logo

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

আলেপা ও তার বিড়ালের গল্প

পাবনা প্রতিনিধি | আপডেট: ০১ মে ২০১৮

মানুষে মানুষে ভালোবাসার অনেক অমর উপাখ্যান আছে। প্রাণিকুলের ভালোবাসার গল্পও কম নয়। মানুষ আর প্রাণির মধ্যে মমতা ও ভালোবাসার গল্প আছে। তবে তা খুবই অল্প। অল্পেরই একটি উদাহরণ বিড়াল আর আলেপার গল্প।

পাবনার চাটমোহর পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনে পরপর দুবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আলেপা খাতুন (৪২)। পোশাক পরিধান ও জীবন ধারণে অতি সাধারণ একজন। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া দুই শতক জায়গার ওপর কুঁড়েঘরে ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। ভোর থেকেই শুরু হয় তার কর্মব্যস্ততা। এ কর্মব্যস্ততা একটু অন্যরকম! তার ভালোবাসার সঙ্গী যে ৪১টি বিড়াল।

এ যেন নড়াইলের লাল মিয়া। ইতিহাসবিখ্যাত এস এম সুলতান। যিনি কিনা সার্বক্ষণিক সাপ-বেজি-বিড়াল-কুকুর নিয়ে ঘর-সংসার করতেন।

সাংসারিক অবস্থা খুব একটা ভালো না আলেপার। কোনোমতে চলে সংসার। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে যে সম্মানী পান তার পুরো টাকা (৪ হাজার) খরচ করেন ৪১টি বিড়ালের পেছনে। তবে শুধু সম্মানীর টাকা দিয়েই বিড়ালগুলোর খাওয়া হয় না। এর জন্য একমাত্র ছেলে মহরমের কাছ থেকেও টাকা নিতে হয় তাকে।

আলেপার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! মার ডাকে সন্তানরা যেভাবে ছুটে আসে, ঠিক তেমনি আলেপার ডাকে বিড়ালগুলো ছুটে এল। বিস্ময় আরও অপেক্ষা করছে- তাদের জন্য রাখা খাবার দেখে। একেকজনের জন্য একেকটা থালায় থরে থরে সাজানো মাছ ও ভাত।

আলেপা জানান, প্রতিদিন আড়াই কেজি চালের ভাত আর সঙ্গে ৯০ থেকে ১শ টাকার মাছ লাগে এসব বিড়ালের জন্য। দিনে ৫ থেকে ৬ বার খাবার দিতে হয় তাদের।

তিনি বলেন, আমার ঘরেই ওরা থাকে। খাটে ও মেঝেতে বিছানা করে দিই। মশারি টাঙিয়ে দিই। বিড়ালগুলোর অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়, আবার ওষুধ কেনা লাগে। শীতের মধ্যে বেশি কষ্ট হয়। ওদের জন্য একটা ঘর হলে ভালো হয়। কিন্তু টাকা পাব কোথায়?

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ