logo

বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

এই মেয়ে একাই ১০০!

অন্যরকম খবর ডেস্ক | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

একলা, একেবারে একলা বেড়াতে বেড়াতে দুনিয়ার ১০০টা দেশ ঘুরে ফেলেছেন খুলনার মেয়ে আসমা। বারো বছর আগে ঢাকার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু। তারপর ভারত আর নেপাল। ততদিনে বিশ্বদর্শনের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছে। সাহসী আসমা কিন্তু থেমে থাকেননি।

বাড়ি থেকে পিছুটান আসেনি, বললে ভুল হবে। মেয়েরা এসব পারে না, প্রতিবেশী-স্বজনদের টিপ্পনী জেদটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর একলা চলা আর চলা কাজী আসমা আজমেরীর।

অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ ঘুরেছেন হিচ হাইক করে— ট্রাক, মোটরগাড়ি বা যে যানবাহন যখন জুটেছে, তাতে করেই। ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ভিড়ে। হন্ডুরাসের ইউটিলার সৈকতে ক্যারিবীয় সাগরে পা ভিজিয়ে ভেবেছেন— দুনিয়ার সব সৈকত কেন এত সুন্দর হয় না!

লরিতে দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিয়ে তারপর ১২ মাইল ধুলো ওড়ানো পথ হেঁটে পৌঁছে যান বলিভিয়ার ভালেগ্রান্দেতে। প্রত্যন্ত এ গ্রামের স্কুলে গুলি করে মারা হয়েছিল চে গেভারাকে।

ফিজি, অস্ট্রেলিয়া হয়ে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে বড় সুন্দর লেগেছিল দেশটিকে। কাজও জুটে গেল সেখানকার রেড ক্রশে। এখন বছর দেড়েক টানা কাজ করেন সেখানে আর অস্ট্রেলিয়ার পারথে। তারপর ৪ মাস বেড়ানো, এক মাস বাংলাদেশে গিয়ে বাবা-মা আর ভাইয়ের সঙ্গে থাকা।

ইউরোপীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল তার, কিন্তু নেননি। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সন্তান তিনি। বাংলাদেশের পাসপোর্টই রেখেছেন, সেই পাসপোর্টেই দেশ-বিদেশ ঘুরছেন। বিপাকেও পড়তে হয়েছে। ভিয়েতনামে ঢোকার পর ফিরতি বিমান টিকিট দেখতে চাওয়া হয়। অথচ কথা ছিল সড়ক পথে কাম্বোডিয়া যাবেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট বলেই যে অভিবাসন কর্তারা কানে কথা তুলছেন না, বিলক্ষণ বুঝেছিলেন।

ঠাঁই হল জেলে। ২৪ ঘণ্টা পর গলাধাক্কা দিয়ে ফেরত। তুরস্ক থেকে টুরিস্ট বোটে সাইপ্রাস যাওয়ার পরও আসমাকেই বেছে আলাদা করা হল। তিনি যে থেকে যাবেন না, নিশ্চয়তা কী? সে বারও ডিপোর্ট করার আগে ২৭ ঘণ্টার জেল। তবু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়েননি আসমা।

তিনি বলেন, কলকাতা আবার বিদেশ নাকি! এত বন্ধু মানুষ, নিজের ভাষায় কথা বলা। মার্চে আবার বেরিয়ে পড়া তানজানিয়া, কেনিয়া আর ইথিওপিয়া। সব চেয়ে সুন্দর দেশ?

বেড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ দেশান্তরের বিপদ নিয়েও প্রচার করেন আসমা। সারা জীবনের সঞ্চয় বাজি রেখে বেআইনিভাবে অন্য দেশে পাড়ি জমানো যে প্রাণঘাতী হতে পারে, দালালরা সে কথা বলে না। বিপন্ন মানুষদের ভয়ানক সব অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে আসমা সাবধান করেন সবাইকে।

বাংলাদেশে বন্ধুদের বলেন, বেরিয়ে পড়ো। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাইরেও যে কী সুন্দর একটা পৃথিবী রয়েছে দেখো। সভ্যতা, জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাসে কত বৈচিত্র, কত আনন্দ। যেখানে যান, সেখানকার খাবার চেখে দেখেন আসমা। ঘোড়ার মাংসের ঝাল চচ্চড়ি, কুমিরের ডালনা, হাঁসের রক্তের বরফি।

বিয়ের জন্য চাপ আসায় বাড়িতে বলেছিলেন, ৫০টা দেশ দেখে তবেই বিয়ে। ২০১৪-এ ব্রাজিলে পা রাখতেই ৫০ পূর্ণ হয়। গত অক্টোবরে তুর্কমেনিস্তানে ১০০। শুধু বিয়েটা এখনও করা হয়ে ওঠেনি বছর ৩৩-এর আসমার। তবে করবেন। তাই বাদ রেখেছেন সুইজারল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডসকে। ভেবে রেখেছেন, বরকে সঙ্গে নিয়েই তিনি যাবেন ওই দুই স্বপ্নের দেশে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম