logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

সাপের দাম ৭৫ লাখ!

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২৩ মে ২০১৮

দুই মুখওয়ালা সাপ! না, মীরজাফর টাইপের কোনো দুই নম্বরি স্বভাবের লোকের কথা বল হচ্ছে না এখানে। ঠিক ঠিক ‘দু-মুখো’ সাপেরই কাহিনি।

দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দুর্লভ এমন প্রাণী নিয়ে আছে অন্ধবিশ্বাস। অনেক মালয়েশীয় মনে করে যার কাছে এই সাপ থাকে তার ভাগ্যের দরজা খুলে যায়।

ভারতীয়দেরও অনেকে কুসংস্কারবশত মনে করে এই সাপ (রেড স্যান্ড বোয়া বা ইন্ডিয়ান স্যান্ড বোয়া) তার অধিকারীকে ভাগ্যবান করে। কোথাও কোথাও জাদুটোনায় ব্যবহার হয় এই প্রাণীটি। আবার বনাজি ঔষধেও এর প্রয়োগ আছে বিশেষ করে যৌনশক্তিবর্ধক বলে দাবি করা ঔষধে। বাজারে এমন গুজবও আছে যে এইডসের প্রতিষেধক তৈরি করা যায় এটা দিয়ে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি করা ওষুধেও এর প্রয়োগ রয়েছে। আর তাই চীন, ভারতসহ এশীয় কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক কালোবাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। 

তেমনি এক দু-মুখো সাপ (রেড স্যান্ড বোয়া) সম্প্রতি উদ্ধার হয়েছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের বরোদরায়। ৬০ লাখ রুপিতে (প্রায় ৭৫ লাখ টাকা) বিক্রি হচ্ছিল সাপটি। পুলিশ এ সময় বন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনের লোকজনের সহায়তায় চোরাচালানি চক্রের ৪ সদস্যসহ সাপটিকে উদ্ধার করে। আটক ব্যক্তিরা বন্যপ্রাণী চোরাচালানের আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি এনবিটির খবরে বলা হয়, বন্যপ্রাণীদের সেবায় কাজ করা গুজরাটের একটি সংস্থার কর্মকর্তা রাজেশ ভাবসার জানান, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে তাদের লোকজন ক্রেতা সেজে চোরকারবারিদের সঙ্গে দেখা করে। সাপটির দরদাম ঠিক হয় ৬০ লাখ রুপি। এরপর ধূর্ত চোরাকারবারিরা তাদের কয়েকবার গোলকধাঁধাাঁয় ঘুরপাক খাইয়ে দেখা দেয়। প্রথমে তারা ফতেহগঞ্জের একটি ঠিকানা দেয়। 'ক্রেতা দল'টি সেখানে যাওয়ার পর সেলফোনে বলা হয় অমিতনগরের অপর একটি ঠিকানায় যেতে। 

শেষতক এক সন্ধ্যায় তাদের সাপসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। উদ্ধার করা সাপটি লম্বায় চার ফিট, ওজন সাড়ে তিন কেজি- এ ধরনের সাপের ক্ষেত্রে বেশ বড়ই বলতে হয়।

ভারতীয় আইন মোতাবেক, দেশটিতে কেউ যদি দুর্লভ এই সাপের সন্ধান পায় তবে তা দ্রুত স্থানীয় বন বিভাগে জানাবে। এর অন্যথা করাটা বেআইনি। ডিমের বদলে শাবক প্রসবকারী নির্বিষ এই সাপ ভারত, পাকিস্তান ও ইরানে দেখা যায়, তবে খুব দুর্লভ। মেটে, লালচে ও বাদামি রঙের এই সরিসৃপের মাথা খুব ছোট হয়। ইঁদুরজাতীয় প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে। ভারতের চোরাবাজারে এই সাপ এক কোটি রুপিতেও বিক্রি হয় বলে ইন্ডিয়া.কম জানায়।

দুমুখো সাপ আসলে ইন্ডিয়ান রেড বোয়া জাতীয় সাপের লেজ দেখতে এর মাথার মতোই প্রায়। তবে কোনোমতেই এটা দ্বিতীয় মস্তক নয়। মূলত শিকারিদের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিকভাবে প্রাণীটি এই বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মুখের মতো দেখতে লেজটাও এর আরেকটি মাথা বলে ভ্রান্তি বিলাসে ভোগে অনেকে। 

অপরদিকে, দুইমাথাওয়ালা সাপ কিন্তু বিরল নয়। প্রকৃতিতে অস্বাভাবিক হলেও এমন সাপ মাঝেমধ্যে দেখা মেলে। তবে এ ধরনের সাপের দুটি মাথা-ই একদিকে থাকে অর্থাৎ সাপের শরীরের যেখানে মাথা থাকার কথা তার পাশ দিয়ে আরেকটি মাথা থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুইমাথাওয়ালা র‌্যাটল স্নেক, চীনে দুই মাথাওয়ালা গোখরো সাপ দেখা গেছে যা মিডিয়ায় শোরগোল তুলেছে ব্যাপক। মালয়েশিয়াতেও একাধিক মাথার সাপ দেখা যায়। জন্মগত ত্রুটি বা জিনগত ত্রুটির কারণেই এমনটি ঘটে বলে ধারণা করা হয়। তবে ভারতীয় রেড বোয়া মোটেই দুইমাথা বা দুই মুখওয়ালা সাপ নয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ