logo

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

মানুষের আস্থা অর্জনে ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ : ইউসুফ আলী

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

মানুষের জীবন ও সম্পদ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলা করার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলে বীমা। নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে অপরপক্ষের নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকারের মাধ্যমে বীমা করে থাকে মানুষ। দেশে এমন বীমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম নয়। তবে বিশ্বাসযোগ্য এবং আস্থাশীল বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি।

বাংলাদেশে ৬২টি বীমা কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ২টি সরকারি (জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা), ৬০টি বেসরকারি। বেসরকারি বীমার মধ্যে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বিদেশি।

নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’। এটি দেশের প্রথম সারির বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএম ইউসুফ আলী। তিনি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের বীমা ব্যবস্থা, বীমার সুফল, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএম ইউসুফ আলী।

ফেমাসনিউজ: আপনার ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র অর্জন কি?

বিএম ইউসুফ আলী: দেশে বীমার সংখ্যা অনেক, তবে বিশ্বস্ত এবং আস্থার জায়গা অনেকেই সৃষ্টি করতে পারেনি। সেদিক থেকে অনেকটা সফল ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’। মানুষের আস্থা অর্জন করেছে আমাদের এ প্রতিষ্ঠান। আমাদের বীমা গ্রাহকের সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশি। মানুষের আস্থা অর্জন করায় এতো গ্রাহক। আমরা প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ম্যাচুরিটি ক্লেইম পরিশোধ করেছি। মাত্র সাড়ে তিন বছরে এত বেশিসংখ্যক মানুষের দাবি পরিশোধ করার কারণে ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে মানুষ এখনও বীমাকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’কে বিশ্বাস করে। কারণ দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স’র সুফলভোগী গ্রাহক আছেন। পাশের মানুষ বিমা করে সুফল পাওয়ায় আস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো।

ফেমাসনিউজ: কোন ধরনের বীমার করতে মানুষ আগ্রহী?

বিএম ইউসুফ আলী: একজন মানুষ অনেক প্রকারের বীমা করতে পারে। তবে বিমা প্রকল্পের মধ্যে ডিপিএসটা খুব ভালো। এ বীমার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। মানুষ মাসে মাসে সুবিধামতো এটা দিতে পারে। এ বীমা বেশ ভালো বিক্রি হয়।

ফেমাসনিউজ: দেশের বীমা খাতের অবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে?

বিএম ইউসুফ আলী: দেশের বীমা খাত আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। মানুষ এখন এ খাতকে বিশ্বাস করে। নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য বীমা করতে আগ্রহী হয়। আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ এখন সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছে। তারা এ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। সংস্থাটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এ সংস্থার উদ্যোগের কারণেই বিমা খাত এগিয়ে যাচ্ছে।

ফেমাসনিউজ: কেন বীমা খাত পিছিয়ে পড়ে বলে আপনি মনে করেন?

বিএম ইউসুফ আলী: বীমা সম্পর্কে এখনও অনেক মানুষই ভালোভাবে বোঝে না। সঠিক ধারণা না থাকায় তারা এখাত সম্পর্কে আগ্রহী নন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ খাত সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে হবে। দেশের সব খাত সম্পর্ক জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে সরকার। তবে বীমার প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নেই। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

ফেমাসনিউজ: কোন ধরনের বীমা মানুষের করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

বিএম ইউসুফ আলী: আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়-ক্ষতি বা আর্থিক ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রত্যেক মানুষের উচিত বীমা করা। এটাকে দুর্ঘটনা বীমা বলে। তবে এর মধ্যেও আবার কয়েকটা ভাগ রয়েছে- ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা, সম্পত্তি দুর্ঘটনা বীমা, দায় বীমা।

এছাড়া বীমাকারী বা বীমা কোম্পানি তার ঝুঁকি আংশিক পুনঃচুক্তির মাধ্যমে অন্য কোন বীমা কোম্পানির উপর অর্পণ করা বীমাও করতে পারে। একে পুনঃবীমা বলে। এসবের বাইরেও কোন সম্পত্তি বা জীবন একাধিক বীমাকারীর নিকট বীমা করতে পারে। তাকে দ্বৈত বীমা বলে।

ফেমাসনিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার দেবার জন্য ধন্যবাদ।

বিএম ইউসুফ আলী: আপনাকেও ধন্যবাদ, ধন্যবাদ আপনার নিউজ পোর্টারের সবাইকে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি