logo

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩ মাঘ, ১৪২৫

header-ad

সেই মায়ের কাহিনী, একাই সামলান ২৩ সন্তান!

ফিচার ডেস্ক | আপডেট: ১৩ মে ২০১৮

মা হওয়া সত্যিই বড় কঠিন। তার ওপর যদি কেউ ২৩ সন্তানের জননী হন, ভাবুন তো তার অবস্থা কী হতে পারে। এখন তো একটা সন্তানকেই মানুষ করতে গিয়ে মা-বাবারা হিমসিম খান। আর এ মহিলা একাই সামলান ২৩ সন্তান।

তবে সেই ২৩ সন্তান যদিও তার নিজের নয়, তাতে কী। ৫২ বছরের মঞ্জু বালা পাণ্ডা ২৩ সন্তানকে সামলাচ্ছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। ৩০ বছর বয়সে মঞ্জু বালা এসওএস চিলড্রেন’‌স ভিলেজে একজন পালক মাতা হিসেবে নাম লেখান।

সেই সময় তাকে একসঙ্গে ৮ থেকে ১০ শিশুর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, প্রথম প্রথম খুব চিন্তা হত, কীভাবে একসঙ্গে ১০ শিশুর যত্ন নেব? ‌তাদের স্কুলের জন্য তৈরি করা, প্রত্যেকদিন সকালে ১০ জনের টিফিন করা এবং তাদের দুপুরের খাবার তৈরি করা, কীভাবে সব করব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

কিন্তু এখন মঞ্জু বালা মেনে নিয়েছেন ২২ বছর আগে যে মায়ের দায়িত্ব তার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল এখন সেটাই তার কাছে পুরস্কারের চেয়ে কম নয়। তিনি বলেন, এখন আমার সন্তানরাই আমার জীবন। আমার কাছে আমার সন্তানরা যেমন তাদের আনন্দ ভাগ করে নেয় তেমনি তারা দুঃখ পেলে সেটা আমায় মন খুলে জানায়।

ভারতের ফরিদাবাদের এসওএস ভিলেজে চারটি রঙিন ঘর নিয়ে মঞ্জু বালা তার ২৩ সন্তানকে নিয়ে থাকেন। কলেজে পড়াশোনা করা তার এক ছেলে মাতৃ দিবসের দিন তাকে কার্ড দিয়েছে। এ দিনটা মঞ্জু বালার সঙ্গে কাটাতে পারেননি তার ছেলে। কার্ডে লেখা আছে, ‘‌হ্যাপি মাদার্স ডে মম। আই লাভ ইউ’‌।

একজন পালক মায়ের দায়িত্ব অনেক, বলে জানান মঞ্জু বালা। শিশুরা বিভিন্ন শহর এবং নানান পরিস্থিতির শিকার হয়ে এসওএস ভিলেজে আসে। এক–একজনকে সময় দেয়া, শিশুদের তাদের মতো করে বোঝা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় পালক মায়ের ক্ষেত্রে।

একজনকে সময় বেশি দিলে অন্যজন রাগ করে বসে। কিন্তু মঞ্জু বালার সন্তানরা খুবই বোঝদার। তিনি বলেন, আমার সন্তানরা আমায় বোঝে। তারা আমায় বলতো ঠিক আছে মা, ওকে বেশি সময় দাও।’

২৩ সন্তানের জননী জীবনে একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, সন্তান সুখের চেয়ে আর কোনও বড় খুশি নেই। তার সন্তানরা বড় হচ্ছে, পড়াশোনা করছে এবং একদিন জীবনে সফল হবে তারা এর চেয়ে বেশি একজন মা কি বা আশা করতে পারে।

মঞ্জু বালা বলেন, আমি জানি আমার ২৩ সন্তানই একদিন বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁঁড়াবে। আমায় তারা কখনোই একা থাকতে দেবে না, সেভাবেই আমি তাদের শিক্ষা দিয়ে বড় করে তুলেছি।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম