logo

সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

আমি নৌকা পেলে বিজয় নিশ্চিত : দিলু

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৮

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চান বিশিষ্ট সমাজসেবক, সফল রাজনীতিবিদ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু)। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যে কয়েকজন নেতা সিরাজগঞ্জ জেলায় মাঠে থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু)।

তিনি ১৯৫৫ সালে ২০ এপ্রিল রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ ছিলেন সলঙ্গা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি ১৯৭২ সাল হতে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সরকারের রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির ধুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি তার ৮ ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। বাবার আদর্শে আদর্শিত লুৎফর রহমান দিলু ১৯৮০ সালে অর্থনীতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরিবারের একজন পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। তার একজন ভাগ্নে ইলিয়াস আকন্দ সলঙ্গা থানা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য, অন্যজন হুমায়ুন কবির সোহাগ সলঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক।

রাজনৈতিক জীবনে এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) চৌধুরী ঘুঘাট ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য, ধুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য, সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন।

২০০১ সালে নির্বাচনের পর দলের প্রয়োজনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সিরাজগঞ্জের কিংবদন্তি প্রয়াত নেতা আব্দুল লতিফ মির্জার তত্ত্বাবধানে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

তিনি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় হরতাল-অবরোধ, টেকনাফ-তেতুলিয়া মানববন্ধন কর্মসূচি এবং গোলচত্বর-চান্দাইকোনা এলাকায় নেত্রীর যেসব বিশাল বিশাল জনসভা হয়েছে তার একজন সংগঠক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী চারদলীয় জোট সরকারের নির্যাতনের শিকার রায়গঞ্জ, তাড়াশ এবং সলঙ্গা থানার আওয়ামী লীগের ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীর হাসপাতালে চিকিৎসা ও মামলা মোকদ্দমার খরচ বহন করেন। ২০০৩ সালে প্রলয়ঙ্করী বন্যায় আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে অত্র এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিশাল আকারে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

একটি সময় রায়গঞ্জ-তাড়াশ এবং সলঙ্গা বিএনপির স্থায়ী আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। দিলুর অক্লান্ত পরিশ্রম, সামাজিক ও অর্থনেতিক কর্মকান্ডের জন্য মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের গণজাগরণ সৃষ্টি হয় এবং তার ফলশ্রুতিতে ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে প্রয়াত সাংসদ ইসহাক হোসেন তালুকদার বিশাল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত নেতা ইসহাক হোসেন তালুকদারকে মনোনয়ন দিলে তিনি মাঠে থেকে নৌকা প্রতীককে বিজয়ের জন্য কাজ করেন এবং ২০১৪ সালে বর্তমান এমপি ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনকে মনোনয়ন দিলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন।

আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সংগঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন সিরাজগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু)।

ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তার নির্বাচনী ভাবনা এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু)।

ফেমাসনিউজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কেন প্রার্থী হতে চান?

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) : আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে কর্মজীবনে এসে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার এলাকায় দলকে সংগঠিত করতে ব্যাপকভাবে কাজ করেছি। বিশেষ করে ২০০১ সালে যখন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে, সে সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর মত কেউ ছিল না। এ সময় আমি প্রত্যেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়াই। ২০০৩ সালের বন্যায় আমার আসনের মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পায়ের নিচে মাটি ছিল না। সে সময় আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি। আমার কর্মকান্ডের জন্য এলাকার মানুষের মনে আমার নামটা লুকিয়ে আছে। তারা চায় এ আসনে একজন সৎ লোক আসুক, যিনি জনগণের সেবা করবে। আমি দলীয় ক্ষমতা খাটিয়ে কিছু করিনি। নিজের যোগ্যতায় ব্যবসা করে বড় হয়েছি। আগামীতে আমার নেবার কিছু নেই। এখন জনগণকে কিছু দেবার। আমার এলাকার সাধারণ মানুষ চায় আমার মত একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের মানুষ তাদের প্রতিনিধি হোক। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে জনগণ স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে।

ফেমাসনিউজ : আপনার আসনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের তুলনায় আপনি কেন নিজেকে যোগ্য মনে করছেন; যার জন্য দল আপনাকে মনোনয়ন দেবে?

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) : মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা মনোনয়ন চাচ্ছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি? তারা কতদিন থেকে আওয়ামী লীগ করে? তারা আগে কি করতো? এসব বিষয় জানলেই কার যোগ্যতা কেমন তা পরিষ্কার হবে। আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে আমার যতটুকু অবদান রয়েছে তা আর কারো আছে কিনা একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।

ফেমাসনিউজ : মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার কেমন উন্নয়ন করবেন?

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু): বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের রায়গঞ্জ-তারাশ এলাকা একটু উন্নয়ন বঞ্চিত। আমরা চলন বিল অধ্যুসিত এলাকায় বাস করি। আমাদের মূল সমস্যায় যোগাযোগ। এ ব্যবস্থাকে যদি উন্নত করতে পারি তবে উন্নত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা সব সুযোগ কিন্তু তাদের ঘরে পৌঁছে যাবে। সহজেই হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে যেতে পারবে। চলন বিলের আরেকটা সমস্যা হলো- এ অঞ্চলের মানুষ বছরের বেশিরভাগ সময় বেকার থাকেন। এলাকায় পানি চলে আসলে লোকজনের তেমন কোনো কাজ থাকে না। ওই সময়ের জন্য আলাদা কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। অর্থাৎ শিল্পকারখানা তৈরির মাধ্যমে পেশার পরিবর্তন করাতে পারলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

ফেমাসনিউজ : মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আপনার জন্য কতটুকু কাজ করবে?

এ.টি.এম. লুৎফর রহমান (দিলু) : আমাদের একশ'জন নেতাকর্মীর মধ্যে ৯০ জন আমার পক্ষে কাজ করবে। আর দু'একজন আমার কথা নাও বলতে পারে। কারণ তারা নিজেরাই প্রার্থী। ওই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কমিটিতে যারা আছে তারা সবাই আমার কথা বলবে। আমি বিশ্বাস করি- যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয় তবে কোনো গ্রুপিং থাকবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার জন্য কাজ করবে। আমি নৌকা পেলে বিজয় নিশ্চিত।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম