logo

শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৫

header-ad

এক লটারিই ডেকে আনল সর্বনাশ!

অন্যরকম ডেস্ক | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

২০০২ সালের ঘটনা। শীতের সকালে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন রেন্ট-এ-কারের কর্মচারী আজিজ মোল্লা। কথায় কথায় বন্ধুর অনুরোধে ১০০ টাকা দিয়ে কিনে ফেলেন লটারি।

পরদিনই ছিল লটারির ড্র। আর একদিনের ব্যবধানেই আজিজ বনে গেলেন কোটিপতি। তবে রাতারাতি রাজা হয়ে যাওয়ার মূল্য ঠিক বুঝলেন না এই সাধারণ ঘরের ছেলে।

কপাল ফেরেনি তার। আবার দারিদ্র্য ঘিরে ধরল তাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদের মুরারিশা গ্রামের বাসিন্দা আজিজ মোল্লার জীবনে এ ঘটনা ঘটে।

লটারিতে দেড় কোটি টাকার পুরস্কার পান আজিজ মোল্লা। রাতারাতি স্থানীয় সেলিব্রেটিতে পরিণত হন। তাকে একনজরে দেখতে ছুটে আসতে শুরু করেন মানুষ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, পুরস্কারে প্রাপ্ত টাকায় আজিজ মোটরবাইক, বাস, গাড়ি ও বাড়ির জন্য নতুন আসবাব কেনেন। এরই মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াত শুরু হয় তার।

বিলাসী জীবনে মেতে ওঠেন তিনি। তবে এসব নেশার মধ্যে সবচেয়ে বড় নেশা হয়ে ওঠে সেই লটারি। লটারির প্রতি আজিজের এতটাই আকর্ষণ বেড়ে যায়- প্রতিদিনই হাজারখানেক টাকার লটারি কিনতেন আজিজ।

এভাবে কয়েক মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার লটারি কেনেন আজিজ। তবে আর কোনো লটারিই সেই চায়ের দোকানে বসে কেনা লটারিটির মতো ভাগ্যময় হয়ে ওঠেনি।

এভাবেই লটারিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও আমুদে জীবন উড়ন্ত আজিজকে আবার মাটিতে নামিয়ে আনে। বছরখানেকের মধ্যে পুরস্কারের সব টাকা শেষ হয়ে যায় আজিজের। জমানো টাকা, মোটরবাইক, বাস, স্ত্রীর অলঙ্কার সবই বিক্রি করতে হয়।

বর্তমানে সংসার চালাতে একসময়ের কোটিপতি আজিজ স্ত্রীর অর্থে দিনযাপন করছেন। তিন সন্তানের খোরাক জোগাতে স্ত্রী সাফিনুর বিবি স্থানীয় তামাক কারখানায় বিড়ি বাঁধেন এখন।

সাফিনুর বিবি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ও যখন গাড়িতে কাজ করত আর আমি বিড়ি বাঁধতাম। সংসার বেশ চলে যাচ্ছিল। এই লটারিই সর্বনাশ ডেকে আনল আমাদের।’

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি