logo

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ | ৭ চৈত্র, ১৪২৫

header-ad

গুণগত শিক্ষাই অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০১৯

অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে ২০০৪ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক অতীশ দীপঙ্করের নামানুসারে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি স্বতন্ত্র ও অনন্য ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল সহপাঠে অভ্যস্তকরণ এবং মেধাবী দরিদ্র ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের শিক্ষা প্রদানে পালন করছে বিশেষ দায়িত্ব।

শুধু সনদ নয়, শিক্ষার্থীরা যাতে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে এ বিষয়ে তাদের বিশেষ পরামর্শ দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে পরিচ্ছন্ন শ্রেণিকক্ষ, মনোরম ক্যাম্পাস, কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, কালচারাল ক্লাব।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মো. ইসরাফিল আলম। আর ভাইস চেয়ারম্যান হলেন আমিন আহমেদ।

অন্য সদস্যরা হলেন- ফজলুর রহমান, আব্দুল জব্বার মিয়া, মোহাম্মদ তাহেরুল ইসলাম পাটয়ারী, মোবাররক হোসেন, শাহজাহান মোহাম্মদ মুহিদ্দিন, মো ইকবাল হোসেন অপু, মো. লিয়াকত আলী সিকদার, আরিফুল বারি মজুমদার, ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রোফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল হক চৌধুরী, প্রোফেসর ড. এম শাহীন খান, মো জোনায়েদ আহমেদ, সৈয়দ মো. হেমায়েত হোসেন, গোলাম সারওয়ার কবির, মোহাম্মদ শামসুল আলম লিটন, মো কামরুজ্জামান, প্রোফেসর ড. মো শেকুল ইসলাম।

অনুষদসমূহ

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিবিএ ছাড়া ইংরেজি, পাবলিক হেলথ, এমবিএ, ফার্মেসি, টেক্সটাইল, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি মেধাভিত্তিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সুশীল অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখানে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একঝাঁক অভিজ্ঞ শিক্ষক। শিক্ষার্থী সংখ্যায় নয়, গুণগত মানে এগিয়ে থাকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।

প্রকৃত মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য। মেধাবী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পশ্চাৎপদ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিনা বেতনে বা স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

ভর্তি কার্যক্রম

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনপত্র এডমিন অফিস থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করা যায়। আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করে এডমিন অফিসে জমা দিতে হয়।

তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদনের জন্য প্রথমে www.atishdipankar.edu.bd –এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করতে হবে।
আবেদনপত্রটি যথাযথভাবে পূরণ করার পর ৩০০ টাকাসহ এডমিন অফিসে জমা করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মার্কশিটের ফটোকপি এবং ভর্তি ফি ১২ হাজার টাকা জমা করে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন। ৫ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৭৭ জন শিক্ষক।

শিফট ও ফলাফল প্রকাশ পদ্ধতি

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের ক্লাসসমূহ ‘ডে’ ও ‘ইভনিং’ দুটি শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। অনার্সের ক্লাসসমূহ ‘ডে’ শিফটে এবং মাস্টার্সের ক্লাসসমূহ ‘ডে’ এবং ‘ইভনিং’ উভয় শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষার ফলাফল গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়।

অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটির বিষয়ভিত্তিক খরচের তালিকা

বিবিএতে খচর হবে ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৬০ টাকা, বিবিএ ইন এগ্রি বিজনেস ২ লক্ষ ৯ হাজার ৫০ টাকা, সিএসইতে ২ লক্ষ ২ হাজার ১৫০ টাকা, সিএসআইতে ২ লক্ষ ২ হাজার ১৫০ টাকা, ইটিইতে ২ লক্ষ ৬ হাজার ৭৫০ টাকা, ইইইতে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা, টেক্সটাইল ইঞ্জি.-তে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা, বি. ফার্মাতে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৮০ টাকা, এলএলবি (অনার্স) ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা।

এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০% পর্যন্ত বৃত্তি দেয়া হয়। এসএসসি ও এইচএসসিতে চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা ৭৫%, জিপিএ ৪.৭০ থেকে ৪.৯৯ প্রাপ্তরা ৬০%, ৪.০০–৪.৬৯ প্রাপ্তরা ৫০% এবং ৩.৫০-৩.৯৯ প্রাপ্তরা ৩০% বৃত্তি সুবিধা পাবে এবং কোন শিক্ষার্থী যদি পর পর দুই সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩.৯০ (আউট অব ৪) পায়, তবে পরবর্তী সেমিস্টার থেকে তার জন্য শতভাগ বৃত্তি সুবিধা পাবে।

ক্রেডিট ট্রান্সফার

ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৭৫ প্রাপ্তরা এই ইউনিভার্সিটি থেকে দেশের অন্য যে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারবেন। এ ছাড়া নিজের যোগ্যতা অনুসারে নিজ উদ্যোগে বিদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারবে।

অন্যান্য সুবিধা

জ্ঞানের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ষষ্ঠ তলায় একটি লাইব্রেরি রয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে রয়েছে টেক্সট বুক, কালেকশন বুক, জার্নাল, দুর্লভ বই, বিভিন্ন ম্যাপ। লাইব্রেরিতে বই পড়ার জন্য প্রথমে লাইব্রেরির নির্দিষ্ট ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণপূর্বক দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ও এক কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। তারপর লাইব্রেরি কার্ড প্রদান করা হলে একজন শিক্ষার্থী বই পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাসায়ও বই নিয়ে যেতে পারবে। উল্লেখ্য, লাইব্রেরি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য কোনো চার্জ প্রদান করতে হয় না। লাইব্রেরিটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। যেমন– কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, বন্ধুসভা। এসব সংগঠন কর্তৃক বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল আলম বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু শিক্ষায় নয়, প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে যুগের সঙ্গে চলতে শেখানো হয়।

তিনি বলেন, দেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও অল্পখরচে উচ্চশিক্ষা প্রদান করে। মেধাবী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। আধুনিক শিক্ষার সব রকম উপকরণ এবং ব্যবস্থাপনা এখানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কম খরচে আধুনিক এবং গণগত উচ্চ শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি