logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আশা বিশ্ববিদ্যালয়

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি মোহাম্মদপুর এলাকার শ্যামলীর খিলজী রোডে ‘আশা টাওয়ার’ একটি সুবিশাল ভবনে অবস্থিত।

২০০৬ সালের ২৬ মে যাত্রা শুরু। পাঠদান শুরু পরের বছরের ১৯ মে। তখন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল মোট ৭৭১ জন। ১২ বছর পর সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। এখন ৫ হাজারের অধিক ছাত্রছাত্রী অধ্যায়নরত। এটি বেসরকারি এনজিও আশা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি শিফটে চলে শিক্ষা কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬২ জন স্থায়ী শিক্ষক আছেন। কর্মকর্তা আছেন ৪১ জন। শুরু থেকেই আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লক্ষ্য—‘স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা’। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান মো শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান প্রোফেসর হুসনেয়ারা হক। ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- প্রোফেসর ডা. ডালিম চৌধুরী বর্মন, আলাউদ্দিন আহমেদ, মিসেস রাবেয়া আক্তার, মো আবুল আজিজ, প্রোফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং সুশিল কুমার রয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি ডিপার্টমেন্টের অধীনে ৯টি বিষয় রয়েছে।

ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস

ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ)
মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ)

ফ্যাকাল্টি অব ল’

এলএলবি (অনার্স)
এলএলএম (২ বছর)
এলএলএম (১ বছর)

ফ্যাকাল্টি অব আর্টস এন্ড সোস্যাল সায়েন্স

বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ
এম এ (প্রিলিমিনারি) ইন ইংলিশ
এম এ ইন ইংলিশ (লিটারেচার) অ্যান্ড এম এ ইন অ্যাপ্লাইড লিংগুইসটিক অ্যান্ড ইন এলটি
সার্টিফিকেট ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোফিসিয়েন্স

ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসি
মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ)

আবেদনের যোগ্যতা

এসএসসি এবং এইচএসসি কমপক্ষে ২য় বিভাগ অথবা জিপিএ ২.৫০ পেতে হয়। এ ছাড়াও ও-লেভেলে ৫টি বিষয়ে জিপিএ ২.৫ এবং এ-লেভেলে ২টি বিষয়ে জিপিএ ২.৫ পেতে হয়।

ভর্তি কার্যক্রম

পরীক্ষার পূর্বে অ্যাডমিশন অফিস থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে তা পূরণ করে অফিসে জমা দিতে হয়।

অনলাইন থেকে ওয়েব সাইট : www.asaub.edu.bd এ আবেদনপত্র সংগ্রহ করে ৩০০ টাকার বিনিময়ে অফিসে জমা দিতে হয়।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অ্যাডমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। এসএসসি এবং এইচএসসি মার্কশিটের ফটোকপি এবং ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে যেতে হয়। ভর্তির খরচ পরবে ১০ হাজার টাকা। বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের নিচতলায় যোগাযোগ করতে হয় অথবা এই ৮১১৪৮৩১, ৮১৩০২৮৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে খুবই কম স্কোর পান, তাদের ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোফিসিয়েন্সি কোর্স করতে হয়।

খরচ প্রক্রিয়া

আশা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ প্রোগ্রামে পড়াশোনার মোট খরচ ৩ লাখ ৯৮ হাজার ১০০ টাকা। ভর্তি ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা (সকল প্রোগ্রামের জন্য) ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা।

এই প্রোগ্রামের ১ম সেমিস্টারে খরচ হয় ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা। ভর্তির খরচ ২৩ হাজার টাকাসহ। ভর্তি খরচ বাবদ প্রথমে ২৩ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার ২ মাস পর বাকি ২৩ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

২য় সেমিস্টার থেকে প্রত্যেক সেমিস্টার খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা করে। এ টাকা প্রতি মাসে পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতি দুইমাস পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তারিখে পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে অন্যান্য প্রোগ্রামের খরচ পরিশোধ করতে হয়।

টিউশন ফি-তে ছাড়

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি ক্যাটাগরিতে ওয়েভার ও স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। মেধাবী কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অক্ষম- এমন শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেসব বৃত্তি প্রদান করা হয়।

ক্যাটাগরিগুলো হলো-

ক. প্রয়োজনের ভিত্তি করে ছাড়
খ. মেধার তালিকার ওপর ভিত্তি করে ছাড়
গ. করপোরেট এমবিএ, এমএ এবং এলএলএল’র ক্ষেত্রে ছাড়
ঘ. একই মায়ের সন্তানদের জন্য ছাড়
ঙ. ‘আশা’র সদস্য ও স্টাফদের জন্য ছাড়

বিবিএ প্রোগ্রাম (৪ বছর) সিজিপিএ ৩.৭৫ থাকলে এম বি এ প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে টিউশন ফি’তে ২৫ ভাগ ছাড় দেয়া হয়।

মাস্টার্সসহ আবেদনকারীদের একাডেমিক ফলাফলে সবগুলো এথম বিভাগ থাকলে টিউশন ফি ২৫ শতাংশ ছাড় পেয়ে থাকে।

মাস্টার্সসহ তিনটি প্রথম বিভাগ অথবা গ্রাজুয়েট সম্পন্নদের সবগুলো প্রথম বিভাগ থাকলে টিউশন ফি’তে ১৫ শতাংশ ছাড় পেয়ে থাকে।

সেমিস্টার ফলাফল : কমপক্ষে ৪টি কোর্স, জিপিএ ৪ এর মধ্যে হলে ২০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়।

করপোরেট ছাড়

একই প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী/ অস্থায়ী/ চুক্তিভিত্তিক কমপক্ষে ৪ জন এমপ্লয়িজ একটি সময়ে ভর্তি হলে প্রত্যেকের টিউশন ফি’তে ২৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়। একই শর্তে ৩ জন এমপ্লয়িজ ভর্তি হলে টিউশন ফি’তে ২০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সহোদর এবং স্বামী-স্ত্রীর জন্য টিউশন ফি’তে ২৫ শতাংশ ছাড় দিয়ে থাকে।

শিক্ষাবৃত্তি

জিপিএ ৫.০০ (গোল্ডেন) – ৪.৭৫ প্রাপ্তরা ১০০ %, জিপিএ ৪.৫০ – ৪.৭৪ প্রাপ্তরা ৫০ %, জিপিএ ৪.২৫ – ৪.৪৯ প্রাপ্তরা ২৫ %, জিপিএ ৩.৫০ – ৪.২৪ প্রাপ্তরা ১৫ % বৃত্তি সুবিধা পায় এবং ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০ থাকে তারা ৫০ % থেকে ১০০ % বৃত্তি সুবিধা পায়।

ক্রেডিট ট্রান্সফার

কমপক্ষে ৩.৭৫ থাকলে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সফার করা যায়। বিদেশি ভার্সিটি থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় না। তবে শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারে।

লাইব্রেরি

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত। ৭ হাজার বর্গফুটে জায়গা নিয়ে অবস্থান। একসাথে ২০০ শিক্ষার্থী বসে পড়াশোনা করতে পারে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সেবা প্রদানে ছয়টি শাখা রয়েছে।

শাখাগুলো হলো- অ্যাকুইজিশন, প্রসেসিং, সার্কুলেশন, রেফারেন্স, সাইবার ও অডিও ভিজ্যুয়াল সেকশন।

ইএমবিএর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

এখানে ইএমবিএ-এর জন্য নৈশকালীন ব্যবস্থা রয়েছে। ভর্তির জন্য অ্যাডমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। ভর্তির খরচ ১০ হাজার টাকা।

খাবার ব্যবস্থা

এখানে যেসব খাবার রয়েছে তার দাম মোটামুটি সবার আয়ত্ত্বের মধ্যেই রয়েছ। ক্যান্টিনে সমুচা ৮ টাকা, সিঙ্গাড়া ৮ টাকা, বার্গার ৪০ টাকা, চিকেন ৬০ টাকা, অ্যানার্জি ড্রিংস ইত্যাদি পাওয়া যায়।

অন্যান্য সুবিধা

ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা যেমন- ক্রিকেট, ফুটবল, দাবা, সাইবার গেমস ইত্যাদি খেলার আয়োজন করার ব্যবস্থা আছে। নিজস্ব কোনো মাঠ নেই। ভাড়া করা মাঠে খেলার ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আধুনিক শিক্ষার সব উপকরণ রয়েছে। এখানে যারা শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করছেন সবাই অভিজ্ঞ। সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলা হয়।

তিনি জানান, এখানে রয়েছে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া, ব্রডব্যান্ড, ওয়াইফাই ইন্টারনেট সুবিধা, সুবিশাল ক্যাফেটেরিয়া ও সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক সুবিধা আছে। এ ছাড়াও ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারিকের জন্য পাঁচটি ল্যাব আছে। মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি, ফিজিওলজিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি, মলিকুলার বায়োলজি ও ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি ল্যাব।

তিনি বলেন, অল্প খরচে উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুধু গরিব এবং মেধাবী শিক্ষার্থীই নয়, এখানে যারা কর্মরত আছেন, তাদের সন্তানদের শিক্ষায়ও বিশেষ ছাড় দেন কর্তৃপক্ষ। আমরা মনে করি কম খরচে উচ্চ শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান আশা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি