logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে আ.লীগের কৌশল

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগেই। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড়। সব দলই নির্বাচন নিয়ে নানা পরিকল্পা করছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে কড়াকড়ি করছে। তারা নিজস্ব কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে।

সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্টভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হতে হবে। প্রাথমিক দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তৃণমূল নেতাদেরই। প্রার্থী বাছাইয়ে আগে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন- কাকে মনোনয়ন দেয়া যায়। এরপর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে ওইসব প্রার্থীর বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপরই তার হাতে তুলে দেয়া হবে নৌকা প্রতীক। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি এমন কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘যারা মনোনয়ন চাইবেন তাদের প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে গত নির্বাচন ও আন্দোলন-সংগ্রামে বড় ভূমিকা থাকতে হবে। জেলা-উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি তিনজন করে নাম আমাদের কাছে দেবে। সেখান থেকে জরিপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী মার্চ থেকেই ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো ধরনের কোন্দল থাকবে না। যে উপজেলার নেতারা তালিকা দিতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্র থেকে প্রতিটি উপজেলার নেতাদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করা হবে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আমাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জনমত জরিপ চালানো হবে। একই সঙ্গে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকেও মতামত নেবেন।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জানান, ১৮ সদস্যবিশিষ্ট দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এখন থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে তারা প্রার্থী বাছাই করে ঢাকায় পাঠাবেন। তবে মনোনয়ন বোর্ড তা চূড়ান্ত করবে। দলের অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করছি। অতীতে এ ধরনের নির্বাচনে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এজন্য এবার সুনির্দিষ্ট নিয়ম করে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ চট্টগ্রাম ও সিলেট, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঢাকা ও ময়মনসিংহ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক রংপুর ও রাজশাহী, আবদুর রহমান বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকতে পারেন।

তাদের সহায়তা করবেন আট সাংগঠনিক সম্পাদক। এর মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেট, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ময়মনসিংহ, বিএম মোজাম্মেল হক রংপুর, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশাল, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম চট্টগ্রাম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনা, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাজশাহী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম দেখভালের বেলায় সহায়তা দিতে পারেন।

এবার ভোট হবে পাঁচটি ধাপে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ-মে মাসে ছয় ধাপে এর বেশির ভাগগুলোতে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন করতে হচ্ছে।

১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করে তৎকালীন ইসি। সেই ধারা বজায় রেখে এবার বিভাগভিত্তিক ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সেক্ষেত্রে আট বিভাগের ভোট হবে চারদিনে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি