logo

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

চাইলেই পারে পুলিশ!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

স্টপেজে থামে না বাস, দাঁড়ায় না যাত্রী কিন্তু চাইলেই পারে পুলিশ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীজুড়ে ১৩০টি বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও সঠিক তদারকি, অবহেলা আর আইন না মানার কারণে কাজে আসছে না সরকারের এ প্রকল্প।

বাসচালক, যাত্রী, ডিএমপি এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন নগরপরিকল্পনাবিদরা। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনিয়মে অভ্যস্ত নগরবাসীকে নিয়মে ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিদ্ধান্তে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক মেগা প্রকল্পের আওতায় ১৩০টি বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়।

প্রজেক্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটিতে খরচ ধরা হয় ১৭ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, ১৩০টি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চাহিদা মোতাবেক এ উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ৭০টি ও উত্তরে ৬০টি বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় তৈরি বাস স্টপেজের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থান থেকেই যাত্রীরা বাসে ওঠানামা করতে পারবেন। রোদ কিংবা বৃষ্টিতে যত্রতত্র দাঁড়াতে হবে না তাদের। কমবে দুর্ঘটনাও। উন্নত দেশগুলোর বাস স্টপেজের মতো এসব বাস স্টপেজে উন্নত ফুটপাত, বিশুদ্ধ খাবার পানি, ওয়াইফাই, টি-স্টল ও মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবস্থা থাকার কথা।

তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এমন সুযোগ সবিধার কোনোটিই নেই যাত্রী ছাউনিগুলোতে। শুধু নির্মাণ শেষ করেই দায়িত্ব শেষ করেছে সিটি করপোরেশন। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত লাইটসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা।

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট, আনসার ক্যাম্প, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, মুগদা, মানিকনগর, সায়েদাবাদসহ বেশকিছু বাস স্টপেজ ঘুরে দেখা গেছে, মোড় থেকে কিছু দূরে বাস স্টপেজগুলো তৈরি করা হয়েছে। বাস স্টপেজের সামনে প্রায় ১০০ গজ হলুদ রঙ দিয়ে মার্ক করে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ‘বাস স্টপেজ।

কিন্তু কোনো বাস সেখানে থামে না। বাস স্টপেজ দখল করে রয়েছে রিকশা, মোটরসাইকেল। কোনো কোনো স্থানে প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীরাও আগের মতই বাস স্টপেজে না দাঁড়িয়ে মোড়ে বাস ঘুরানোর সময় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে উঠছেন।

নির্ধারিত স্থানে না দাঁড়িয়ে যেখানে সেখানে যাত্রী তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে চালক হেলাল উদ্দিন বলেন, মোড় থেকে বাস স্টপেজগুলো একটু দূরে তৈরি করা হয়েছে। বাস স্টপেজে যাত্রী পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে হয়।

তবে যাত্রীদের দাবি, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং তদারকি না থাকায় চালকেরা যেখানে সেখানে বাস দাঁড় করায়। যদি বাস স্টপেজে বাস দাঁড় করানোর জন্য চালকদের বাধ্য করা হতো তবে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হতো। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলে বাসগুলো সঠিক জায়গায় দাঁড়ায়, তবে পুলিশ না থাকলেই নিয়ম ভঙ্গের খেলায় মেতে ওঠে চালকরা।

নির্ধারিত স্থান ছাড়া কেন গাড়িতে উঠছেন জানতে চাইলে যাত্রীরা বলেন, বাস স্টপেজগুলোতে বাস থামে না। মোড়ে না দাঁড়ালে গাড়িতে ওঠা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়।

ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, আমরা দুটি প্রকল্পের আওতায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছি। যাত্রী ছাউনিগুলো যাত্রীবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন। প্রতিটি ছাউনির সামনে বাস স্টপেজ রয়েছে। বাসগুলো এসে স্টপেজে দাঁড়াবে এবং ছাউনি থেকে যাত্রীরা বাসে উঠবে।

কেইস প্রকল্পের পরিচালক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা কেইস প্রকল্পের আওতায় দুই সিটি এলাকায় এসব যাত্রী ছউনি নির্মাণকাজ শেষ করেছি। যাত্রীরা এরই মধ্যে ছাউনিগুলো ব্যবহার শুরু করেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, রাজধানীতে যাত্রী সেবা বাড়াতে, যানযট নিরসন এবং দুর্ঘটনা রোধে বাস স্টপেজ করা হলেও তা কাজে আসছে না শুধুমাত্র সমন্বয়হীনতার কারণে। এ প্রজেক্টের সাথে যাত্রী, বাসচালক, ডিএমপি এবং সিটি করপোরেশন জড়িত। কিন্তু এদের কারও মধ্যে সমন্বয় নেই।

তিনি বলেন, কোন কোন যায়গায় স্টপেজ প্রয়োজন তা বিবেচান না করেই কাজ করা হয়েছে। বাসমালিক, চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট স্থানগুলোর সুবিধাজনক স্থানে স্টপেজ দিলে কাজে আসতো।

তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে যাত্রী ও বাসচালক- দু’পক্ষেরই সহযোগিতা দরকার বলে মনে করছেন তিনি।

ডিসি (ডিএমপি) এসএম মুরাদ আলী বলেন, সব স্টপেস নয় কিছু কিছু বাস স্টপেজে বাস থামে না। দীর্ঘ দিনের অনিয়মে অভ্যস্ত নগরবাসীকে নিয়মে ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে। বহুদিনের অভ্যাস, কালচারটা ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি দ্রুতই সবাই নিয়মের মধ্যে চলে আসবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে বাস থামানোর জন্য মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। স্টপেজ ছাড়া যারা অন্য জায়গায় দাঁড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম