logo

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ, ১৪২৪

header-ad

ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পাহাড় কেটে ১৫ কিলো রাস্তা বানালেন বাবা!

অন্যরকম খবর ডেস্ক | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৮

ভারতের বিহারের দশরথ মানঝির কথা মনে করিয়ে দেবে ওড়িশার জলন্ধর নায়েক। দশরথ মানঝির মতই অদম্য তার মনোবল। তার জোড়েই শুধুমাত্র ছেলেকে স্কুলে পাঠাবেন বলেই পাথুরে পাহাড় কেটে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি।

ওড়িশার এক প্রত্যন্ত জেলা কন্ধমাল, সেখানকার ছোট্ট গ্রাম গুমসাহিতে তার বাস। পাথুরে রুক্ষ জমি, অনুন্নত তার পরিবেশ। একটা কাঁচা রাস্তা পর্যন্ত নেই। শিক্ষার আলো পৌঁছনো তো দূর থাক দু'বেলা পেটের ভাত জোটাতেই হিমশিম খেতে হয় সেখানকার বাসিন্দাদের।

জলন্ধর নিজে পেশায় সবজি বিক্রেতা। অক্ষর তার কাছে কালো কয়েকটি রেখা মাত্র। পড়াশোনা করার কোনও সুযোগই জীবনে পাননি। তাই প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল ছেলেকে পড়াশোনা করাবেন।

যতদূর সে পড়তে চায় ততদূর পড়াবেন। কিন্তু গ্রামে তো স্কুল নেই। ছেলে পড়বে কোথায়। অনেক ভেবে উপায় বের করেন জলন্ধর। গ্রামের পাথুরে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

যেই ভাবা তেমনি কাজ। গত ২ বছর ধরে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ধরে পাথর কেটে রাস্তা তৈরির কাজ করেছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল হলেই ছেনি হাতুড়ি নিয়ে চলে যেতেন পাথুরে পাহাড়ের কাছে।

রোদ, বৃষ্টি, শীত কোনও কিছুর পরোয়া করেননি। অদম্য জেদে তার গ্রাম থেকে নিকটবর্তী শহর ফুলবনি পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। জলন্ধরেরে এই কৃতিত্বের কথা স্থানীয় একটি সংবাদ পত্রে পড়েন জেলার কালেক্টর।

তার পড়েই টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। তড়িঘড়ি জলন্ধরকে নিজের দপ্তরে ডেকে নিয়ে গিয়ে সম্মান জানান কালেক্টর। সেই সঙ্গে বিডিওকে নির্দেশ দেন রাস্তাটি যাতে ভালো করে নির্মাণ করা হয় তার ব্যবস্থা করতে।

ঘোষণা করা হয় কন্ধমাল উৎসবে বিশেষ সম্মান দেয়া হবে জলন্ধরকে। এখনও কী গ্রামের উন্নয়নের জন্য দশরথ মানঝি, জলন্ধর নায়েককেই এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গ্রাম উন্নয় প্রকল্প কবে কাজ করবে এমন প্রশ্নও উঠেছে। ‌
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম