logo

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬

header-ad

বড় ধরনের ঋণ খেলাপির পরিচয় প্রকাশ্যে আসে না : কামাল হোসেন

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সাফল্যে সব সময় এক ধাপ এগিয়ে থাকা সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের একটি প্রাইভেট বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স পায় ১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ এবং প্রথম শাখা যাত্রা শুরু করে ১৯৯৫ সালের ২৫ মে। আধুনিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং সেবা, ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ও ঋণ সুবিধা প্রদান এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুততার সাথে দেশে তাদের প্রিয়জনের নিকট পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

রিটেইল ব্যাংকিং, কর্পোরেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যাংকিং ক্রেডিট কার্ড সেবা প্রদান করে সাউথইস্ট ব্যাংক। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্যাংকটি বিভিন্ন জনকল্যাণমুলক কাজে সহায়তা করে থাকে।

সাউথইস্ট ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন এম. কামাল হোসেন। তিনি ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এ ব্যাংকের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান এম. কামাল হোসেন।

ফেমাসনিউজ : ব্যাংক সেক্টরে নিজের সফলতা নিয়ে কিছু বলুন?

কামাল হোসেন : আমার ব্যাংকিং জীবন শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। প্রথম ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদান করি। তবে আমি যে ব্যাংকার হবো এটা কখনো ভাবিনি। ছাত্র ভালো ছিলাম বলে স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করবো। তবে ঘটনাচক্রে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। হয়ে গেলাম ব্যাংকার। আমি সাউথইস্ট ব্যাংকে কাজ করছি ১৫ বছর ধরে। আমার মেধার সবটুকু দেবার চেষ্টা করেছি এই ব্যাংক সেক্টরে। নিজের যোগ্যতায় প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জন করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শক্তভাবে ব্যাংকের নেতৃত্বের হাল ধরেছি। আমি এই ব্যাংকের দায়িত্ব নেবার পর পর্ষদের সকলকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি ব্যাংকটা সকলের। আমি বা অন্য কর্মকর্তারা চাকরি ছেড়ে একদিন চলে যাব কিন্তু ব্যাংকের মালিকানা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রয়ে যাবে। আমার কথায় তারাও আশ্বস্ত হয়েছে। আমাকে তারা সব সময় সহযোগিতা করেছে। আমি নিষ্টার সঙ্গে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। আমার সফলতা বলতে এটুকুই।

ফেমাসনিউজ : সাউথইস্ট ব্যাংক কেমন মুনাফা অর্জন করেছে বলে মনে করছেন?

কামাল হোসেন : আমি ব্যাংকের দায়িত্ব নেবার পর গত বছরের তুলনায় পরের বছর ২০১৮ সালে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বেশি মুনাফা হয়েছে। তবে আমরা অধিক মুনাফা লাভের থেকে সঠিক ব্যক্তি বা কোম্পানিকে ঋণ দেই। যাতে ঋণ শ্রেণিকৃত না হয় এরং ঋণ খেলাপি না ঘটে।

ফেমাসনিউজ : খেলাপি ঋণ নিয়ে আপনার বক্তব্য কি?

কামাল হোসেন: যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে সঠিক সময়ে পরিশোধ করে না বা বিভিন্ন বাহানায় নিজেকে ব্যাংক থেকে দুরে রাখে প্রকৃত অর্থে তারাই ঋণ খেলাপির পর্যায়ে পড়ে। তবে যারা বড় ধরনের ঋণ খেলাপি করে তাদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে না। কিছু আসলেও অনেকেরই আসে না। ভেতরে ভেতরে অনেকেই অনেককে ঋণ দিয়েছে। যারা ঋণ দিয়েছেন, তারা কি অনভিজ্ঞ ছিলেন? তা অবশ্যই নয়। পর্ষদই বা কি ভূমিকা রেখেছিল? হয়তো পর্ষদে ঋণগুলো উপস্থাপিত হওয়ার সময় সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। অথবা পর্ষদকে কেউ প্রভাবিত করেছেন। না হলে এসব ঋণ দেওয়ার কথা নয়। ধিরে ধিরে ঋণ খেলাপিদের নাম প্রকাশ্যে আসছে। এতেই মিডিয়া জানছে এবং নিউজ হচ্ছে।

ফেমাসনিউজ : ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি আস্থা কীভাবে ফিরবে বলে আপনি মনে করছেন?

কামাল হোসেন: ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে আবার ফিরবে। এ ধরনের ঋণ খেলাপির ঘটনা আর না ঘটলে মানুষের বিশ্বাস আবার ফিরবে। তবে প্রত্যেক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে মনে রাখতে হবে নতুন করে আর খারাপ ঋণ দেওয়া যাবে না। ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই সে দায়িত্ব নিতে হবে। খারাপ গ্রাহকের ঋণ মঞ্জুরি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনোরূপ আপস করা যাবে না।

ফেমাসনিউজ : ২০১৯ সালে ব্যাংকিং খাত নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

কামাল হোসেন: প্রতি বছরই ব্যাংক সেক্টরে নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়। আমাদের সকল উদ্যোগই গ্রাহকদের সেবার মান বাড়ানো জন্য। সাউথইস্ট ব্যাংকও সে লক্ষে কাজ করছে। সেবার মান কিভাবে আরও বাড়ানো যায় সে লক্ষে কাজ করছি। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বাত্তক ব্যবহার করে গ্রাহকের সেবার মান বাড়াচ্ছি।

ফেমাসনিউজ : ব্যস্ততার মাঝে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কামাল হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম