logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

বিএনপির ব্যর্থতা এখন ওপেন সিক্রেট!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ব্যর্থতা এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট। নিজ দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এমনকি ২০ দলীয় জোটের অনেকের কাছেই তা পরিষ্কার।

তবে ব্যর্থতা মানতে নারাজ বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা। তারা মনে করছেন, গণতন্ত্র হত্যা করে এ সরকারকে টিকিয়ে রাখার মূলে বিএনপির ব্যর্থতা থেকে জনগণের ব্যর্থতা দায়ী।

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ে বিএনপি। এরপর থেকেই কোনঠাসা হতে থাকে দলের সিনিয়র নেতাকর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূল। টানা দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলার জালে জড়িয়ে আটকে যায় বিএনপি।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের অনেকেই কারাবরণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পযন্ত সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও ওয়াকআউটের মাধ্যমে সংসদের বাইরেই বেশি সময় থেকেছে দলটি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদের বাইরে ছিটকে যায় বিএনপি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পযন্ত দীর্ঘ ৫ বছর জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাযত কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম জমাতে পারেনি দলটি।

এ পাঁচ বছরে হাজারো মামলা, কারাবরণ, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে জোরালো কোনো আন্দোলনের ডাক দিতেও ব্যর্থ হয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ পরাজয় ঠেকাতে পারেনি বিএনপি। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করলেও তা শুধু মৌখিক চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাছাড়া বিএনপি হতাশায় ভুগছে। সবদিকের ব্যর্থতা গ্রাস করেছে তাদের। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই কোনো ঐক্যও। ক্ষমতায় আসতে মরিয়া হলেও রাজপথে আন্দোলনে আসতে চান না কেউ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হলেও তা বারবার পিছিয়েছে।

নির্বাচনের পর আন্দোলনে নামার কথা থাকলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়েও তেমন ফল পাননি দলের সিনিয়র নেতারা। এমনকি আগামীতে কোন পথে এগুবে দলটি- তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

বিএনপির এমন ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনায় মুখর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা বিএনপি দুনিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে করেছিল, তাতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি একাই শুধু এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তারা দেশে দেশে চিঠি লিখেছিল এ নির্বাচকে অবৈধ নির্বাচন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে অবহিত করতে। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন যদি বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলনে নামে বা উদ্যোগ নেয়, জনগণ তাতে সাড়া দেবে না। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি একদিকে বিদেশে তাদের বন্ধুহীন করবে, অন্যদিকে দেশের মাটিতে তারা জনবিচ্ছিন হয়ে পড়বে। তবে বিএনপির ব্যর্থতাগুলোকে আমনে নিচ্ছে না দলের সিনিয়র নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, `আজকে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি যা অর্জন করেছেন সমস্ত অধিকার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর আপনারা বলছেন, বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নেই। বিএনপি ইজ ইউনাইটেড। সমস্যা আজকে জাতির, সমস্যা বিএনপির নয়।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ফেমাসনিউজকে বলেন, বিএনপি ব্যর্থ- এ কথাটা বলা ঠিক নয়। বিএনপির সব নেতাই তাদের জায়গা থেকে কাজ করছেন। তবে যে দেশের সরকার পুলিশ-প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে তার সঙ্গে কীভাবে লড়বে?

তিনি বলেন, আমাদের কোনো কিছুই করতে দিচ্ছে না সরকার। কিছু করতে গেলেই মামলা দিয়ে কারাগারে নিচ্ছে। আমরাও চাই রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে। সময় হলেই সব দেখতে পাবেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি/এমআরইউ