logo

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

কোথাও ঠাঁই পাচ্ছে না বিএনপি!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯

সম্প্রতি শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তিনবারের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। বিভিন্নভাবে ধরনা দিয়ে কোথাও ঠাঁই পাচ্ছে না বিএনপি!

নির্বাচনে জয়ের লক্ষে বিএনপির নেয়া সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশের ২৯৯ আসনের মধ্যে মাত্র ৫টি আসন পায়। পরে আরও একটি আসন যুক্ত হয়। জাতীয় নির্বাচনে এমন ভরাডুবি মেনে না নিয়ে ভোট ডাকাতির অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সে লক্ষে নির্বাচনের ফল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। কিন্তু তারও কোনো সুরাহা পায়নি দলটি।

বাংলাদেশে অবস্থারত বিদেশি কূটনৈতিকদের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তাদের সামনে উপস্থাপন করেন বিএনপি নেতারা। সবশেষে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার কথা বলেন বিএনপি নেতারা। তবে কবে থেকে আন্দোল বা কেমন প্রক্রিয়ায় আন্দোলন তাও স্পষ্ট করেনি দলের কেউ।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থাকে নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুনরায় নির্বাচনের জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদেশিদের কাছে বিএনপির এমন অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, ক্ষমতায় আসতে সব চেষ্টায় চালিয়েছে বিএনপি। দেশি-বিদেশি সব শক্তিকেই কাজে লাগিয়েছে। তবে আগেও কোথাও ঠাঁই পায়নি, এখনও তারা কোথাও ঠাঁই পাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি দেশের মানুষের সমর্থন হারিয়েছে। এখন তারা বিদেশিদের দ্বারস্থ হয়েছে। বিদেশিদের কাছে নালিশ ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি হতাশ নয়। আমরা ক্ষমতায় যেতে নির্বাচনে অংশ নেইনি। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফেরাতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। তবে এ সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, এ সরকার এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে সরাতে হবে এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আদায় করতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৩০ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে এটা লজ্জার নির্বাচন। নির্বাচনের নামে একটি তামাশা হয়েছে দেশে। এটাকে নির্বাচন বলা যায় না। কোনো সুষ্ঠু স্বাধীন গণতান্ত্রিক জাতি এবং এ দেশের মানুষও এটাকে মেনে নেয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপি হয়তো কোনো অবস্থাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। কিন্তু এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, আগামী ৫ বছর তারা ক্ষমতায় থাকবে। যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থায় অসত্যের পতন হয়। সত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়। এখন যা চলছে তা অসত্য।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম