logo

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad
থাইল্যান্ডে নিখোঁজ ১২ কিশোর ও কোচ

মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, গুহায় আটকা পড়লে যা করবেন?

ফিচার ডেস্ক | আপডেট: ৩০ জুন ২০১৮

থাইল্যান্ডের গুহায় নিখোঁজ ১২ কিশোর ও তাদের কোচের নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের খোঁজে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা।

পেশাগত কাজে যারা পাহাড়ের ভেতরে বা খনিতে নিয়মিত যান, তাদের মতো নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং প্রস্তুতি না থাকায় দীর্ঘ সময় গুহার ভেতরে থাকা নিয়ে ওই কিশোর এবং তাদের কোচের সুস্থ থাকা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে পর্বত বা পাহাড়ের গুহায় আটকা পড়লে উদ্ধারকারী দল আসার আগ পর্যন্ত টিকে থাকার কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কেভ রেসকিউ কমিশনের প্রধান নির্বাহী আনমার মীর্জার মতে, গুহায় আটকে পড়ার পর প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো বড় ধরনের কোনো বিপদে, যেমন পাথর ধস বা বন্যায় সতর্ক হওয়া। অর্থাৎ গুহার মধ্যে পানি বাড়লে কতটা উচ্চতা পর্যন্ত তলিয়ে যেতে পারে, সে ধারণা করে থাকার জন্য নিরাপদ উঁচু জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।

মীর্জা বলছেন, আচমকা যারা আটকে পড়েছেন, তাদের তখন সাথে থাকা জিনিসপত্রের ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। ধরুন, সাথে খাবার থাকলে তার অপচয় যাতে না হয়, খেয়াল রাখতে হবে। গুহায় আটকে পড়া যে কাউকে শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তিনি উষ্ণ থাকতে পারেন। কাপড়চোপড় শুকনো রাখতে হবে। গুহার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপদ হাইপোথার্মিয়া বা শরীরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে যদি কমে যায়, তাহলে যে কারও বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

পানি

শরীর উষ্ণ রাখা যেমন জরুরি তেমনি, শরীরে জলীয় পদার্থের মাত্রা ঠিক রাখা বা পানির সরবারহ ঠিক রাখা অত্যাবশ্যকীয়। পানি পান করতে হবে। কিন্তু আবার নোংরা পানি থেকে সাবধানও থাকতে হবে। কারণ দূষিত পানির জন্য পেট খারাপ ও বমি শুরু হতে পারে। এর ফলে শরীর আরো পানিশূণ্য হয়ে পড়বে।

তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতপার্থক্য আছে এ নিয়ে। তাদের মতে, বেশিরভাগ গুহার ভেতরের পানি পানযোগ্য। তারপরও নোংরা বা বিশুদ্ধ নয়- এমন পানি হয়ত সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি করে না। যে কারণে শরীরে পানির যোগান ঠিক রাখতে নোংরা হলেও খাওয়া উচিত।

বাতাস

অক্সিজেন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ নিয়ে মানুষ যত ভয় পায়, তার সবটাই যথার্থ নয় বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বেশির ভাগ গুহার ভেতরে প্রাকৃতিক উপায়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি যেসব জায়গায় মানুষ নড়াচড়া করতে বা ঢুকতেও পারবে না, সেসব জায়গাতেও ঠিকই বাতাসের আসা-যাওয়া আছে। তবে ছোট্ট কোনো জায়গাতে বেশি মানুষ আটকা পড়লে সেখানে কার্বন-ডাই অক্সাইড বেড়ে যেতে পারে।

মানসিক যন্ত্রণা

আপনার হয়তো উষ্ণতার ব্যবস্থা আছে, পানি ও বাতাসের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু অন্ধকারে দীর্ঘক্ষণ মাথা ঠাণ্ডা রাখা যে কারও পক্ষেই কঠিন।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উদ্ধারকারী দল কিংবা কোনো সাহায্য পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত কষ্ট করে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। অস্থির বা অধৈর্য হলে বিপদ বাড়ে।

সাধারণ পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা গুহার ভেতরে যে কেউ ঢুকতে গেলেই কয়েকটি অবশ্যম্ভাবী বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন। যেমন এক নম্বর পরামর্শ হলো প্রস্তুতি ছাড়া কখনো গুহায় ঢোকা উচিত নয়।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি