logo

শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

মেয়েকে কোলে নিয়ে প্রতিবাদ কণ্ঠে খবর পড়লেন কিরণ নাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৮

সাত বছরের জয়নাব আনসারিকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে গোটা পাকিস্তান। ‘জাস্টিস ফর জয়নাব’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছে নিমিষে। এরই মধ্যে একটু অন্যভাবে প্রতিবাদ জানালেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টেলিভিশন সঞ্চালক। নিজের ছোট্ট মেয়েকে কোলে বসিয়ে খবর পড়লেন সামা টিভির কিরণ নাজ।

কিরণ বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে সঞ্চালক নই, একজন মা হিসেবে এসেছি। আর তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি মেয়েকে। পাকিস্তান আজ প্রচণ্ড ভারী এক কফিন বইছে। এটা শুধু একটা শিশুর খুন নয়, গোটা সমাজের খুন।

সপ্তাহখানেক আগে সাত বছরের ছোট্ট জয়নাবকে পাকিস্তানের কাসুর থেকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা। জয়নাবকে এক আত্মীয়ের কাছে রেখে, তার বাড়ির লোকেরা সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৪ জানুয়ারি জয়নাব যখন কোরআন ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরছিল তখন পথে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার কাসুর শহরেরই একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয় জয়নাবের দেহ। তারপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা পাকিস্তান। সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধীদের ধরা যাচ্ছে না তা নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রতিবাদীদের ঠেকাতে গুলি পর্যন্ত চালাতে হয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে দুই বিক্ষোভকারীর। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাবা-মা ‘উমরাহ’ করতে সৌদি আরবে থাকায় আত্মীয়দের কাছে থাকছিল মেয়েটি।
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ফেটে পড়ে প্রতিবাদ। তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খান, প্রাক্তন সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ থেকে শুরু করে শোয়েব মালিক, মহম্মদ হাফিজের মতো ক্রিকেটার, সবাই একযোগে সরব হয়েছেন।

মূল অভিযুক্তকে না ধরায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে পাথর ছুড়তে শুরু করে তারা।
পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সব মিলিয়ে বেশ চাপের মুখে। পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, নওয়াজ ভাইকে বলেছেন, অবিলম্বে যেন দোষীরা ধরা পড়ে।

ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মনসুর আলি শাহ। শাহবাজ নিজেও বলছেন, অপরাধীরা ধরা না পড়া অবধি তিনি বিষয়টি নজরে রাখবেন। বিরোধী দল পিপিপি'র চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো বলেন, এ ঘটনা শরিফ-ভাইদের মুখে বড়সড় থাপ্পড়। সূত্র : আনন্দবাজার
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম