logo

শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

পৃথিবীর আলো দেখার আগেই কোটি কোটি কন্যাশিশু হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮

সংখ্যার হিসাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। প্রতি ১০০ নারী শিশুর বিপরীতে পুরুষ সন্তান হচ্ছে ১০৭টি। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে এ গড় হচ্ছে ১০৫-১০০। আর এ পরিসংখ্যান ভারতের।

দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক গর্ভপাত ব্যাপকহারে বেড়েছে। সেখানে বাবা-মা পুত্রসন্তানকে মহামূল্যবান বিবেচনা করেন। আর কন্যাসন্তান জন্ম নেয়া একেবারে অপ্রত্যাশিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

-খবর ইউএসএ লাইফসাইটের।

ভারতের ২০১৭-১৮ সালের অর্থনৈতিক জরিপ বলছে, জাতীয়ভাবে শিশুরা অপ্রত্যাশিত। ছেলেরা ঐতিহ্যগতভাবে বাবা-মায়ের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে। কিন্তু মেয়েদের পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হয়। বাড়তি আরও তাদের বিয়ের সময় যৌতুক দিতে হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এক খবরে জানায়, ছেলে না হওয়া পর্যন্ত একটি দম্পতি সন্তান ধারণ অব্যাহত রাখে। এতে দেশটিতে দুই কোটি ১০ লাখ নারী শিশু জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তাদের মেরে ফেলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছেলেসন্তানকে অগ্রাধিকার দেয়া ও লিঙ্গনির্ভর অস্ত্রোপচার ভারতে সম্পূর্ণ অবৈধ। তবুও দেশটিতে কন্যাশিশু টার্গেট করে গর্ভপাতের পরিমাণ বাড়ছে। এতে ছয় কোটি ৩০ লাখেরও বেশি শিশুকন্যাকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মেরে ফেলা হচ্ছে। গর্ভপাতের এই প্রবণতা এখন ভারতজুড়ে রূপ নিয়েছে।

হিউম্যান লাইফ ইন্টারন্যাশনালের (এইচএলআই) কর্মকর্তা মিলাগ্রেস পেরেইরা বলেন, ‘আমি যেখানে থাকি, সেখান থেকে মাইল দুয়েক দূরে এক সুশিক্ষিত ও কর্মজীবী দম্পতি তাদের তিনটি কন্যাশিশুকে জন্মের আগেই গর্ভপাত করে নষ্ট করে দিয়েছে। জন্মের আগেই দেশটির সরকারি হাসপাতালে শিশুর লিঙ্গ জেনে স্ক্যানিং করা হয়। পরে তাদের হত্যা করা হয়।’

অ্যাবর্শন ফ্রি নিউ ম্যাক্সিকোর তারা শাভার বলেন, ভারতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য মহামারী রূপ নিয়েছে। আধুনিক পৃথিবীর প্রজনন বিদ্যায় এমন প্রবণতা আর কখনো দেখা যায়নি। চীন ও ভারতে লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে মানুষের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

হার্টবিট ইন্টারন্যাশনালের প্রধান জর-এল গোডসে বলেন, গর্ভপাত হচ্ছে- মানবজাতির ওপর খুব বীভৎস উপায়ে নির্যাতন হচ্ছে গর্ভপাত। একটি শিশু কেবল মেয়ে হওয়ায় তাকে হত্যা করা উচিত নয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি