logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

খাঁচা খুলে উড়িয়ে দিলেন সাধের টিয়া!

অন্যরকম ডেস্ক | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ধোঁয়ায় ভরে উঠেছে ছাদ। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল ‘সিংজি’র। সিঁড়ির দিকে পা বাড়ানোর আগেই দেখলেন খাঁচার ভেতর কষ্টে ছটফট করছে আদরের পোষা পাখিটা।

মনে হলো যদি আগুন গ্রাস করে তাদের ঘরগুলোকে। তারা না হয় পালিয়ে বাঁচলেন। কিন্তু খাঁচার পাখি যে বাঁচবে না। খাঁচার দরজা খুলে সাধের টিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলেন এম কে সিং। রাতের অন্ধকারেই মিলিয়ে গেল পোষা পাখিটি।

ভারতের বাগরি মার্কেটের বিশালাকার ছাদের একপাশে সার দিয়ে বাঁধা ঘর। আবাসন বললেই চলে। তাতে প্রায় কুড়িটি পরিবারের বাস। পরিবারের লোকেদের কেউ বাগরি মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষী, কেউ বা লিফটম্যান, কেউ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। গভীর রাতে ঘুমে মগ্ন তারা। এর মধ্যেই পোড়া গন্ধ নাকে আসতে ঘুম ভেঙে যায় ব্রিজেশ সিংয়ের।

ঘর থেকে বেরিয়ে মন্দিরের কাছে গিয়ে দেখেন নিচ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। ততক্ষণে নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে চিৎকার। ব্রিজেশেরই প্রতিবেশী অশোক তিওয়ারি, রামেশ্বর তিওয়ারিরা চিৎকার করতে করতে উপরে উঠছেন।

অসুস্থ ব্রিজেশের আর বোঝার কিছু ছিল না। তিনি চিৎকার করে সতর্ক করতে শুরু করেন প্রতিবেশীদের। রাত পৌনে ৩টার সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন প্রায় ২০টি পরিবার। ততক্ষণে অশোক, রামেশ্বররা উঠে এসেছেন ছাদে। চিৎকার করে তারা খালি হতে বলছেন প্রত্যেককে। সেই চিৎকার শুনে কাঁচা ঘুম ভেঙে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন অন্যরাও।

কয়েকজন বাসিন্দা দেখেন, আগুনের শিখা উঠছে ছাদের দিকে। আতঙ্ক ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি। নামার জন্য পড়ে যায় হুড়োহুড়ি। আতঙ্ক এতটাই যে, অনেকে দরজা বন্ধ করার সময়টুকুও পাননি। খালি পায়েই দৌড় লাগিয়েছেন কয়েকজন।

মন্দিরের সামনে দিয়ে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তাদের নাকে আসে পোড়া গন্ধ। বুঝতে পারছিলেন না, সামনের সিঁড়ি দিয়ে নামলে মহিলা ও শিশুদের নিয়ে কোনো বিপদের সামনে পড়বেন কি না। তাই ছাদের অন্য প্রান্তের সিঁড়ি দিয়ে অন্ধকারের মধ্যে নেমে বাইরে এসে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তারা। বেরিয়ে না হয় এলেন, কিন্তু মাথা গুঁজবেন কোথায়? কারও সারাদিন কেটেছে ফুটপাথে ঘুরে।

আবার কেউ চলে গেছেন আত্মীয় বাড়িতে। জামাকাপড় গুছিয়ে নেয়ার সময় পাননি অনেকে। আবার ছাত্রছাত্রীরা সঙ্গে নিতে পারেনি স্কুলের বইখাতা। এখনও বাসস্থান নিয়ে অনিশ্চিত তারা। অগ্নিদগ্ধ বাড়িটিতে আর তারা থাকতে পারবেন কি না সন্দেহ।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি