logo

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

‘আশাব্যঞ্জক’ সফলতায় এনআরবি ব্যাংক : মেহমুদ হোসেন

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯

এনআরবি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। ব্যাংকিং, আর্থিক পরিসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৩-এ এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সারাদেশে ব্যাংকটির ৩৮টি শাখা রয়েছে। গ্রাহকদের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেবার লক্ষ নিয়ে কাজ করছে সকল কর্মকর্তা। ফাইন্যান্স ও বীমাবীমা, কনজ্যুমার ব্যাংকিং, যৌথ ব্যাংকিং, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনসহ নানা বিষয়ে সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

২০১৬ সালের আগস্ট থেকে এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়ত্ব পালন করছেন মো. মেহমুদ হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যাংকের কার্যক্রম এবং গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। এনআরবি ব্যাংকে আধুনিক এবং একটিভ ব্যাংকিং হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মেহমুদ হোসেন। ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

ফেমাসনিউজ: এনআরবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান অবস্থানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মেহমুদ হোসেন: ২০১৩ সালে এনআরবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কয় বছরে যদি আমরা ব্যাংকের পারফরম্যান্সকে মুনাফার দিক থেকে দেখি তবে এক কথায় বলবো খুব ভালো করেছি। আশাব্যঞ্জক। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় অর্থনীতি অনুকূলে ছিল না। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নতুনভাবে ব্যাংকের পূনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসা প্রসারে মনোনিবেশ করি। এর পর থেকে আমরা অগ্রগতি লাভ করতে থাকি।

তিনি বলেন, শুরুতে এ ব্যাংকের মডেল ছিল পুরোপুরি ‘সেন্ট্রালাইজ’ অর্থাৎ কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন। ২০১৭তে মিক্সড মডেল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিই। অর্থাৎ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হবে কেন্দ্রীয়ভাবে। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের রিলেশন টিমের মাধ্যমে। ২০১৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬’র শেষার্ধে এবং ২০১৭তে ২০টি শাখা খোলার খরচসহ বর্ধিত মানবসম্পদ ও অবকাঠামোর খরচ পুষিয়ে সীমিত মুনাফার দিকে এগোই আমরা। এর মধ্যে শেয়ারধারীকে মোটামুটি লভ্যাংশ দিতে পেরেই সন্তুষ্ট। ২০১৮ সালে এসে এনআরবি ব্যাংক ৩৮টি শাখা দিয়েছে। ব্যাংকের অগ্রগতি হয়েছে বলেই নিয়মিত শাখা বাড়ানোর কাজ চলছে।

ফেমাসনিউজ: দেশে অনেক ব্যাংক রয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ৬ বছরে এনআরবি ব্যাংকের সফলতা কতটুকু দেখছেন?

মেহমুদ হোসেন: এনআরবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৬ বছরে অনেক সফলতা অর্জন করেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের সকল প্রকারের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ব্যবসায়িক কৌশলের মধ্যে বেশকিছু উপায় খুঁজে নিয়েছি আমরা। আমরা আমদানি বাণিজ্যের চেয়ে রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্ব দেই। বর্তমানে ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৮৫ শতাংশ রফতানিই দেশীয় সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে হয়। এতে অ্যাড কনফারমেশন লাগে না। দেশের ব্যাংকগুলো আমাদের ব্যাংকের ব্যালান্সশিট, রপ্তানীকারক এবং পরিচিতির ভিত্তিতে এনআরবি’র এলসি নিচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের সীমা রাখছি সামর্থ্যরে মধ্যে। সব কিছু মিলিয়ে অল্প সময়ে সফলতা অনেক।

ফেমাসনিউজ: চলতি বছর আমানত ও ঋণের সুদহার যথাক্রমে ৯ ও ছয়ে নামিয়ে আনার নির্দেশনায় ব্যাংক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখেন?

মেহমুদ হোসেন: এ নির্দেশনার উদ্দেশ্য অবশ্যই প্রশংসনীয়। সামর্থ্য অনুযায়ী এ প্রক্রিয়াকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু কথা হচ্ছে, কিছুটা বাজারের ওপরও নির্ভর করা আবশ্যক। চাইলেই রাতারাতি এর প্রয়োগ ঘটানো যায় না। তবে বাস্তবায়নের কাজটা কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খাতে সব আমানতের জন্ম একদিনে হয়নি, ফলে এটা পুনর্মূল্যায়িত হচ্ছে ধীরে ধীরে। অন্যদিকে ঋণের সুদহার নেমে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আরও একটি বিষয়, নির্বাচনের বছরে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে দেখা যাবে বছরের শেষদিকে মূলধন আমদানি ও ট্রেডের চাহিদা আরও একটু কমে যাবে। এতে করে বাজারে তারল্য সুলভ হবে। তখন সুদহার আরও নামবে।

ফেমাসনিউজ: নতুন প্রজন্মের ব্যাংককর্মীদের ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মেহমুদ হোসেন: আমার পর্যবেক্ষণ এখনকার ছেলেমেয়েরা অতি দ্রুত ক্যারিয়ার নির্মাণ করতে চায়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকে দীর্ঘদিন থেকে কাজ শিখে সুগভীর দক্ষতা অর্জনের চেয়ে চাকরি বদলের মাধ্যমে দ্রুত পদোন্নতি অর্জনের প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি। নবীন কর্মীরা যে পদগুলো টপকে অন্য ব্যাংকে যোগদান করছেন, সেখানে থেকে যাচ্ছে অভিজ্ঞতার ঘাটতি। ফলে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মীর মধ্যে আমরা দেখতে পাই সমস্যার বহুমুখী সমাধানে দক্ষতার অভাব। ফলে ব্যাংক খাতে সব পর্যায়ে দক্ষ কর্মীর খুব অভাব অনুভূত হচ্ছে।

ফেমাসনিউজ: ২০১৯ সালটি ব্যাংক খাতের জন্য কীভাবে দেখছেন?

মেহমুদ হোসেন: প্রথম কথা হচ্ছে ভালো হওয়া উচিত। এ কারণে যে, আমাদের ডিজিপি’র প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মেগা প্রকল্পগুলো পুরোদমে চলছে। আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্প ২০১৯ সালে শুরু হবে। ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়ায় এবং চীনের সাথে আমেরিকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি আসবে বলে আশা করা যায়। আর কমপ্লায়েন্সের কারণে ব্যাংক খাতে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল, তাও আমরা অতিক্রম করে এসেছি। সুদহারের চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এলে ব্যাংকগুলোও ভালো করবে। মোটের ওপর ২০১৯ সালে দেশের অর্থনীতি ভালো হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলেই এসব সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তবে কিছু জায়গায় দুরবস্থা অনুমান করতে পারি। প্রবাসী আয় এ বছরের মতো সামনের বছরও কম থাকবে। কারণ যেসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কথা, সেসব দেশের অভ্যন্তরীন নীতির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে। ২০১৯ সালে ব্যাংক খাতে হুমকি থাকবে চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান মন্দঋন আদায়ে অনুল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও বড় চ্যালেঞ্জ। দেখার বিষয় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল কীভাবে এ সংকটের সমাধান করে।

ফেমাসনিউজ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মেহমুদ হোসেন: আপনার নিউজ পোর্টালের সবাইকে ধন্যবাদ।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি