logo

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad
বাজারজুড়ে বাংলাদেশের রানার, ওয়ালটন, প্রাণ ও হাতিল যাত্রীপরিবহনে এগিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

হিমালয়কন্যা নেপালের বুকজুড়ে বাংলাদেশি পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা

নেপাল থেকে ফিরে শফিউল্লাহ সুমন | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশের প্যাকেট খাবার, ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে নেপালে। পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলপথে ভারতের সাথে জটিলতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। আর নেপালের সাবেক শিল্পমন্ত্রী মহেশ বাসনেত বললেন, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে নতুন সরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয়কন্যা নেপাল। পাহাড় ঘেরা দেশটির গোটা অর্থনীতিই আমদানিনির্ভর। বাজারটি এতোদিন ভারতের দখলে থাকলেও গত কয়েক বছরে সেখানে ভাগ বসিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বাজারে খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, ফার্নিচার ও ওষুধ যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। ইতোমধ্যেই ৭৮ ধরনের পণ্য রফতানি হচ্ছে দেশটিতে। গত চার বছরে রফতানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় চার গুণ। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত চার বছর আগেও নেপালে রফতানির পরিমাণ ছিল সামান্য। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।

নেপালের বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ এক কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে রফতানি করেছে এক কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ২ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করার বিপরীতে আমদানি করে এক কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য। গতবছর ৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করে। আর আমদানি করে এক কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য।

রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে স্থলপথে পণ্য রপ্তানিতে অনেক জটিলতা ও ঝামেলা রয়েছে। ভারতের ভেতর দিয়ে পণ্য যাতায়াতে ভারত ঝামেলা সৃষ্টি করে। কিন্তু এ ধারণা একেবারেই ভুল। বাংলাবান্ধায় নেপালের ওয়্যার হাউস আছে। সেখান থেকে সরাসরি কাঠমান্ডুতে পণ্য চলে আসতে পারে। মাঝে ভারতে কোনো চেকআপ করা হয় না। তিনি আরও বলেন, আরেকটি ধারণা রয়েছে বাংলাদেশিদের মধ্যে। সেটি হলো নেপালের মানুষের মাথাপিছু আয় কম। সুতরাং এখানে ব্যবসা ভালো হবে না। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, নেপালিরা শৌখিন জীবনযাপন করেন। তারা ভালো পণ্য কেনে।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে নেপালে সফররত মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইল জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (মিয়াজাব) সঙ্গে বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস আরও বলেন, দেশটি শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ পণ্য আসে ভারত থেকে। বাকিটা চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে । সুতরাং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য এখানে বিশাল সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় নেপালীদের কাছে ব্রান্ড বাংলাদেশের চাহিদা গত দু’বছরে অনেক বেড়েছে।

নেপালের নিউ বানেশ্বর রোডে বাংলাদেশি পণ্য ওয়ালটনের শো-রুমে সোল ডিসটিবিউটর রিডা ইন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরফরাজ আনসারী বলেন, দিন দিন বাড়ছে ওয়ালটন পণ্যের চাহিদা। নেপালে ওয়ালটনের ২০০ এজেন্ট রয়েছে। রিডা ইন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওশাবা আনসারী বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখছে আপনাদের দেশের পণ্য। ফলে ব্যাপক সাড়া মিলছে।

রাজধানী কাঠমান্ডুর রিংরোডে রানারের শো-রুমে রমণ মোটরসের প্রধান নির্বাহী রমণ মেহতার বলেন, মোটর বাইকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে নেপালে। ছয় মাসের মধ্যে নেপালের বিভিন্ন অংশে রানার মোটরসাইকেলের ২০টি বিক্রয় ও সেবাকেন্দ্র হবে।

পর্যটন খাত ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে নেপালের জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। প্রতিবছর অন্তত ২৫ হাজার বাংলাদেশী নেপালে ঘুরতে যান। বর্তমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থেকে সপ্তাহের প্রতিদিন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহন করা হয়। ১৬২ আসনবিশিষ্ট এ উড়োজাহাজে ১২টি বিজনেস ক্লাস ও ১৫০ ইকোনমি ক্লাসের আসন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সর মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ইতোমধ্যে নেপালে পথ চলার ৪৩ বছর অতিক্রম করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাই্ন্স। আগামী দিনগুলোয়ও সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে সচেষ্ট থাকবে বিমান। শাকিল মেরাজ আরো বলেন, পর্যটনের পাশাপাশি নেপালের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহৎ খাত জনশক্তি রফতানি। এর বৃদ্ধিতে বিমানের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

নেপালের ট্যুরিজম প্রসঙ্গে ঢাকার লাইট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরুল কায়েস ইমন বলেন, শীত মৌসুমে অনেক বাংলাদেশি পর্যটক শুধু পর্বতমালা দেখতে নেপালে আসেন। আমরা চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার। তবে নেপালের চন্দ্রগিরি কিংবা মনোকামনার আদলে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় ক্যাবেলকার স্থাপন করলে পর্যটকরা সেখানেই যেত। অনেক বিদেশি পর্যটকও আসত। পর্যটনের আয় বাড়ত এবং জাতীয় বাজেটে অনেক বড় ভূমিকা রাখত।

ফেমাসনিউজ২৪ডটকম/এফ/এন