logo

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

দক্ষিণ এশিয়ার সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হবে ইউআইইউ

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)।

২০০৩ সালে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। এটি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত। ২০১৬ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গবেষণার জন্য ১ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য। ইউনাইটেড গ্রুপ এর ২২টি সহযোগী প্রকল্পের মধ্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম।

বিশ্ববিদ্যালটিতে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগ (EEE), কমপিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ (CSE), ব্যবসা অনুষদ ও অর্থনীতি অনুষদ, সিসকো নেটওয়াকিং একাডেমিসহ (Cisco Network Academy) বেশকিছু অনুষদ রয়েছে।

বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), বিবিএ ইন এআইএস, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইকোনমিক্স, বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং।

গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে মাস্টার অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ), এক্সিকিউটিভ এমবিএ, এমএস ইন ইকোনমিক্স, মাস্টার ইন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এমডিএস), এমএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এছাড়া সিসকো নেটওয়ার্কিং নামে এখানে একটি বিশেষ কোর্স রয়েছে।

ধানমণ্ডিতে অবস্থিত বর্তমান ক্যাম্পাসের আয়তন প্রায় ৮০ হাজার স্কয়ার ফিট। ৮তলা বিল্ডিংয়ে দুটি বেসমেন্ট বিদ্যমান। এ ছাড়া UIU এর আরও দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে ধানমণ্ডিতে।

UIU ২০১৭ সালে ঢাকার সাতারকুলে নিজেদের পার্মানেন্ট ক্যাম্পাস কার্যক্রম শুরু হয়। সাতারকুলে অবস্থিত ‘ইউনাইটেড সিটি’তে নির্মীয়মাণ এই ক্যাম্পাস এর আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৭৫ হাজার স্কয়ার ফিট। যা কিনা ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটিতে অবস্থিত সবচেয়ে বড় আয়তনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন- চেয়ারম্যান হাসান মোহাম্মদ রাজা, ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদুর রহমান খান, জেনারেল সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মইনুদ্দিন হাসান রাশিদ, ট্রেজারার সুমন আহমেদ, সদস্য আহমেদ ইসলাম হোসেন, কে এম আহসান শামীম, আক্তার মাহমুদ রানা, মো. আব্দুর রহিম, হাফিজা মাহমুদ, প্রোফেসর ড. চৌধুরী মফিজুর রহমান, প্রোফেসর ড. এম রেজওয়ান খান, প্রোফেসর ড. মোহাম্মদ মুসা, প্রোফেসর এ এস এম সালাউদ্দিন, মালিক তালহা ইসলাম বারি, নাসিরুদ্দিন আক্তার রাশিদ, ওয়াশিকুল আজাদ এবং ফাহাদ খান।

গবেষণা

বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার জন্য ১ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে ২০১৬ সালে। শিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, জলবায়ু ও পরিবেশ, টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন খাতে নির্বাচিত ১৫ জনকে ইউআইইউ রিসার্চ গ্র্যান্ট এবং ২২ জনকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষণার জন্য স্বীকৃতি ও প্রশংসাপত্র দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ইউআইইউ-এর শিক্ষকরা যে কোনো গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন। সময়কাল হবে ১-২ বছর। প্রথমবার ১৫ জন্য শিক্ষককে গবেষণা তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করা হয়।

স্কলারশিপ, বৃত্তি এবং ওয়েভার

প্রতি সেমিস্টার এ ২০% ছাত্রছাত্রী ২০-১০০ ভাগ টিউশন ফি ওয়েভার পায়, পূর্বের একাডেমিক ফলাফল এবং সর্বশেষ সেমিস্টারের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এসব দেয়া হয়। UIU ২০১৫ সালে ১১ কোটি টাকা স্কলারশিপ দেয়, যা ওই বছরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। UIU ২০১৬ সালের সামার সেমিস্টার থেকে প্রতি সেমিস্টার এর স্কলারশিপ রেজাল্ট প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা প্রতি সেমিস্টারে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

ভর্তি কার্যক্রম

ইউআইইউতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ২.৫ জিপিএ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ২৫ শতাংশ এবং গোল্ডেন-৫ প্রাপ্তদের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফির ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউআইইউ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের অনেকে চাকরি করছেন এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গ্রামীণফোনের মতো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও গ্রুপ অব কোম্পানিতে। আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য এম রেজওয়ান খান জানান, দেশের প্রথিতযশা শিক্ষকদের খণ্ডকালীন শিক্ষকের পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক স্থায়ী শিক্ষক দিয়ে চলছে ইউআইইউ’র শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সবসময় যত্নবান। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান করেন তারা। মেধাবী শিক্ষার্থী উৎসাহিত করতে ট্রাইমেস্টারভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, হাতে কলমে শিক্ষাদানের জন্য ইউআইইউতে কম্পিউটার, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ১২টি ল্যাব রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মিক প্রবৃত্তি, মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনোদন ইত্যাদির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্লাবের মাধ্যমে নানমুখী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। এর মধ্যে আছে ডিবেটিং ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, এমবিএ ও ফটোগ্রাফি ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টরেট অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এম রেজওয়ান খান আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ ও বাজার উপযোগী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার। শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, ঘূর্ণিঝড় ও মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচির মতো নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা করা বলেও জানান এই উপাচার্য।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি