logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

রান্নাঘর বাংলাদেশে, শোয়ার ঘর ভারতে!

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর প্রতিনিধি | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৮

একটি পাড়া, দুটি দেশ। পাড়ার অর্ধেক বাংলাদেশের বাঘমাড়া। অন্যটা ভারতের হাড়িপুকুর। কিন্তু দুই পাড়ার মাটি, মানুষ, ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি সবই এক। শুধু ওরা ভারতীয় আর আমরা বাংলাদেশি। দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে রয়েছে এ আজবপাড়া।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে মাত্র অর্ধ কিলোমিটার উত্তরে এই সীমান্ত গ্রাম। গ্রামের মাঝপথে রয়েছে মাত্র কয়েকটি সীমানা পিলার। শুধু আছে দু’পারে উর্দিধারীদের অবিশ্বাসের চোখ রাঙানি। দু’পারেই রয়েছে সীমান্ত পাহারারত অস্ত্রঘাড়ে পোশাকধারী বিজিবি-বিএসএফ।

সীমান্ত পারাপারের নেই কোনো উপায়, এর মাঝে উভয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হুংকার। বিজিবি বলছে, আর এগুবে না। ওরা যতই মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক না কেন, সেটা উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপার। লেবেল ক্রসিং পেরুলেই গুলি ছুঁড়বে ওরা। কী অদ্ভুদ, ওদের আর আমাদের মাঝে হাস্যকর বিভাজন।

নিরাপত্তা চোখ বেষ্টনী ভেঙে ওপার থেকে এল বৃদ্ধ মহিতোষ বিশ্বাস। তার সাথে আলাপকালে বললেন, মনে আছে ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ওই যে দেখছো হিলি স্টেশন, ওখান থেকেই ট্রেনে চড়ে বেশ ক’বার শেয়ালদহ গিয়েছিলাম। সকাল ৭ টায় ট্রেন ছিল। বাবা কতবারই না কলতাকা গিয়ে বাজার-টাজার করে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন, রানাঘাট-দর্শনা হয়ে পদ্মা পেরিয়ে রাজশাহী হয়ে দিনাজপুরের হিলিতে আসতেন।

তখনতো আর এত জোরে ট্রেন চলতো না! তবু ৬/৭ ঘণ্টার মাঝেই কলকাতা চলে যাওয়া যেত। এখনতো আর সেই অবস্থা নেই? চোখের পলকে দ্রুত পালিয়ে যায় ট্রেন। আবারও যদি চলতো দার্জিলিং ও আসাম মেইল, বেঁচে থাকতেই আর একবার না হয় চড়তাম।

এত কথার ফাঁকে কানে এল ঝমঝম আওয়াজ, ওই যে চলে গেল চোখের পলকে ট্রেনটি, উত্তরের পার্বতীপুর-চিলাহাটির দিকে! এপারে পান বিড়ির দোকান দিয়ে বসে আছেন দোকানি। ওপার আর এপার সীমান্তে কি হচ্ছে আর না হচ্ছে, সবকিছুই তার নখদর্পনে।

ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর। দেশ ভাগের পর দিনাজপুর হলো দু’ভাগ, হিলিও হলো দু’ভাগ। সাথে হাড়িপুকুর গ্রামটিও হলো দু’ভাগ। মৌজাটা যে রয়েছে সেটাও দু’ভাগ। ১০ বছর আগে ছিল ৮০/৯০ টি পরিবার। এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭শ' পরিবার।

স্থানীয় ভাষাই বলা হয়, না- এপার- না ওপার। ওদের কারো শোয়ার ঘর ভারতে, রান্নাঘর বাংলাদেশে। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের জন্য রয়েছে মন্দির, মুসলমান ধর্মাম্বলীদের জন্য রয়েছে মসজিদ। মসজিদটি বাংলাদেশের সীমানায় হলেও ভারত সীমানা মাড়িয়েই যেতে হয় মসজিদে। যেন ওরা সবকিছু সীমান্ত আইনের বাধ্যবাদকতা সবকিছু ভুলে একে অপরে আষ্টেপৃষ্টে এভাবেই চলে আসছে ৬৬ বছর ধরে। এপারেও হিলি ওপারেও হিলি।

পান বিড়ি দোকানি বললেন, সন্ধ্যে হলেই এখানে শুরু হয় হরেক রকম ব্যবসা। এখানে নেশাজাতীয় থেকে ভারতীয় শাড়িসহ নানা রকম প্রসাধনী সামগ্রী ও পণ্য পাওয়া যায়। বসে চোরাকারবারীদের হাট। সীমান্তরক্ষীদের টাকা না দিলেও দিতে হয় সিন্ডিকেটদের!
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এফএম/এমএম