logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

ইউজিসি’র আইন মানছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৮

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যথাযথ আইন করলেও মানছে না অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১০ সালের ৩৫ নং আইন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ রহিতক্রমে কতিপয় সংশোধনীসহ আইন প্রণয়ন করে ইউজিসি। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্বারা।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০১টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে চালু আছে ৯১টি। ইউজিসি ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করে বলছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে, কয়েকটির মালিকানা নিয়ে মামলা চলছে, কয়েকটির ক্যাম্পাস অনুমোদিত নয় এবং কোন প্রতিষ্ঠান এমন কোর্স পরিচালনা করছে যেসবের অনুমোদন নেই, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে তারা। ইউজিসি বলছে, দেশটিতে এখনও কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়নি।

ইউজিসি সূত্রে পাওয়া ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে প্রাইম ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন, নর্দান, দি পিপলস, বিজিসি ট্রাস্ট, ইবাইস, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি), ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়াসহ আরও কয়েকটি।

২০১০-এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৯ ধারার (১) ও (২) উপধারায় বলা আছে, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে, প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অনূন্য ১ (এক) একর পরিমাণ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য অনূন্য ২ (দুই) একর পরিমাণ নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত জমি থাকিতে হবে; উল্লিখিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনাদির প্ল্যান অনুমোদন করিয়ে, সাময়িক অনুমতিপত্রে প্রদত্ত মেয়াদের মধ্যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউজিসি সেসব বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখিত সনদপত্র পাবার শর্তাবলী পূরণ করতে পারে না। কখনও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও বছরের পর বছর ভাড়াকৃত ভবনে চলতে পারে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৩ ধারায় বলা আছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার নিমিত্ত প্রদত্ত সাময়িক অনুমতিপত্রে বা ক্ষেত্রমত সনদপত্রে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস যে শহর বা স্থানে স্থাপিত ও পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকবে; উল্লেখিত শহর বা স্থানে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ক্যাম্পাস সীমিত রাখতে হবে এবং অন্য কোনো স্থানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা বা কোনো ক্যাম্পাস বা শাখা স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।

কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে-সেখানে তাদের আউটার ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে, যা আইনে গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে দারুল ইউসান, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন, নর্দান, দি পিপলস, বিজিসি ট্রাস্ট, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস, যার বৈধতা নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৯ ধারার ৪ উপধারায় বলা আছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম শতকরা ছয় ভাগ তন্মধ্যে শতকরা তিনভাগ আসন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং শতকরা তিন ভাগ আসন প্রত্যন্ত অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সংরক্ষণপূর্বক শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি শিক্ষা বছরে অধ্যয়নরত এরূপ শিক্ষার্থীর তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে দাখিল করতে হবে।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ফি নিয়ে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করবার নিমিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার মানদন্ডে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শিক্ষার্থী ফি কাঠামো প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে অবহিত করবে। কমিশন অবহিত হওয়ার পর প্রয়োজনে পরামর্শ প্রদান করতে পারবে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই ইউজিসির এ আইন না মেনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। দেশের বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-ভেদে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) পড়তে খরচ আড়াই লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত, মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ১ লাখ থেকে ৫ লাখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৬ লাখ, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) ৩ লাখ থেকে ৮ লাখ এবং সাংবাদিকতায় স্নাতক পড়তে আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বৃদ্ধি পায় বলেও জানা গেছে। গুটি কয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর চেয়ে কম খরচে লেখাপড়ার সুযোগ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ইউজিসি’র আইন সঠিকভাবে না মানায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সময় নিয়েছে। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যখন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে তার আগে অবশ্যই সে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে নেবে। এতে করে তার ভবিষ্যতে হতাশায় পড়তে হবে না।

তিনি বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি’র নিয়ম মানবে না বা যারা সময় নেবার পরেও ঠিক হবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম