logo

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

নাবালিকা ধর্ষণে দোষী ধর্মগুরু, কড়া নিরাপত্তা ৪ রাজ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৮

ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। ওই ঘটনায় গুরুসহ আরও পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণা হলেও সাজা পরে জানানো হবে। আপাতত তাদের জেলেই থাকতে হচ্ছে। সাজায় ধর্মগুরু আসারাম বাপুর ন্যূনতম ১০ বছরের সাজা হতে পারে। আবার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনের শাস্তিও পেতে পারেন আসারাম।

পাঁচ বছর আগে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আজ বুধবার ধর্মগুরু আসারামসহ পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন যোধপুরের বিশেষ আদালত। ধর্মগুরু আসারাম বাপুর রায় ঘিরে রাজস্থান, গুজরাট ও হরিয়ানায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠিক নিরাপত্তা।

জানা যায়, নাবালিকা ধর্ষণ থেকে পাচার-বহু অভিযোগ ছিল এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। পুলিশের পেশ করা চার্জসিটে ধর্ষণের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। যদিও সাক্ষীদের হত্যা করে মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বার বার। ৯ জন সাক্ষীর ওপর বিভিন্ন সময় আক্রমণ নেমে এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। আসারামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অম্রুত প্রজাপত, রাঁধুনি অখিল গুপ্তা ও অপর এক সাক্ষী ক্রিপাল সিংকে গুলি করে খুন করা হয়। যদিও শেষমেশ রেহাই হলো না ধর্মগুরু ও তার সঙ্গীদের।

জানা যায়, প্রায় ৪০০-রও বেশি আশ্রম রয়েছে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর। ভক্তসংখ্যাও বহু। ২০১৩ সালে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। চার্জশিটে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় তাকে। এ ছাড়া পাচার চক্র ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে। তবে আজ মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ৭৭ বছর বয়সী এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর।

আদালতের রায়ের পর খুশি নির্যাতিতার বাবা। তিনি জানান, এতদিন পর এসে তারা সুবিচার পেলেন। এতদিনের লড়াইয়ে যারা পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি তার দাবি, দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক।

তবে আসামারেম মুখপাত্র নীলম দুবে জানিয়েছেন, দেশের বিচারব্যবস্থাকে তারা সম্মান জানান। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে আরেক ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার শাস্তি ঘোষণা করা হয়। এর পরই বিক্ষোভ-সংঘাতে ৩৬ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। আসারাম বাপুরও ভক্তের সংখ্যা অনেক। সেকারণেই অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে তার ৬ ভক্তকে আটক করা হয়েছে।

২০১৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলেই রয়েছেন আসারাম। ১২ বার জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই তার আবেদন খারিজ করা হয়। অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার নাম করে মানাই গ্রামের আশ্রমে নিয়ে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিল বলে আসারামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি