logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই : কাজী ওসমান আলী

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক বেসরকারি ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত একটি ব্যাংক। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত হয়ে ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। ওআইসি’র সাবেক মহাসচিব ড. হামিদ আল গাবীদ, সৌদি আরবের ডেপুটি স্পিকার ও রাবেতার সাবেক মহাসচিব ড. আবদুল্লাহ ওমর নাসীফ, সৌদি আরবের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী সালেহ জামজুম এবং ইসলামী আর্ন্তজাতিক তহবিল (আইআইএফ) ও আন্তর্জাতিক ইসলামী ত্রাণ সংস্থা (আইআইআরও) এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা।

একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালক পর্ষদ ব্যাংকটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন তদারকিসহ ব্যবসায়িক ও অন্যান্য নীতিমালা অনুমোদন করেন। ব্যাংকটির সব ধরনের ব্যাংকিং ব্যবসায়ে ইসলামী শরীয়াহ ও সুদমুক্ত নীতির বাস্তবায়ন এবং পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি শরীয়াহ কাউন্সিল রয়েছে।

এছাড়া ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিদেশি অবৈতনিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক কাউন্সিল ব্যাংকটিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবসায় পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করে।

ব্যাংকটি শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিক সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা, অনানুষ্ঠানিক অর্থাৎ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য মাইক্রোক্রেডিট এবং এসএমই ফিন্যান্স ও স্বেচ্ছামূলক- এ তিন খাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকগুলির মধ্যে প্রথম স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের মাধ্যমে এসআইবিএল ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করে থাকে। বর্তমানে ১৫০টি শাখা ও ৮৪টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্যাংকটি।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী ওসমান আলী। তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ব্যাংকিং সেক্টরে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে তিনি এ ব্যাংকের শীর্ষ এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকের সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ফেমাসনিউজ : ব্যাংক সেক্টরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞাতায় নিজেকে কতটুকু সফল বলে মনে করছেন?

কাজী ওসমান : আমার পেশাগত জীবনের দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি একেবারে রুট লেভেল থেকে পেশাজীবন শুরু করে বর্তমানের অবস্থানে এসেছি। আমি ছোটবেলা থেকেই কাজে বিশ্বাস করি। জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি না। আমি আমার কাজের দ্বারা নিজেকে পরিচিত করেছি। কাজের ক্ষেত্রে আমি সফল। আমি যেহেতু ব্যাংকার তাই আমার ভাবনা সবই ব্যাংককে ঘিরে। আমার অভিজ্ঞতার সবটুকুই ব্যাংক সেক্টরে বিনিয়োগ করবো।

ফেমাসনিউজ : সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের অবস্থা সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

কাজী ওসমান : বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের অবস্থা ভালো। বর্তমানে আমরা আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য, প্রবাসী আয় এবং পরিচালন মুনাফাসহ সব সূচকে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পিত কৌশল নিয়েছি। ১৯৯৫ সালে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক মাত্র পাঁচটি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে আমাদের ১৫০টি শাখা ও ৮৪টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে। আশা করি, কয়েক বছরের মধ্যে এ ব্যাংক দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামী ব্যাংকের মর্যাদায় উন্নীত হবে।


ফেমাসনিউজ : ২০১৯ সালে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা কী?

কাজী ওসমান : আমরা যে গতিতে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। এ লক্ষ্যে বেশকিছু কর্ম-পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। স্থায়ী আমানত বাড়ানো, বৈদেশিক লেনদেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রফতানি ও রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ানো, সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়ানো, মোবাইল ব্যাংকিং চালু করতে চাই। ব্যাংকের সেবার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করা, প্রবাসী বাঙালিদের আর্থিক সেবার আওতায় আনার ব্যাপারে আমরা আরও উদ্যোগী হবো।

ফেমাসনিউজ : বাংলাদেশে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সংকট ও সম্ভাবনাকে কীভাবে দেখছেন?

কাজী ওসমান : বাংলাদেশের আগের তুলনায় শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ব্যবসা বেড়ে চলেছে। দিন দিন শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ব্যবসা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আকৃষ্ট হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকিং পরিপূর্ণতা লাভ করে মুদারাবা-মুশারাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে। প্রকৃত ও সৎ উদ্যোক্তারা এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত স্বাদ পেতে পারেন।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি বলেও মনে করেন কাজী ওসমান আলী।

ফেমাসনিউজ : ব্যস্ততার মাঝে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী ওসমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম