আধুনিকায়ন করেছেন অনেকাংশেই।

তিনি বরাবরই শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তার কারণে কেরানীগঞ্জ আনেকটাই মাদকমুক্ত। কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক উপ-শহর করতে তিনি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কেরানীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা, নেতাকর্মীদের দাবি এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তিনি এবার ঢাকা-২ আসন থেকে মনোনয়ন নেয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন। এসব বিষয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন শাহীন আহমেদ।

ফেমাসনিউজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন কেন?

শাহীন আহমেদ : যেহেতু রাজনীতি করছি। রাজনীতিতে মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু করা একটা ভিশন থাকে। সে লক্ষ্যেই নির্বাচন করার বিষয়টি মাথায় এসেছে। তারপরও আমি শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য দুই বার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। এমন একজন মানুষের জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ভিশন থাকতেই পারে। সে লক্ষ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আমি আমার ভিশনকে গ্রহণ করি। এরপর থেকে ঢাকা-২ আসনে নির্বাচন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-২ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন। কারণ ঢাকা-২ আমার এলাকা। ঢাকা-২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য যিনি, তিনি ওই এলাকার নন। আমি জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি এবং কাজ করছি। সংগঠন এবং সকল স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে।

ফেমাসনিউজ : ঢাকা-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার আসনে নিজেকে ঠিক কী কারণে যোগ্য মনে করছেন?

শাহীন আহমেদ : ঢাকা-২ এর মানুষ প্রত্যাশা করে- তাদের স্থানীয় একজন প্রতিনিধিকে। এলাকার স্থানীয় একজন মনোনয়ন পাবে- এটা তারা মনে করেন। একই সঙ্গে আমার দল আওয়ামী লীগও সেটা মনে করে। আমার এলাকায় একজন বহিরাগত লোক, যিনি আমাদের মনের ভাষা বোঝেন না, প্রাণের ভাষা বোঝেন না, আমাদের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগও নেই। সাধারণ মানুষ তার কাছে গিয়ে উপকৃত না হয়, বিশেষ করে মানুষের কথা বলার জায়গা যদি না থাকে, তাহলে নিশ্চয় মানুষ পরিবর্তন চাইবে। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি এবং জনগণও সেটা প্রত্যাশা করেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা থেকে কেউ আসুক, বহিরাগত নয়।

আমার যোগ্যতাস্বরূপ দুইবার রাষ্ট্রীয় খেতাব পেয়েছি। জনগণের জন্য কাজ করেছি বলেই আমি এ খেতাব পেয়েছি। সে সম্মান আমাকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। এসব কারণে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করতেই পারি। ঢাকা-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যদীপ্ত একজনকে মনোনয়ন দেবেন সে কথাই আমি জানি। একই সঙ্গে আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সে কথাই বলেছেন। স্থানীয় প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দেবেন। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি। যোগ্যতাম মাপকাঠিতে বেশি তা বলব না। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। সাধারণ মানুষ যদি যোগ্য মনে করেন, তবে আমাকে ভোট দেবেন। আমার এলাকার প্রতিনিধিত্ব তো আমরাই করব। আমার এলাকায় কেন একজন বহিরাগত লোক এসে নেতৃত্ব দেবেন।

ফেমাসনিউজ : আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে জনগণ আপনাকে কেন ভোট দেবে?

শাহীন আহমেদ : ১০ বছর আমি জনগণের হয়ে তাদের জন্যই কাজ করেছি। ব্যক্তিগত, সমষ্টিগতভাবে ঢাকা-২ এর মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম এবং উন্নয়নে কাজ করেছি। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে ছিলাম এবং আছি। ঢাকা-২ এ যেহেতু রাজনীতি করি সেক্ষেত্রে কেরানীগঞ্জ, সাভার এবং কামরাঙ্গীরচরের মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক আছে। তারা আমার ওপর বিশ্বাস এবং আস্থা রেখেছেন। তাদের আস্থার প্রতিদান আমি দিতে চাই। যদি নির্বাচিত হতে পারি একটি পরিকল্পিত ঢাকা-২ আমি মানুষকে উপহার দেব।

ফেমাসনিউজ : নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কেমন ভূমিকা রাখবেন?

শাহীন আহমেদ : আমার ভিশন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। পরিকল্পিত, পরিমার্জিত, মানুষের বাস উপযোগী একটি নগর আমি গড়ে তুলতে চাই। যেখানে সকল মানুষ যার যার অবস্থান থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা পান। বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য একটি পরিকল্পিত ঢাকা-২ গড়তে চাই। এখানে সকল সুযোগ-সুবিধা থাকবে। মসজিদ-মাদ্রাসা, ধর্মীয় উপাসনালয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, মানুষের যে মৌলিক চাহিদাগুলো আছে, সেগুলো আমি পূরণ করব।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি/এমআরইউ