logo

শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ৮ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

নিজের আত্মহত্যার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করলো ছাত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৮

 

দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দ্রাবাদ সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দা এক ছাত্র তার আত্মহত্যার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপে ভিডিও কল করার সময়েই আজমীর সাগার নামের ২০-বছর বয়সী ওই তরুণ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে। তার আত্মীয়রা কয়েক ঘণ্টা পরে ঘর থেকে তার দেহ উদ্ধার করে। হায়দ্রাবাদ সংলগ্ন সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনারেট এলাকার নেরেদমেট অঞ্চলে এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে।

আত্মহত্যার ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ছবিতে প্রথমে সাগারের মুখ দেখা যাচ্ছে। তারপরে সেই উইন্ডোটি ছোট হয়ে গিয়ে এক তরুণীর ছবি দেখা যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পরে তারপাশে বসা আরেক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ছোট উইন্ডোতে দেখা যাচ্ছে ঘরের কোনায় ছাদ থেকে ঝোলা একটি দড়ি নিজের গলায় পড়ে নিচ্ছে ঐ তরুণ। ততক্ষণ পর্যন্ত ওই দুই তরুণী মজাই করছিল - তাদের হাসাহাসির শব্দও শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট। তারা সম্ভবত ভাবছিল যে সাগার মজা করছেন।

নেরেদমেট থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ এম জগদীশ চন্দর বলছিলেন, সাগার নামের ওই ছেলেটির সঙ্গে ১৯ বছর বয়সীর একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাদের দুজনের বাড়িতেই সম্পর্ক মেনে নেয় নি। বুধবার সকালে সাগার তার বান্ধবীকে হোয়াটস্অ্যাপে ভিডিও কল করে। তার মধ্যেই সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ আরও বলছে, আজমীর সাগার তার দিদি-জামাইবাবুর বাড়িতে থেকে একটি কারিগরীবিদ্যার কোর্স করছিল।

ঘটনার সময়ে তার বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। তাকে ফোন করে কোনও সাড়া না পেয়ে দিদি বাড়িতে ছুটে আসেন। ততক্ষণে সাগরের মৃত্যু হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এক ছাত্রী তার ছেলেবন্ধুর সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করতে করতে হঠাৎ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। সেই বন্ধুটিই ছাত্রীটির হস্টেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে মেয়েটির মৃত্যু হয়।

গত মাসেই দিল্লির এক যুবকও একই ভাবে আত্মহত্যার লাইভ সম্প্রচার করছিল ফেসবুকে। কিন্তু সেই ফেসবুক লাইভ ভিডিও দেখতে পেয়ে এক বন্ধু ওই যুবকের এক আত্মীয়কে খবর দেয়। এক প্রতিবেশীর সাহায্যে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয় ঐ যুবককে। উদ্ধার করার সামান্য কিছুক্ষণ আগেই সে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েছিল। জীবিত অবস্থাতেই উদ্ধার করার কারণে বেঁচে গেছে ওই যুবক।

কলকাতার মনোবিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল সাহার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ নিজের মৃত্যুর ছবি অন্যদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতে চায়? এরকম ঘটনা বেশ কয়েকটা হল।
ফেমাসনিউজ২৪/এসআর/পিআর