logo

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

বিএনপির সময় মাত্র ১১ দিন

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৮

সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছাতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলেন বিএনপির নেতারা। কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

সিইসির ঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। ওই হিসেবে বিএনপির হাতে আর মাত্র ১১ দিনে রয়েছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে বিএনপি তাদের দাবি আদায় করতে পারবে কিনা তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সন্দেহ।

সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি আন্দোলনে নামে। একপর্যায়ে ওই আন্দোলনে ব্যর্থ হয় দলটি। এরপর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলতে বলতে চলে যায় ৫টি বছর। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার ঈদের পর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে ঘোষণা দিতে থাকেন। তাদের এমন ঘোষণা দিতে দিতে একপর্যায়ে দলীয় প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাগারে যেতে হয়েছে।

দলীয় প্রধানের সাজা হওয়ার পরও দলটি রাজপথে আন্দোলনে নামতে পারেনি। তবে শীর্ষ নেতারা নামে মাত্র সংবাদ সম্মেলন ও অনুমতি সাপেক্ষে কয়েকটি সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছেন।

একপর্যায়ে ড. কামাল হোসেনসহ দেশের কয়েকজন সুশীল ব্যক্তিদের সাথে ঐক্য হওয়ার স্বপ্ন দেখে বিএনপি। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামের একটি জোটও করে দলটি। সেই জোটের মাধ্যমে তারা দুবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপে বসেন। কিন্তু সংলাপে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে আন্দোলন ও সংলাপ একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- মাত্র ১১ দিনে আন্দোলন কতটুকু সফল করতে পারবেন তারা?

এদিকে নির্বাচনের তফসিল পেছানোর জন্য সিইসির সাথে বৈঠকে বসেছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হয়নি। অবেশেষে আজ সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোববার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর।

শুধু তাই নয়, সিইসি তার ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্রবাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নিষ্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসারও অনুরোধ জানান। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

গত ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। এ নির্বাচনে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির পরও নির্বাচনে শহর এলাকায় সীমিত আকারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি।

প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই নির্বাচন পরিচালনায় দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের সহযোগিতা চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

তিনি বলেন, আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। একইসঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করব। নির্বাচন পরিচালনায় সব নাগরিকের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি।
ফেমাসনিউজ২৪/কেআর/এফএম/এমএম