logo

মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

নেপালের সব এয়ারলাইন নিষিদ্ধ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮ বছরে ৯টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশটির বিমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক আগে থেকেই নেপালের সব এয়ারলাইন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে নিষিদ্ধ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা নেপালের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) ও নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস করে না।

‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এয়ার সেফটি লিস্ট’বা নিরাপদ আকাশ ভ্রমণ তালিকাটি আসলে একটি বিপজ্জনক সংস্থার তালিকা। এ এয়ারলাইনগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলতে সক্ষম নয়। নেপালের ১৭টি এয়ারলাইনের সবগুলো এই তালিকায়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইকবাল হোসেইন একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সেখানে রানওয়ে একপ্রান্তের ঠিক পিছনেই একটা পাহাড় রয়েছে। অবতরণের সময় প্রতিটি উড়োজাহাজকে ওই পাহাড় কাটিয়ে আসতে হয়। পাহাড়টা পেরোনোর পরই পাইলটকে খুব দ্রুত মাটির কাছে নেমে আসতে হয়।

রানওয়ের বাম পাশে কিছুটা সমতল জায়গা রয়েছে, কিন্তু এর ডান দিকে রয়েছে গভীর একটা খাদ। প্লেন যদি রানওয়ে থেকে পিছলে যায়, তাহলে খাদে গিয়ে পড়বে। ওটা পৃথিবীর ১০টি সবচেয়ে বিপজ্জনক এয়ারপোর্টের একটা।

২০১০ সালের আগস্ট মাসে নেপালের অগ্নি এয়ারের উড়োজাহাজ খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনায় ১৪ জন প্রাণ হারায়। ২০১২ সালে একই রকম দুর্ঘটনায় ওই এয়ারলাইনেরই আরেকটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১৫ জন।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে নেপালেরই তারা এয়ার টুইন অটারের দুর্ঘটনায় মারা যায় আরও ২২ জন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বুদ্ধ এয়ারের একটি উড়োজাহাজ কাঠামান্ডুর কাছাকাছি বিধ্বস্ত হলে নিহত হয় ১৯ জন। পরের বছর নেপালেরই সিতা এয়ারের একটি প্লেন উড্ডয়নের একটু পরেই মুখ থুবড়ে পড়লে নিহত হন ১৯ যাত্রী। ২০১৪ সালেও নেপালে বিমান দুর্ঘটনা হয়। নেপাল এয়ারওয়েজের একটি টুইন অটার উড়োজাহাজ জুমলা থেকে পোখরা যাওয়ার সময় সেটির ১৮ জন যাত্রীর সবাই মারা যায়। ২০১৬ সালে সেখানকার তারা এয়ারের একই রকম আরেকটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে নিহত হয় ২৩ জন। এর দু’দিন পর এয়ার কাষ্ঠমণ্ডপের একটি প্লেন বিধ্বস্ত হলে মারা যায় ১১ জন যাত্রী।

সর্বশেষ গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ত্রিভুবনে নামার সময় ইউএস-বাংলার বিমান বিএস ২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে আগুন ধরে যায়। এতে নিহত হন ৪৯ আরোহী।
ফেমাসনিউজ২৪/এসআর/পিআর