logo

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

`মিনি কক্সবাজারে’ দর্শনার্থীর ঢল

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর : | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৮

লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এখানকার বিশাল জলরাশি। মেঘনার জোয়ার-ভাটার খেলা চলে নিত্য।

মেঘনার উঁচু ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নৌকায় ঘুরে ইলিশ শিকার করেন সংগ্রামী জেলেরা। তাদের ইলিশ ধরার কৌশল যেন মন মাতানো। এ যেন দ্বিতীয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুইপাড় কিংবা নৌকা ভ্রমণে মেঘনা নদীর মোহনা পরিদর্শন আর নতুন জেগে উঠা চর উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। প্রকৃতির এ অপরুপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো দর্শনাথী। উপভোগ করছেন অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। জোয়ার-ভাটা ও জেলেদের রুপালি ইলিশ ধরাসহ মনোরম পরিবেশ উপভোগ করছেন শিশু বৃদ্ধ সবাই। সব বয়সী মানুষের আনাগোনায় মুখরিত এ বেড়িবাঁধ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানায়, রামগতির আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধের সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে সব সময়। এছাড়া সদর উপজেলার মজুচৌধূরীরহাট ঘাটের চিত্রও একই।

প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলবেধে হাজার হাজার দর্শনাথী পরিবার পরিজন নিয়ে নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন এসব স্থানে।

ঈদ বা বিশেষ কোনো দিনে এ বেড়িবাঁধ ও মজুচৌধুরীরহাট ঘাটে পরিণত হয় এক মিলন মেলায়। প্রতিদিন বিকালে এসবস্থানে জড়ো হন মানুষ। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বনভোজন ছাড়াও সাধারণ মানুষের আনাগোনা থাকে সারা বছর।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পেশায় সাংবাদিক এম ওবায়দুর রহমান বলেন, সমুদ্র সবসময় আমাকে কাছে টানে। ছুটিতে লক্ষ্মীপুরে বেড়াতে এসেছি বন্ধুর বাড়িতে। পরে ঘুরতে এলাম চরআলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। এখানকার সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, আর জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য সত্যিই মন মাতানো।

একই কথা জানালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রওশন আকতার লিসা। তিনি বলেন, এর আগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখেছি। চর আলেকজান্ডারও আমার কাছে মনে হয়েছে কক্সবাজারের মতোই। পর্যটকদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেয়া গেলে এখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বাড়বে।

স্থানীয় উন্নয়নকর্মীরা বলছেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে যদি এসব জায়গায় পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হলে দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ পর্যটন সুবিধা ভোগ করবে। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। কর্মসংস্থান হবে অনেক বেকারের।

পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে পুলিশের নজর রয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই কোটির একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন স্থানীয় এ সংসদ সদস্য।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/কেআর/এস