logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

সবচেয়ে কম বয়সী মায়ের সংখ্যা এখন ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৭

ভারতেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত দম্পতি এবং অপরিণত বয়সে সন্তানের জন্ম দেয়া মায়েদের সংখ্যা। জাতীয় পরিবার সুরক্ষা পরিষেবা ‌‌‌ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভিস (এনএফএইচএস) এর ২০১৫–১৬ সালের সমীক্ষায় এমনটাই ধরা পড়েছে।

সমীক্ষা রিপোর্টের বরাত দিয়ে আজকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ভারতে ২০–২৪ বছরের মেয়েদের মধ্যে ২৬.‌৮ শতাংশরই ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায়। একইভাবে ২৫–২৯ বছরের পুরুষদের মধ্যেও ৪২.‌৬ শতাংশরই ২১ বছরের আগে বিয়ে হয়। বিহারের গ্রামে এ সংখ্যাটা চমকে দেয়ার মতো, সেখানে ২০–২৪ বছরের বয়ঃসীমার প্রতি ৫ জন মেয়ের মধ্যে দু’‌জনেরই বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠন অ্যাডোলেসেন্ট রিপ্রোডাক্টটিভ অ্যান্ড সেকশুয়াল হেল্থ বা এআরএসএইচ–এর সমীক্ষাও বলছে, বিহারে ১৫–১৯ বছরের মেয়েদের মধ্যে ১২.‌৮ শতাংশই হয় সন্তানের মা হয়ে গেছে অথবা অন্তঃসত্ত্বা। বিবাহিত অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে কিছু তথ্য থাকলেও যেসব অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে হয়নি এখনও অথচ মাতৃত্ব এসে গেছে, তাদের বিষয়ে কোনও তথ্যই থাকে না সরকারি খাতায়।  

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের বিয়ে বা মাতৃত্ব সরকারের খাতায় লেখা হয় না অথবা ভুল তথ্য দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে হয় অভিভাবক বা সন্তানরা নিজেদের ঠিক বয়স জানেন না অথবা অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে নিয়ে সরকারি নিয়মের ভয়ে তারা ভুল বলছেন।

সমীক্ষায় আরেকটি তথ্য বলছে, বিয়ের প্রায় পরপরই গর্ভসঞ্চার হচ্ছে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক বধূদের। তার একটি কারণ যদি হয়, গ্রামীণ ভারতের ধুঁকতে থাকা সমাজব্যবস্থা, যেখানে সন্তান না হলে স্ত্রীকেই দোষী করা হয়। অপর কারণ, অবশ্যই পরপর পুত্র-সন্তানের ইচ্ছা।

যদিও আশাকর্মীদের অহর্নিশ চেষ্টায় মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের হার গ্রামীণ ভারতে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেড়েছে, কিন্তু মজার ব্যাপার হল- বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেশ কয়েকটি সন্তান, সাধারণত পুত্র-সন্তানের, জন্মের পরই বন্ধ্যাত্বকরণ হচ্ছে এসব মায়ের। ফলে ওইসব মায়ের স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, তারা এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে। জন্মের পরই মারা যাচ্ছে সদ্যোজাত।

অবশ্য পুত্র-সন্তানের ইচ্ছায় স্ত্রীর উপর মানসিক অত্যাচারের কথা বর্ণিত আছে রামায়ণেই। আদিকাণ্ডে লেখা আছে, অযোধ্যার মহারানি কৌশল্যার মেয়ে শান্তা সর্বগুণ সম্পন্না হলেও বংশ রক্ষায় শুধু পুত্র-সন্তানই চেয়েছিলেন রাজা দশরথ। মানসিক চাপ দিয়ে শান্তাকে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন তার বাবা।

পরে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির দ্বারাই পুত্রেষ্টি যজ্ঞ করে চার পুত্র-সন্তানের বাবা হন তিনি। যেখানে ছেলের জন্য স্ত্রীর ওপর এ ধরনের অত্যাচারের কথা রামায়ণেই বর্ণিত, সেখানে প্রধানমন্ত্রী যতই গ্রামীণ ভারতকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন দেখান, আসলে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।   ‌
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম