logo

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad

যেখানে প্রতিদিন গাছে ওঠে হাজিরা দেন শিক্ষকরা!

অন্যরকম খবর ডেস্ক | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৮

চাকরি বহাল রাখতে অভিনব পদক্ষেপ। হাজিরা নথিভুক্ত করতে ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য গাছে চড়তে হয় স্কুলশিক্ষকদের।

প্রতি সকালে ভারতের ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার সোহরি খাস গ্রামের সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গাছে চড়তে হয়। স্কুলের উঠোনে বেড়ে ওঠা পলাশ গাছের ডাল বেয়ে তারা রোজ ওঠেন। কর্তৃপক্ষের দেয়া ট্যাবলেটে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দিতেই তাদের এ পদক্ষেপ।

জানা গেছে, অতি দুর্বল ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে এমনই অভিনব পদ্ধতি তাদের অনুসরণ করতে হচ্ছে।

স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক অর্পণ কুমার গুপ্তা জানিয়েছেন, আমাদের স্কুল চত্বরে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। গাছে উঠলে তবু অতি দুর্বল ২জি ইন্টারনেট পরিষেবা মেলে। তা-ও বিশেষ ভরসার নয়।

জানা গেছে, শিক্ষকদের সবারই বয়স কুড়ি অথবা চল্লিশের কোঠায়। তবে তাদের প্রত্যেকেই রোজ গাছে চড়তে পারেন না। তারা বিকল্প উপায় অবলম্বন তরে হাজিরা নথিভুক্ত করেন।

গুপ্তা জানিয়েছেন, ট্যাবলেটে ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া না গেলে আমরা হাজিরার রেজিস্টারে সই করি। উপস্থিতি প্রমাণের কিছু ব্যবস্থা তো থাকবে!

এ সমস্যার মুখোমুখি শুধু এইস্কুলের শিক্ষকদেরই হতে হচ্ছে না, উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খণ্ডজুড়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে একাধিক স্কুলে শিক্ষক ও কর্মীদের হাজিরা নথিভুক্ত করার ব্যাপারে বিভ্রাট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোর অভাবে ডিজিটাল সংযোগের সমস্যা রয়ে গেছে।

২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী রঘুবীর দাস প্রবর্তিত জ্ঞানোদয় প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি সরকারি স্কুলে হাজিরার জন্য ট্যাবলেট বণ্টন করে প্রশাসন। ডিভাইসগুলিতে ই-বিদ্যা বাহিনী অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা ছিল। এ অ্যাপের সাহায্যেই নিয়মিত শিক্ষকদের বায়োমে্রিক হাজিরা নথিভুক্ত হয়। পাশাপাশি হিসাব পাওয়া যায় স্কুলে ভর্তি ও স্কুলছুটের সংখ্যা।

শুধু তাই নয়, এ অ্যাপের মাধ্যমে ছাত্রদের বার্ষিক রিপোর্ট, শিক্ষাগত অগ্রগতি এবং স্কুল পরিদর্শনের খতিয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। এর পরে মিড ডে মিলের হিসাব রাখতে নতুন একটি অ্যাপও চালু করে সরকার। ৮০০ ছাত্রের সোহরি খাসের স্কুলটি ট্যাবলেট পায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর।

যে সমস্ত স্কুলে ছাত্র সংখ্যা ২০১ থেকে ১০০০, তাদের দুটি ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। যেসব স্কুলের ছাত্র সংখ্যা ১০০১ থেকে ২০০-এর মধ্যে, তাদের ৩টি এবং যাদের ছাত্র সংখ্যা ২০০০ তাদের ৪টি ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের ৩৫,০০০ যোগ্য স্কুলের মধ্যে এর মধ্যে ট্যাবলেট পেয়েছে ২০,০০০ এর বেশি স্কুল। কিন্তু প্রকল্পের গতিপথ রোধ করেছে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম