logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

চাঞ্চল্যকর তথ্য, অল্প বয়সী মেয়েদের যেভাবে ঢুকানো হত ভণ্ডবাবার গোপন গুহায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহকে জেলে ঢোকানোর পর তার অপকর্ম সম্পর্কে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রতিদিনই সামনে আসছে। পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে লাভ চার্জারের গোপন ডেরাতেও।

জানা গেছে, তার গোপন সেনাবাহিনী সম্পর্কে। এমনকি তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল কোরবানি ডাল নামের একটি গোষ্ঠী, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের জীবনের বিনিময়েও ধর্ষক বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কিন্তু সম্প্রতি রাম রহিম সম্পর্কে প্রকাশ্যে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধর্ষক বাবা একদল মহিলা দালালও নিয়োগ করেছিলেন। সেই সমস্ত মহিলাদের দায়িত্ব ছিল অল্প বয়সী, নিষ্পাপ মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া। কীসের প্রশিক্ষণ জানেন? তাদের মূল কাজই ছিল ধর্ষক বাবার যৌন চাহিদা পূরণ করা।

দুর্ভাগ্যজনক এই মহিলা দালালরা ভুলে যেতেন তাদের একসময় যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই যেতে হবে ওই কচি কচি মেয়েগুলোকে।

ওই মহিলা দালালরা রোবটের মতো রাম রহিমের নির্দেশে কাজ করতেন। এটা কোনও এক রাতের ঘটনা নয়, প্রতি রাতে নতুন নতুন মেয়ে লাগত লাভ চার্জারের নিজের যৌন খিদে মেটানোর জন্য। রেহাই পেত না নাবালিকারাও।

তবে শুধু যৌন হেনস্থা নয়, অনেক ফলোওয়ারের সঙ্গে সহমত হয়েই শারীরিক মিলন করতেন রাম রহিম। তারা ধর্ষক বাবার এতটাই বশ হয়ে যেতেন যে, তিনি যা বলতেন অন্ধের মতো সেটা পালন করতেন ওই মহিলারা।

পরে এই মহিলারাই নতুন নতুন মেয়ে ধর্ষক বাবার জন্য ধরে আনতেন। তবে ডেরায় শুধু রাম রহিম নন, বহু রাজনৈতিক নেতাও যেতেন বিনোদনের জন্য, পেতেন মদ, মহিলা এবং টাকা।

রাম রহিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই মহিলা দালালরা মূলত রোবটের মতো কাজ করতেন। তাদের কোনও মানবিকতা ছিল না, কোনও অনুভূতি থাকত না। তারা ছোট ছোট শিশুর চিৎকারেও থেমে যেতেন না। নির্বিকারে তাদের ঢুকিয়ে দিতেন বাবার গুহায়।

ধর্ষক বাবার শাস্তির পেছনে থাকা এক মহিলার অভিযোগ, এই মহিলা দালালদের বিষকন্যা বলা হত । তার দাবি, তিনি গুহার বাইরে নিরাপত্তা দিতেন। তখনই দেখেছিলেন বহু মেয়ে সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু কেউই বলত না, তাদের সঙ্গে কী হয়েছে। মূলত সেখানে মেয়েদের ঢোকানো হত। তারপর বিভিন্ন জিনিষ দিয়ে তাদের প্রলোভন দেখানো হত। তারপর বলা হত, বাবা তাদের নির্বাচিত করেছেন, নিজের সবচেয়ে প্রিয় শিষ্যা হিসেবে।

এবার তাদের পবিত্র করার জন্য নিজের কাছে ডাকবেন। তবে শুধু যৌন খিদে মেটানোই নয়, বাবার জন্য রান্না থেকে কাপড় কাচা, সবই করতে হত ওই সব মেয়েকে।

এছাড়া ওই মহিলা দালালরা গুহার সমস্ত মেয়েদের ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখতেন। কেউ যদি বাবার বিরুদ্ধে মুখ খুলত তাহলে দিনের পর দিন খাবার জুটত না।

এছাড়া আরও নানা ধরনের অত্যাচার তো চলতোই। রেহাই মিলত না ছেলেদেরও। তবে ছেলেদের অপরাধ গুহায় তারা কোনও মেয়ের দিকে তাকালেই পেতে হত কড়া শাস্তি।

এদিকে দলিত মহিলাদের সেখানে পরিণত করা হয় কাজের লোকে। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাবাকে যে মহিলা দালালরা সাহায্য করতেন, তারা কিন্তু এখন প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনা বাধায়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম