logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

স্ত্রীর স্মৃতি ফেরাতে বিয়ের পিঁড়িতে বৃদ্ধ!

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৮

১০ বছর হয়ে গেল স্মৃতি হারিয়েছেন স্ত্রী। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সেই স্ত্রীর স্মৃতি ফেরাতে ফের বিবাহবাসর সাজালেন স্বামী। ৫৫-তম বিবাহবার্ষিকীর দিন রীতিমতো মালাবদল করে পুনরায় বিয়ের উদযাপনে মাতলেন পবিত্র চিত্ত নন্দী।

এদিকে আয়োজনের মধ্যে থেকেও আনমনা রইলেন বিয়ের কনে গীতা নন্দী। তবে তা নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন পবিত্রবাবু। তার একটাই লক্ষ্য বিয়ের মতো বিশেষ দিনের আয়োজনে ফিরে আসুক জীবনসঙ্গিনীর স্মৃতি। তাই তো আয়োজনের ত্রুটি রাখেননি দমদমের রবীন্দ্রনগরের এই বাসিন্দা। সকাল থেকেই আত্মীয় পরিজনের হইচইয়ে জমজমাট বিয়ে বাড়ি। সবাই এই অভিনব বিয়েতে উপস্থিত হতে পেরে দারুণ খুশি। সবার একটাই ইচ্ছে ফিরে আসুক গীতাদেবীর স্মৃতি।

তিনি কারও মামি, কারও পিসি কারও বা জা। সবার সঙ্গেই সম্পর্কের মধুর বাঁধনে আবদ্ধ হয়েও কেমন যেন দূরদ্বীপের বাসিন্দা গীতা নন্দী। ৫৫ বছরের দাম্পত্যে এভাবে স্ত্রীকে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও মন মানে না পবিত্রবাবুর। ফিরে পেতে চান দুজনের খুশির মুহূর্তগুলো। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে আশায় বুক বেঁধে ফের বিয়ের বাসর সাজিয়েছেন। সকাল সকাল স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন একগোছা লালগোলাপ। ব্যালকনিতে বসে নিজের হাতে লুচিও খাইয়ে দিলেন। শোবার ঘরের ফুলদানিতে শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা। বিয়ের কথা মাথায় রেখে খয়েরি পাঞ্জাবিতে নিজেকে বরবেশে সাজিয়েছেন পবিত্রবাবু।

গীতাদেবীর পরনেও নতুন শাড়ি। একেবারে রাঙা বউটি। ৫৫ বছর আগে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে সেই সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি পেলেও শুরুটা কিন্তু আরও বছর পাঁচেক আগেই হয়েছিল। ছাত্রজীবনেই দুজন দুজনের প্রেমে পড়েন। সময় যত এগিয়েছে ততই সেই বাঁধন শক্ত হয়েছে। তারপর শুভক্ষণ দেখে ৫৫ বছর আগে এই দিনেই চারহাত এক হয়েছিল। নতুনভাবে চারহাত এক করে সেই দিনেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান পবিত্র নন্দী। তাইতো বিয়ের কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ সেরেছেন। বাড়ির ছাদে চলছে রান্নাবান্না। জমিয়ে ভোজ হবে রাত্রে। মেনুতে রয়েছে গীতাদেবীর প্রিয় চিংড়ির মালাইকারি।

পিসি, পিসেমশাইকে ফের গল্পে মশগুল দেখতে চান গীতাদেবীর ভাইপো। তাই নিজে হাতেই বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সেরেছেন। বিয়ের কার্ডে লিখেছেন, আনন্দতার সুখ খুঁজে পায় মুখর ভালোবাসা। ফিরে আসুক ধ্বনি। প্রাণ পাক গীতাদেবীর মনের কথা। ব্যালকনিতে বসে লালগোলাপের গোছা হাতে তিনি যেন ফিরে গিয়েছেন ৫৫ বছর আগের এক সকালে। বৃদ্ধি, সানাইয়ের সুর, গায়ে হলুদের তত্ত্বের হইচইয়ে হারিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে নতুনভাবে পুরোনো বন্ধনকে ফিরে পেলেন দম্পতি। শীতের রোদ্দুর ব্যালকনির গ্রিল ছেড়ে গীতাদেবীর কোলে এসে পড়েছে। নির্বাক মুখে রোদ্দুরের ঝিলিক। ফের হাসিখুশির দাম্পত্যে ফিরুন নন্দী দম্পতি। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফ থেকেও রইল শুভেচ্ছা।

ফেমাসনিউজ২৪/আরএ/আরইউ