logo

শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad
স্মৃতির কুঠিবাড়ি

প্রকৃতির শোভায় মুগ্ধ হতেন কবিগুরু

ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভক্তরা যেন প্রাণ খুঁজে পান বাড়িটিতে এলে। বছরের বেশিরভাগ সময়ই আনন্দ-আড্ডায় ভরে থাকে বাড়িটি। থাকে কবি-সাহিত্যিকসহ দর্শনার্থীদের পদচারণা। এ তো সেই কুঠিবাড়ি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি।

কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুরে। প্রায় ৩৩ বিঘা জমির মধ্যে আড়াই বিঘা জমির উপর তিনতলা কুঠিবাড়িটি অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলের জমিদারি পান। পরে ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে জমিদার হয়ে আসেন। এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারি পরিচালনা করেন। এ সময় এখানে বসেই তিনি রচনা করেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, ইত্যাদি, গীতাঞ্জলী কাব্যের অনুবাদ কাজও শুরু করেন।

কুঠিবাড়ি পরিচিতি
কুঠি বাড়িতে রুম সংখ্যা আঠারো, দরজা সংখ্যা সতেরোটি, জানালার সংখ্যা ত্রিশটি। কুঠিবাড়ির তিন তলার কামরা ছিল কবি গুরুর লেখার ঘর। কবি এই ছাদের উপর বসে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও জোছনাপ্লাবিত প্রকৃতির শোভায় মুগ্ধ হতেন। এই ঘরের জানালা দিয়ে এখন শুধু পদ্মাকে দেখা যায়। আগে পদ্মা ও গড়াই- দুটো নদীকে দেখা যেত। কবি রবীন্দ্রনাথ তখন ঘরে বসেই শুনতে পেতেন নদীর ডাক। নদী যেন কলকল ছলছল করে ডাকছে। কবিও সুযোগ পেলে ছুটে যেতেন পদ্মার বুকে, গড়াইয়ের বুকে। কখনো পদ্মার বুকে সাঁতরে আনন্দ উপভোগ করতেন।

১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষিত আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুঠিবাড়িটির গুরুত্ব বুঝে কবির বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংগ্রহপূর্বক একে একটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরো ভবনটি এখন জাদুঘর হিসেবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। জাদুঘরের নিচ ও দ্বিতীয় তলায় ১৬টি কক্ষেই কবি রবীন্দ্রনাথ, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, কৃষকবন্ধু রবীন্দ্রনাথ-অর্থাৎ নানা বয়সের বিচিত্র ভঙ্গির রবীন্দ্রনাথের ছবি রয়েছে। বাল্যকাল থেকে মৃতশয্যার ছবি পর্যস্ত সংরক্ষিত আছে । তা ছাড়াও রয়েছে শিল্পকর্ম এবং তার ব্যবহার্য আসবাবপত্র দিয়ে পরিপাটি দিয়ে সাজানো।

কবি ভবনে ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে আরো আছে চঞ্চলা ও চপলা নামের দুটো স্পিডবোট, পল্টুন, ৮ বেহারা পালকি, কাঠের চেয়ার, টি-টেবিল, সোফাসেট, আরাম চেয়ার, পালংক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস।

টিকেট প্রাপ্তিস্থান
জাদুঘরের গেটের পাশেই রযেছে টিকেট কাউন্টার, জনপ্রতি টিকেট এর দাম পনের টাকা করে। তবে পাঁচ বছরের কম কোনো বয়সের বাচ্চার জন্য টিকেটের দরকার পড়ে না। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু কিশোরদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা। সার্কভুক্ত বিদেশি দর্শনার্থীর জন্য টিকেট মূল্য পঞ্চাশ টাকা এবং অন্য বিদেশি দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্য একশ টাকা করে।

বন্ধ ও খোলার সময়সূচি
গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যস্ত কুঠিবাড়ি খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যই শুক্রবারে জুমার নামাজের জন্য সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রোববার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২টা থেকে খোলা থাকে। এ ছাড়াও সরকারি কোনো বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে ।

যাতায়াত থাকা ও ভাড়া
দর্শনার্থীদের থাকার জন্য কুঠিবাড়ির পাশেই রয়েছে জেলা প্রশাসকের নির্মিত সুবিশাল রেস্ট হাউস। প্রয়োজনে আপনিও থাকতে পারেন। ঢাকা থেকে মাত্র ২৭৭ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী শিলাইদহে অবস্থিত কুঠিবাড়ি। যাতায়াতের জন্য রয়েছে এসি বাস ও ননএসি চেয়ার কোচ। ভাড়া ১ হাজার টাকা এসি ও ননএসি মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকা। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় রয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই