logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

এই শিশুদের ভিডিওটি না দেখলেই মিস করবেন!

অন্যরকম ডেস্ক | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাতিমা মাসুদ। দুই বছরের শিশু। মুখে ঠিক করে কথা ফেটেনি। কিন্তু ইসলাম ধর্ম প্রসঙ্গে যে প্রশ্নই তাকে করা হচ্ছে, অনর্গল উত্তর দিয়ে যাচ্ছে এ খুদে জ্ঞানী।

আবার সব উত্তরই ঠিকঠাক দিয়ে যাচ্ছে শিশুটি। প্রশ্নগুলো করছে তারই বড় বোন মারইয়াম মাসুদ। ফাতিমার প্রতিটি উত্তরই জানিয়ে দিচ্ছে এ বয়সেই নিজের ধর্মের ব্যাপারে কতকিছু জেনে গেছে সে, যা অনেক বয়স্ক মুসলিমও ভালো করে জানেন না।

সামাজিক মাধ্যমে এ ভিডিওটি এখন বেশ ভাইরাল। ফেসবুকে ইতোমধ্যে ভিডিওটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার বার দেখা হয়ে গেছে। প্রশংসার কমেন্টে ভাসছে এ দুই বোন। মারইয়াম ও তার ছোট্ট বোন ফাতিমাকে দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন, এ ধরনের চর্চার মাধ্যমে শিশুরা নৈতিক শিক্ষা লাভ করবে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিভা বিকাশের পথ প্রশস্থ হবে। কেউ বলছেন, প্রত্যেক মুসলিম পরিবারের শিশুদের এমন চর্চা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছর পরে এ দেশের সামাজিক চিত্র রূপকথার মতোই হবে।

মুসলিম জাতি হিসেবে সব বাবা-মায়ের উচিত এভাবে ইসলামিক শিক্ষা দিয়ে বাচ্চাদের গড়ে তোলা মন্তব্য করে এই দুই বোনকে উদাহরণ হিসেবে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অনেকে। অনেকে লিখেছেন, এ সহোদরের মতো সন্তানের বাব-মা হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

ভিডিওটির প্রথমে দেখা যায়, মারইয়াম তার দুই বছর বয়সী বোনকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এটাই ফাতিমার প্রথম সাক্ষাৎকার উল্লেখ করে মারইয়াম ফাতিমাকে প্রথম প্রশ্ন করে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা কয়জন? কোনো সময় না নিয়েই ফাতিমা উত্তর দেয়- একজন।

দ্বিতীয় প্রশ্ন- আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি? আলকোর আন কার প্রেরিত? সবকিছু কে সৃষ্টি করেছেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে ফাতিমা জানায়- আল্লাহ দ্য অলমাইটি (সর্বশক্তিমান আল্লাহ)। ফাতিমার ধর্মের নাম ইসলাম, ইসলাম অর্থ শান্তি, নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নাম সবই ভালো করে জানা দুবছরের ফাতিমার।

ইসলামের পাঁচটি ভিত্তি সম্পর্কেও জ্ঞান রাখে ফাতিমা। ঠিক করে কথা না বলতে শেখা ফাতিমা কালিমা তাইয়্যেবা, ঘুমাতে যাবার দোয়া ও জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া শিখে ফেলেছে। বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ কখন বলতে হয়, তা জানে শিশুটি।

রমজান মাসে রোজা রাখার ব্যাপারেও জ্ঞান রাখে ফাতিমা। এ সাক্ষাৎকারের শেষদিকে আলকোর আনের সবচেয়ে ছোট সুরা আলকাওসার পুরোটা পাঠ করে শুনায় ফাতিমা।

ভিডিওটি এখানে-

জানা যায়, সম্প্রতি মারইয়াম মাসুদকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা টেলিভিশন। সেখানে বলা হয়, মাত্র নয় বছর বয়সে হাফেজে কোরআন হয়েছে মারইয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে শিশু মারইয়াম ও ফাতিমা।

বাংলাদেশের বগুড়া জেলা শহরের জলেশ্বরীতলায় মারইয়ামের বাবার বাড়ি। শিশু বয়সেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মারইয়াম। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই শিশুটি এখন একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার। ইউটউবে মারইয়ামের ভিডিওগুলো ৭ কোটি ১০ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র তথা সারাবিশ্বে মুসলিম শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইসলামি শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখছে মারইয়াম। ইউটিউব চ্যানেলে মারইয়াম কোটি কোটি মুসলিম শিশুকে আরবি পড়তে ও লিখতে শেখাচ্ছে।

মারইয়াম জানায়, ‘আমি তরুণ প্রজন্মকে কোরআন শিখতে ও পড়তে উৎসাহিত করতে চাই। তাদের উচিত ছোটবেলা থেকেই কোরআন পড়া এবং কোরআন মোতাবেক জীবন গড়া। এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে আমি ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছি।’

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি