logo

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

যে গ্রামে ৪০০ বছর ধরে কোনো শিশুর জন্ম হয়নি!

অন্যরকম খবর ডেস্ক | আপডেট: ১১ মে ২০১৮

৪০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ কোনও সদ্যোজাত শিশুর কান্না শোনেননি। ভারতের মধ্যপ্রদেশের এই গ্রামের মহিলারা কোনও শিশুর জন্ম দেননি।

গ্রামবাসীদের ধারণা, গ্রামের ওপর কোনও ‘‌অভিশাপ’‌ রয়েছে এবং যদি কোনও মহিলা শিশুর জন্ম দেন তবে শিশুর বাবা, মা দু’‌জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হবে অথবা শিশুর কোনও অঙ্গের ক্ষতি হবে।

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে মাত্র ১৩০ কিমি দূরে অবস্থিত শঙ্কা শ্যাম জি গ্রামে হয়তো কোনও লিখিত আইন নেই। তবে এখানকার মহিলারা গ্রামের ভেতর শিশু জন্ম দেন না।

যদি কোনও মহিলা গর্ভবতী হন তবে গ্রামের বাইরে গিয়ে তারা শিশু জন্ম দেন। কারণ এ জন্য নাকি মা ও শিশু যাতে সুস্থ থাকবেন। কিন্তু গ্রামের মধ্যে গত ৪০০ বছরে কোনও শিশুর জন্ম হয়নি।

গ্রামের প্রধান নরেন্দ্র গুর্জার বলেন, গ্রামের ৯০ শতাংশ মহিলা গ্রামের বাইরে হাসপাতালে গিয়ে শিশুর জন্ম দেন। কিন্তু জরুরি অবস্থা হলে গ্রামের বাইরেই একটা ঘর বানানো হয়েছে, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলাদের।

এমনকী অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এ ঘরে গিয়ে মহিলারা শিশুর জন্ম দেন।

গ্রামবাসীরা জানান, গ্রামেরই এক মহিলা মন্দিরের নির্মাণকাজে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। গ্রামের বয়স্করা দাবি করেন, ষোড়শ শতাব্দীতে এ গ্রামে যখন মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছিল, তখন এক মহিলা সেই সময় গম ভাঙছিলেন।

গম ভাঙার আওয়াজ মন্দির নির্মাণের কাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ঈশ্বর গ্রামকে অভিশাপ দেন। অভিশাপ দেয়া হয় যে, গ্রামের কোনও মহিলা গ্রামের মধ্যে শিশু জন্ম দিতে পারবেন না।

এটা যে শুধুমাত্র তাদের অন্ধবিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয় তা গ্রামবাসী মানতে নারাজ। গ্রামবাসীরা জানান, যখনই এ গ্রামে কোনও শিশুর জন্ম হয়েছে তখনই নয় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে অথবা শিশুর কোনও অঙ্গের ক্ষতি হয়েছে।

এমনকী এ গ্রামে কেউ মদ্যপান করেন না, গ্রামে আমিষ ঢোকাও নিষেধ এবং তা ভগবানের নির্দেশেই।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম