logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

৫ টাকায় পেটপুরে খাবার! পেছনের কারিগর কারা?

অন্যরকম ডেস্ক | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৮

মূল্য মাত্র পাঁচ টাকা। ডাল, তরকারি, আমড়ার টক, পায়েস ও রকমারি খাওয়া দাওয়া! আয়োজক ‘তরুণের আহবান’ ক্লাব। প্রতি শনিবার রামপুরহাট হাসপাতাল চত্বরে এমন খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।

এদিকে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিকটজনেরা, যাদের চালু নাম ‘পেশেন্ট পার্টি’ তারা এমন আয়োজনে দারুণ খুশি।

আয়োজকদের দাবি, আপাতত সপ্তাহে একদিন হলেও খুব শিগগিরি তারা রোববারেও এ আয়োজন করবেন। তার পরে সপ্তাহের অন্য দিনের কথাও ভাবা হবে। কিন্তু কেন এমন আয়োজন?

প্রধান আয়োজক কৃশ চৌধুরী জানান, অসুস্থ খালাকে দেখতে গিয়েই তিনি আচমকাই একটি অভিজ্ঞতার সামনে পড়েন। তিনি দেখেন রোগীকে দেখতে আসা লোকেদের সামান্য লুচি, মিষ্টি ইত্যাদি খরচ করতে গিয়েই ২৫০ টাকার মতো খরচ হয়ে যায়! কৃশ অনুভব করেন, তিনি আর্থিকভাবে ওই খরচ বহন করতে সক্ষম হলেও অনেকেরই তো অসুবিধা হবে।

এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন কিছু করতে হবে। অভিজিৎ সাহা, প্রীতম ভকত, শুভম প্রসাদ, নগেন্দ্র চৌধুরী, অরিজিৎ সাহা, তন্ময় সাহা, নিশান মিত্র— একের পর এক বন্ধু দাঁড়িয়ে গেলেন সঙ্গে। ব্যাস শুরু হয়ে গেল। পরিবেশন করতে এগিয়ে এলেন এলাকার গৃহবধূরা।

কৃশের সাফ বক্তব্য, ‘একে তো অসুস্থ মানুষটার চিকিৎসা করতে বাড়ির লোক জেরবার। তার ওপর নিত্য লেগেই থাকে জ্ঞাতি-বন্ধু-পরিজনদের আসা-যাওয়া। তাদের আপ্যায়ন করতে হয়ে যায় বাড়তি খরচ। ওই পরিস্থিতিতে ওই খরচটুকুও সত্যিই কষ্টদায়ক। সপ্তাহে অন্তত একদিন যে তাদের সেই কষ্ট খানিকটা লাঘব করতে পারছি, তাতেই আমরা খুশি।’

কিন্তু পাঁচ টাকা কেন? বিনামূল্যেই তো করতে পারতেন!

কৃশ হেসে বলেন, ‘আসলে কী জানেন, খরচ করে খেতে গেলে কারও আত্মসম্মানে লাগে না। বিনামূল্যে হলেই তখন লোকের কেমন যেন ব্যাপারটা ভালো লাগত না। তাই ওই টাকাটুকু নেয়া।’ এ নিয়ে চারটি শনিবার পার হলো কৃশদের এ কর্মকাণ্ডের।

এদিকে যুবকদের এমন কাজে খুশি এলাকাবাসী। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা কেই চাল, কেউ বা ডাল বা অন্যান্য আনাজপাতির খরচ দিতে ইচ্ছুক। কৃশ আশাবাদী, সবাই পাশে থাকলে এই কাজকে তারা অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, এমন উদ্যোগ যার মস্তিষ্কপ্রসূত, তিনি আগেও এমন কাজ করেছেন। শিবরাত্রিতে গরিব বাচ্চাদের ডেকে ১০০ লিটার দুধ খাওয়ানো (সঙ্গে ছিল বিস্কুটও) থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোয় একটি আদিবাসী স্কুলে গিয়ে সেখানকার বাচ্চাদের জন্য ভোজের আয়োজন করা। কেবল ভোজই নয়, ছিল বই-খাতা-পেন-পেনসিল-ইরেজারের উপহারও।

তাও এক বছরের ব্যবহার করার মতো অঢেল! এরপর নিজের বউভাতে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের এই স্কুলের ৪০ জন সদস্য ও সংস্থার কর্মীদের জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন। কৃশের নতুন স্বপ্ন, বন্ধুদের সঙ্গে মিলে এই কাজটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি