logo

শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৪

header-ad

গুহায় সেবাদাত্রীদের সঙ্গে কী করত ধর্ষক গুরু, জানালেন রাধিকা

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

একের পর এক রহস্যের ভাঁজ খুলছে ধর্ষক গুরু। দুই নারী ধর্ষণে দোষী হয়ে সে এখন জেলে। ২০ বছর এভাবে থাকতে হবে। বর্তমানের দায়ে, আগামী আরো কিছু বলবে। দণ্ড বাড়বে। তা কোথায় নিয়ে যায় দেখার বিষয়।

ভাঁজ খুলছে গুরমিতের ডেরা সচ্চা সৌদাও। একের পর এক রাম রহিমের কীর্তি মিলছে ওখানে। যার মধ্যে অনেক কিছুই রয়েছে।

এর আগে গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ডেরায় কনডম, ব্রা, গর্ভনিরোধক পিল ও ব্লু ফিল্মের সিডি পেয়েছিল পুলিশ।

সম্প্রতি জানা গেল রহিমের ডেরায় একাধিক গুহা আছে। এর একটি আবার মিলেছে মহিলা হোস্টেলে। এবার জানা গেল অন্য গুহায় কী করত ধর্ষক গুরু। তার সেবাদাত্রীদের একজন রাধিকা জানান এসব তথ্য। রাধিকাও তার মূল নাম নয়। মূল নাম ও কাজ বদলে যেত রাম রহিমের ডেরায়। 

প্রায় ৭ বছর ধর্ষক রাম রহিমের ডেরাতে কাজ করেছেন এই রাধিকা। কিন্তু, সেখান থেকেই পরে তাকে পালিয়ে আসতে হয়। কেন জানেন?

কী হতো রাতে?

ধর্ষক রাম রহিম সারা রাত নাচ-গান করতেন। রাতে ৪-৫ বার পোশাক বদলে ফেলতেন রাম রহিম। নিজে গান করতেন, স্কুলের বাচ্চারাও নাচত। এজন্য টিকিট লাগত। এই টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল সাত হাজার টাকা। গুরমিতের যত কাছে ভক্তরা যেতে চাইবে, ততই বেশি দিতে হতো টিকিটের মূল্য। আর তা ১ থেকে ৮ লাখ পর্যন্ত পৌঁছে যেত। তবে রাম রহিমের মতে, এই টাকা দুঃস্থদের চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বাস্তবে রাধিকার চোখে তা পড়েনি।

কীভাবে ডেরায় পৌঁছেছিল সে?

রাধিকাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসে তার নাম বদলে ফেলা হয়েছিল। নতুনদের একটি হল ঘরে নিয়ে গিয়ে সেখানেই নামকরণ হতো। এই ডেরাতেই একটি ছেলেকে তার ওপর নজর রাখার জন্য রাখা হয়। শুধু তাই নয়, ডেরার পুরুষদের সঙ্গে থাকতেও বাধ্য করা হয়েছিল।

কী হয় নারীদের সঙ্গে?

ডেরার ভক্ত বা বাইরের ভক্তরা তাদের কুমারী মেয়েদেরকে গুরমিতের কাছে দান করে যেত। ৩-৪ বছর ধরে এদের ট্রেনিং দেওয়া হতো, সেই ট্রেনিংয়ের নামে চলত সেবাদানের পর্ব। এদের তখন ব্রহ্মচারী বলা হতো। ৩-৪ বছর পরে তাদের সাক্ষাৎকার হতো। এরপর তাদের গুরমিত প্রসাদ দিত। তারপর থেকে তাদের বলা হয় সেবাদার। তবে এই প্রসাদ কিন্তু যে সে প্রসাদ নয়। রাম রহিমের বিশেষ প্রসাদ, যার নামের আড়ালেই চলত অপকর্ম।

২০০৭ সালে যখন সিবিআই কেস হয় গুরমিতের বিরুদ্ধে, তার ভয় ছিল, কুমারী এই সাধ্বীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে বেফাঁস যাতে কিছু না বলে দেয়, তার জন্য তখন সাধ্বীদের বাসস্থান বদলে দেওয়া হয়। এদের সঙ্গে যাতে বাইরের কেউ দেখা না করতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা কখনও কখনও দেখা করতে আসত।

কুকীর্তির বিষয়ে অনেকেই জানত!

কলকাতা২৪ পত্রিকার খবরে বলা হয়, গুরমিতের এই গুহাতে যে অপকর্ম চলে সে বিষয়ে অনেকেই জানত। কিন্তু মুখ খোলার সাহস ছিল না কারোর। রাতের বেলাতে সৎসঙ্গ এর অজুহাতে খারাপ কাজই হত এখানে।

পালিত হানিপ্রীত

হানিপ্রীত রাধিকাকে আন্টি বলে সম্বোধন করত। গুরমিতের গুহাতে হানিপ্রীতের যাওয়া আসা ছিল। গুরমিত কোথাও গেলে তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকত হানিপ্রীত। প্রথম প্রথম সে ঠিক থাকলেও পরে অন্যদিকে বিষয় এগোয়। রাধিকার মতে হানিপ্রীতের শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা খুবই সহজ-সরল। রাম রহিমই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য হানিপ্রীতকে উসকে দেয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরঅ্যা/আরইউ