logo

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

ফের নগদ অর্থের সংকটে ভারত

অান্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮

ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক কৃষককে গত সপ্তাহে মেয়ের বিয়ের অর্থ জোগাড় করতে স্ত্রীর গয়না বন্ধক দিতে হয়েছে সুদখোর মহাজনের কাছে। দুইবার ব্যাংকে গিয়েও টাকা তুলতে না পারায় চড়া সুদের বন্ধকি ঋণ নিতে হয়েছে তাকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারল্য সঙ্কটের কারণে মধ্যপ্রদেশ ছাড়াও অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক ও বিহারের অটোমেটেড টেলার মেশিনগুলোর (এটিএম) সামনে কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন।

টাকা তুলতে গিয়ে এমন ভোগান্তির এই চিত্র ১৭ মাস আগে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের নোটকাণ্ডের ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়। অবৈধ অর্থের লেনদেন রুখতে মোদী সে সময় আচমকা এক হাজার ও ৫০০ রুপির পুরনো নোট নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তা বাজার থেকে তুলে নেন।

সে সময় ভারতের বাজারে থাকা মোট অর্থের ৮৬ শতাংশই ছিল ওই ধরনের নোট। সেবারও রাজ্যে রাজ্যে নগদ টাকার জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছিল।

বিবিসির সৌতিক বিশ্বাস তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, সে সময় ভারতীয়রা নিষিদ্ধ হওয়া প্রায় সব নোটই ব্যাংকে জমা দিয়েছিল, যার পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। মোদী সরকার যে যুক্তিতে সে সময় নোট নিয়ে ওই জুয়া খেলেছিল, সেটাকে এখন অনেকেই ‘বিরাট বড় ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এখন আবার পাঁচ রাজ্যের ৩০ কোটি মানুষকে কেন নতুন করে নগদ অর্থের সংকটে পড়তে হল?
ভারতের অর্থমন্ত্রণালয় বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে নগদ অর্থের চাহিদা ‘অস্বাভাবি ‘ মাত্রায় বেড়ে গেছে।

কোনো কোনো কর্মকর্তার ধারণা, সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মজুদ করছে। কিন্তু কেন এমন হতে পারে তাও স্পষ্ট নয়।

আমানতকারীর অর্থ দিয়ে ঋণ জর্জরিত ব্যাংকগুলোকে টেনে তুলতে সরকার আইন পাসের পরিকল্পনা করছে- এমন গুঞ্জনে সাধারণ মানুষ টাকা তুলে নিচ্ছে বলে অনেকে অনুমান। কিন্তু ব্যাংকের সঞ্চয়ী আমানতের পরিমাণ না কমায় এ যুক্তিও হালে পানি পাচ্ছে না।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বোরো ফসল কাটার মওসুমে কৃষকের খরচ এবং কর্নাটকের আসন্ন নির্বাচনের কারণেও নগদ অর্থের চাহিদা বাড়তে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদ অজিত রানাদের মতে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে এক হাজার ও ৫০০ রুপির নোট বাতিল করে মোদী সরকার নতুন যে দুই হাজার রুপির নোট বাজারে ছেড়েছে, এখনকার তারল্য সঙ্কটের মূল কারণ হয়ত সেটাই।

তিনি বলছেন, ভারতের বাজারে মোট যে অংকের আর্থিক লেনদেন প্রতিদিন হয়, তার ৬০ শতাংশ হাতবদল হয় ওই নোট দিয়েই। কিন্তু সর্বোচ্চ মুদ্রামানের ওই নোটের সরবরাহ কম থাকায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য অনেকেই দুই হাজার রুপির নোট মজুদ রাখছেন বলে ধারণা তার।

বিতর্কিত ওই নোটকাণ্ডের পর ভারতের বাজারে তারল্যের পরিমাণ আর প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।

কর্মকর্তাদের অনেকে দায় দিচ্ছেন এটিএমের ত্রুটি এবং সময়মত ক্যাশ মেশিনে প্রয়োজনীয় নোট না রাখাকে। আর এটিএম সেবাদানকারীরা বলছেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই তারা মেশিনে রাখার জন্য পর্যাপ্ত নোট পাচ্ছেন না।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাজারে নগদ অর্থের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবার চারটি প্রেসে রুপি ছাপানোর কাজ চলার কথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে নতুন করে টাকা ছাপতে হচ্ছে কেন? সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।

বিবিসি লিখেছে, সব কিছু মিলিয়ে এটা বেশ স্পষ্ট যে ভারতীয়রা ডিজিটাল লেনদেনের বদলে ফের নগদ লেনদেন বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগদ অর্থের সরবরাহ হচ্ছে না বাজারে। ফলে মোদীর সেই নোটকাণ্ডের ভূত আরও কিছুদিন ভারতকে ভোগাবে বলেই মনে হচ্ছে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ